হিন্দু সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল বিজেপি।এদিকে কাগজে কলমে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও আদতে সামাজিকভাবে এখনো ভারত একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী দেশ যার সামাণ্য বহিঃপ্রকাশ হলো,কিছুদিন আগেই গরুর গোশত খাওয়ার অপরাধে মুসলিম হত্যার মতো জঘন্য কার্যকলাপ!এহেন পরিবেশে ডাঃ জাকির হিন্দুধর্মের ভুলগুলো প্রকাশ্যে ধরিয়ে দিয়েও কিভাবে টিকে ছিলেন সেটাই আশ্বর্য!নিশ্চয়ই মোদি সরকার বহুদিন আগে থেকেই তক্কে তক্কে ছিলো কিভাবে তাঁকে বেকায়দায় ফেলা যায়!সেই মওকা এসে গেলো গুলশান আর শোলাকিয়ার ঘটনায়!নিহত জঙ্গিদের কেউ পিস টিভির ফ্যান পেজে লাইক দিয়েছিলো এটি নিশ্চয়ই ভারতের খুঁজে পাওয়া তথ্য এবং সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে এ অজুহাতে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করিয়ে নিলো!ভারত খুঁচিয়ে না দিলে এটি হয়তো বাংলাদেশের কোনো আলোচনার ইস্যুতেই আসতোনা!এতে অবশ্যই মোদি সরকারের বিরাট লাভই হলো।সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির সরকারের প্রতি আস্থা বেড়ে গেলো!কিন্তু বাংলাদেশের কি লাভ হলো?ভারতের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের নিকট নিজেদেরকে ইসলামবিরোধী হিসেবে তুলে ধরলো!এমনকি আওয়ামীলীগের অসংখ্য নেতা কর্মী পাওয়া যাবে যারা ডাঃ জাকিরের ভক্ত।পিস টিভিতে এমন কিছুই প্রচারিত হয়না যা বন্ধ করলে আওয়ামীলীগের কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল হবে।তবে মিছিমিছি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের মাঝে চাপা অসন্তোষের জন্ম দিয়ে কি অর্জন করতে পারে আওয়ামীলীগ?তারচেয়ে ডাঃ জাকিরকে জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্যের অনুরোধ করে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানালে কি সবদিক থেকেই লাভবান হতো না সরকার?ফরিদউদ্দিন মাসুদকে সরকারের দালাল হিসেবেই চেনে মানুষ!কাজেই তার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ বিরোধী তৎপরতা কতটুকু ফলপ্রসূ হতে পারে?অথচ ডাঃ জাকিরের বক্তব্য দল মত নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগনের মাঝেই বিরাট প্রভাব ফেলতো!কোনো জঙ্গি যদি তাঁর ভক্ত হয়েও থাকেন সেক্ষেত্রে স্বয়ং ডাঃ জাকিরের মুখে জঙ্গিবাদ বিরোধী বক্তব্য কি তাদের উপর প্রভাব ফেলতো না?সব মিলিয়ে অতীতের অন্যান্য সকল বিষয়ের মতো পিস টিভির ইস্যুতেও ভারতকে তুস্ট করতে যেয়ে নিজেদের স্বার্থের বিপরীত সিদ্ধান্ত নিলো সরকার আর বরাবরের মতই একচেটিয়া লাভবান হলো ভারত!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



