somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মায়ের ভালবাসা
"মাঝে মাঝে শীতকেও অনুভব করতে হয়, না হলে শীতের পরের উষ্ণতা যে কতটা আরামদায়ক সেটা বোঝা যায় না।।" "দৃশ্যের বাইরেও এমন কিছু অদৃশ্য শক্তি থাকে যার জন্য একজন মানুষও অপরিচিত থেকে অতি আপন হতে পারে, হতে পারে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ।।"

একদিন ওরা কেউ আসবে না

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বছর ঘুরে আসা মাহে রমজানের প্রায় শেষ প্রান্তে অপু বাসায় ফিরেছে । ওরা চার ভাইবোন । বড় বোন মাস্টার্স শেষ করে এখন চাকরি করছে । মেজ বোন অনার্স পড়া অবাস্থায় বাংলাদেশ পুলিশ-এ চাকরি পেয়ে গেছে কিছু দিন হল । ছোট ভাই অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র । আর অপু এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে অধ্যায়নরত । বাড়িতে থাকে শুধু ওদের মা-বাবা । বাড়িতে ফিরেই চকচকে রোদ পড়া উঠানে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অপু । শুন্য যেই বাড়িটা ওদের আগমনে প্রান ফিরে পায়, নিঃশব্দে থাকা যেই বাড়িটাই কোলাহলে ভরে ওঠে, সেটাতে ওর দুই বোনের কেউই ফেরে নি । ছুটি পায়নি বলে ওরা এবার আসবে না । আসবে না বলেই, ওদের আবেগমাখা ঝগড়াতে অপুর ঘুম ভাঙ্গবে না । আর অপুও ওদের অট্টহাসিতে বাড়ি মাতানো সৌন্দার্য চোখে ঘুম নিয়ে উপভোগ করতে পারবে না ।

বাড়িতে আসলেই যেন প্রকৃতির নিয়ম হয়ে যেত ওরা দুপুরে ঘুম শুরু করবে আর সেটা বিকেল অবধি পৌঁছে যাবে । আর অপু তখনি শুরু করে দিত ডাকাডাকি । এই তোমরা উঠে পড় আর চল আমরা মাঠ দেখতে যাব । গাছগাছালির সবুজে ভরা ওদের বাড়ির চারপাশ আর সাথে হরেক রকম পাখির কুহুকুহু রব চোখে এবং কানে যেন অন্যরকম এক অনুভূতির জন্ম দিত । এবার আর অপুর কর্কশ চিৎকারে ওদের ঘুম ভাঙ্গা বিরক্তিকর চেহারা অপু দেখতে পারবে না । এখনো ওই পরিবেশ হয়তো অপু আর ওর আপুদের জন্য মায়াবী সৌন্দার্যের আঁধার বিছিয়ে দিয়ে রাখে ।ভাই-বোনের সম্পর্কের চেয়ে মধুর সম্পর্ক পৃথিবীতে দ্বিতীয়ত নেই । এই সম্পর্কটাই পরিস্ফুটিত ওই সব ভাইদের কাছে যাদের একাধিক বড় বোন আছে । এই সম্পর্ক ছাড়া তো শুধু অপুর চোখে প্রকৃতি তার লুকানো সম্পদ ফুটিয়ে তুলবে না ।

এভাবে কেটে যাওয়া দিনের পর ওরা ইফতার তৈরী করত আর অপুকে ডাকতো, অপু ইচ্ছে করেই ঘরে বসে থেকে একটু পরে আসত । ওদের ভালবাসাময় অনুশাসনে যে এক অসাধারণ তৃপ্তি লুকিয়ে আছে সেটাতো অপুর মত ছোট ভাই ছাড়া আর কেউ বুঝবে না । ওরা ছাড়া অপুকে এখনও কেউ বলে না, তুমিতো ছোট মানুষ, তোমার রোজা রাখা লাগবে কেন, অনেক কষ্ট হবে তোমার । এসব কথাগুলোর মাঝে আসলেই এক অদৃশ্য ভালবাসা লুকিয়ে থাকে ।

ওরা আগে বাড়ি আসলে অপুর জন্য আর অপু আগে আসলে ওদের জন্য আসার ক্ষণে রাস্তায় এসে অপেক্ষা করা যেন এক নিয়ম হয়ে গেছে । প্রিয়জন আসবে বলে তাদের জন্য অপেক্ষা করার মজাই আলাদা । এবার অপুকে আর কারও জন্য অপেক্ষা করতে হবে না ।এমনই শুন্যতা নিয়ে দিন কেটে যাচ্ছে অপুর । ওদের অনুপস্থিতি অপুকে একান্তই একাকী করে তুলছে । যে ভালবাসার মধুর বন্ধনে ওরা আবদ্ধ সেটার অভাব অপু ক্ষণে ক্ষণে বুঝতে পারছে ।

ঈদ চলে এসেছে । সারাবিশ্বই এখন ঈদের খুশিতে আনন্দিত । বছর শেষে প্রিয় মানুষগুলোকে সকল ব্যস্ততা থেকে একটু কাছে পাওয়ার জন্যই হয়তো ঈদ । কিন্তু অপুদের মত অনেকেই আজ ঈদ কাটিয়ে দেবে শুধু প্রিয় মানুষগুলোর ছেলেমানুষী করা কথাগুলোর কথা ভেবেই । অপু এখন বুঝতে পারছে একটা ঈদ নয়, ওদেরকে এখন থেকে একত্রে পেতে হলে কয়েকটা ঈদ এভাবে পার করতে হবে । অপুও একদিন ব্যস্ত হয়ে যাবে, সেদিন ওরা আসলেও অপু আসতে পারবে না । এভাবে শুন্য বাড়িটাই একদিন শুন্য থেকে হাসিখুশিতে ভরে ওঠার জন্য ওদের পথপানে চেয়ে থাকবে, সেদিন থেকে ওরা আর কেউ আসবে না ।


ছবিঃ গুগল
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:৩৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুইটি প্রশ্ন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪০

১) জাতিসংঘ কি হাদী হত্যার বিচার এনে দিতে পারবে? ফিলিস্তিনি গণহত্যার বিচার কি জাতিসংঘ করতে পেরেছে?

২) আজকের পুলিশি হামলায় ছাত্র নেতারা ডঃ ইউনুসকে যেভাবে গালি দিচ্ছেন, তাতে কি জাতিসংঘ খুশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×