১ . ‘জুতোওয়ালা এমন করে কথা বলে, যে তার উপর কথা বলা চলে না,...। যে জুতোজোড়া পছন্দ হল, সেটা সোয়েট আর পেটেন্ট লেদারের কম্বিনেশান। ক্লাসের ছেলেরা হিংসে করে মাড়িয়ে দিতে পারে, গৌরীর মনে হতে পারে, কেন ছেলে হয়ে জন্মালুম না?
...গৌরীর হৃদয়ের ভিতর দিয়ে, ওই লাল জুতো পরে, নীতীশ টলমল করে চলল, আর -গৌরী চলতে শুরু করলে, নীতীশের হৃদয়ের মধ্য দিয়ে পথ করে। আচম্বিতে সশব্দে জুতোজোড়াকে চুম্বন করলে। তারপর নীতীশের দিকে চেয়ে ঈষৎ লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠে জিজ্ঞেস করলে, কার জন্যে গো?
তোমার জন্যে!
ওমা-তা হতে যাবে কেন? তুমি এনেছ, নিশ্চয়ই তোমার ছেলের ?
...আচ্ছা, বেশ দুজনের-
হ্যাঁ-অসভ্য, বলে গ্রীবাটাকে পাশের দিকে ফিরিয়ে নিজের মধুর লজ্জাটা অনুভব করলে। লাল জুতোজোড়া তখনও তার কোলে, যেন মাতৃমূর্তি।’
বাংলা সন ১৩৪৪ এর ভাদ্র মাসে ‘লাল জুতো’ নামে একটি অসাধারণ গল্প লিখেছিলেন আমাদের সাহিত্যের খ্যাতনামা গল্পকার কমলকুমার মজুমদার। এ গল্পটি দিয়েই লেখকের ‘গল্প সমগ্রে’র শুরু। পুরোপুরি জুতো নির্ভর না হলেও জুতো চপ্পল খরম চটি নিয়ে গল্পের অভাব নেই বাংলা সাহিত্যে। প্রসঙ্গত রবীন্দ্রনাথের ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতাটির কথা সবার জানা। পাশাপাশি ‘নষ্টনীড়’ গল্পের নায়িকা চারুলতা বন্ধু অমলের জন্যে যে জুতো তৈরি করে দিয়েছিলেন, ভুলে যাবার মতো নয়, ‘চারুলতা’ ছবির সেই আবেগঘন দৃশ্যের কথা। সমকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বনেদী পরিবারের মেয়েদের তুলনায় ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা যে কতোটা এগিয়ে ছিল সেকথা বোঝাতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,‘ঠাকুরবাড়ির মেয়েরাই প্রথম জুতো পরে বাইরে যায়’। রবীন্দ্র-উপন্যাসে বনেদী পরিবারের নারী চরিত্রে, বিশেষ করে, বিধবাদের জুতো পরা নিয়ে কটাক্ষ আছে। আছে ভারতীয় হিন্দিগানে (মেরা জুতা হায় জাপানী/ ছবি: আওয়ারা) জাপানী জুতোর উল্লেখ।
আর জুতো নিয়ে ভানুর কৌতুক এককথায় তুলনাহীন: মা চাকুরীর জন্যে তার বেকার ছেলেকে পাঠিয়েছেন শহরের এক কর্নেলের কাছে। কর্নেল হঠাৎ ছেলেটির পায়ের দিকে তাকিয়ে বল্লেন,
বাহ- তোমার পাদুকা দু’খানা তো খুব সুন্দর।
শুনে ছেলেটি বলে, আপনি নিবেন? নিয়া যান।
না, না। লোকে জিজ্ঞেস করলে কি বলবে?,
ছেলেটি বলে, কেউ জিজ্ঞেসই করবে না। আর একান্তই যদি জিজ্ঞাসা করে তাইলে কমু, কুত্তায় লইয়া গেছে!
২. একদা ছিল না জুতা যুগল চরনে/জুতা কাহিনী/আদি পর্বের দু’চার কথা
পূর্ব আফ্রিকার একটি এলাকায় ১,৭৫০,০০০ বছর পুরোনো মানুষের খুলির ভগ্নাবশেষ পাওয়া গেলেও হিমালয়ে পাওয়া ফসিলের আকার আকৃতি থেকে বিজ্ঞানীদের ধারনা, প্রায় ১৪ মিলিয়ন বছর পূর্বে মানুষ বর্তমান আকৃতিতে রুপান্তরিত হয়। এরও অনেকপর ২,০০,০০০ বছর আগে আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলে আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন ফসিল ও ডিএন এ টেষ্টের মাধ্যমে। Zinjanthropus অর্থাৎ আদি যুগের ‘হ্যান্ডি ম্যান’ বলা হত যাদের, কিংবা Homo sapiens অর্থাৎ আদিম গুহা-মানবরা তাদের চরণ যুগল আবৃত করে রাখতো কিনা কিংবা কবে কখন কোথায় মানুষেরা জুতো পরতে শেখে বলা কঠিন।
‘একদা ছিল না জুতা যুগল চরণে’ এই অসাধারণ পংতিটির মধ্যে লুকিয়ে আছে ঐতিহাসিক সত্যতা। তবে চরণ আবৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা মানুষ ভাবতে শিখেছে খুব বেশীদিন হয় নি। ধারনা করা হয় যে, প্রায় ৪০,০০০ বছর পূর্বে কোন এক সময় পাহাড়ী এলাকায় শিকার খুঁজতে গিয়ে মানুষেরা পা আবৃত করার কথা ভাবতে শেখে। সুঁচালো ও ধারালো পাথরের আঘাত, শীত ও উতপ্ত বালি থেকে পা বাঁচাতে প্রথম মানুষ যা পরতে শেখে তাকে জুতো না বলে ‘পায়ের ব্যাগ’ বলা ভালো। আদিতে মানুষেরা প্রথমে গাছের পাতা এবং পরে খরগোশ কিংবা অই জাতীয় ছোট ছোট প্রাণীর চামড়া পায়ের নীচে রেখে গাছের লতা দিয়ে বেধে যাবতীয় প্রতিকুলতা থেকে চরণ রক্ষার উপায় বের করে। সমতল ভূমিতে চলাচলের জন্যে স্যান্ডেল হিসেবে মানুষ কাঠের ব্যবহার শেখে এর পরপরই। শিকার না মিললে সে সময়ে মানুষকে ঘাস, পাতা আর কাঠের উপরই নির্ভর করতে হ’ত। আমাদের দেশের গাঁও গ্রামে আজো প্রায় অই একই ধরনের কাঠের খরমের প্রচলন রয়েছে। ১৯৩৮সালে যুক্তরাষ্ট্রের অরেগনে খ্রীষ্টপূর্ব ৮থেকে ৭ হাজার বছরের মধ্যবর্তি কোনো এক সময়ের জুতোর সন্ধান পাওয়া যায় যা প্রাচীনতম উদ্বারকৃত জুতো হিসেবে বিবেচিত। শুকনো চামড়া দিয়ে তৈরির কারণে জুতো হাজার হাজার বছর দীর্ঘায়ু না হলেও কিছু কিছু ব্যতিক্রম চোখে পড়ার মতো। যেমন, ১৯৯১ সালে মাটি খুঁড়ে উদ্ধারকৃত ৫৩০০ বছর পুরোনো ‘উটজি’ মানুষের পায়ের জুতোজোড়া ছিল প্রায় অবিকৃত অবস্থায়।
৬৬৪ থেকে ৩৪২ খ্রীষ্টপূর্বে প্রাচীন রোমানদের প্রধান ‘ফুট ওয়্যার’ ছিল স্যান্ডেল। পুরো পা ঢেকে ফেলতে পারে এমন ধরনের জুতোকে রোমানরা বলতো ‘ক্যালসিয়াস’, স্যান্ডেল বুটকে বলা হ’ত ‘ক্যালিগা’। ১২০০ খ্রীষ্টপূর্বে মিশরের ফারাও রাজা, রাজ-পরিবারের সদস্য ও ধর্ম-যাজকরা যে স্যান্ডেল পরতো সাদাসিদে হলে ও তা ছিল যথেষ্ট দৃষ্টিনন্দন। ওই সময় সাধারন মানুষরা পরতো চামড়ার বেল্টযুক্ত প্যাপিরাসের তৈরি স্যান্ডেল। গ্রীকে পায়ের গোড়ালি থেকে হাটুর মাঝবরাবর চামরার বেল্টযুক্ত স্যান্ডেল পরার প্রচলন ছিল হোমারের আমলে, ১০০০ থেকে ৭০০ খ্রীষ্টপূর্ব মধ্যবর্তি সময়ে।
১ থেকে ১৪ শতক-এই সময়ে উত্তর আমেরিকার ইউটা, কলরাডো, আরিজোনা ও নিউ ম্যাক্সিকোর প্রাচীন ‘আনাসাজি’ সংস্কৃতির লোকদের মধ্যে জুতো স্যান্ডেলের ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। যুদ্ধবাজ বলে খ্যাত সামুরাইরা ১২ শতকে ক্ষমতায় আসে জাপানে, আর তাদের প্রিয় ছিল ভল্লুকের চামরার পাদুকা। এই ডাইনেষ্টির রাজারাই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ-হানাহানি বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে - ১৬০৩ থেকে ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ২৫০ বছরেরও বেশী এ সময়কে বলা হয়,‘ ইডো পিরিয়ড’।
ঘানার ‘অশান্তি রাজা’দের ছিল এক অদ্ভুত বিশ্বাস। আফ্রিকার এই স্বর্ণসমৃদ্ধ দেশটির রাজারা জুতো ও স্যান্ডেলে সোনা ব্যবহার করতো আভিজাত্যময় ডিজাইনের অংশ হিসেবে। বিশ্বাস করতো যে, তারা এ পৃথিবী শাসনের জন্যে আকাশ থেকে ব্রোন্জ ভেসেলে করে ধরাধামে এসেছিল এবং অই উড়šত জাহাজ থেকে মর্ত্যরে মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে দু’জোড়া সোনার স্যান্ডেল তাদের পায়ের সামনে দেখতে পায়! আকাশ থেকে আসা রাজাদের পা কেন মর্তের ধুলোয় ধুসরিত হবে? এ জন্যেই ঈশ্বর আগেভাগেই জুতোর ব্যবস্থা রেখেছেন।
১৪০০ থেকে ১৫০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে নেদারল্যান্ডে সুচালু, পিন-পয়েন্টেড লোহার জুতো ‘স্নাভেলসুয়েন’ বিত্তবান এরিস্টোক্রাটদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল খুব। ইউরোপের অন্যান্য দেশে এ ধরনের জুতোকে বলা হ’ত ‘পাউলেইন’।
বার্মার ‘কনব্যাঙ ডাইনেষ্টি’র (১৭৫৫-১৮৪৫) শাসকরা পবিত্র (!) ’হিনথা’ পাখির আদলে তৈরি রাজকীয় ‘হিনথা বার্ড’ জুতো পরতেন বংশ পরম্পরায়। এ ধরনের জুতোয় গ্লাসের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। উল্লেখযোগ্য যে, ‘হিনথা’ বা ‘হামজা’ পাখি বৈদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের জীবনে সৎ চরিত্র, হারমনি ও পবিত্রতার প্রতিক। ১৬ শতকে ভারতের তামিলনাড়–তে দেয়াল খুঁড়ে পাওয়া যায় ব্রোঞ্জ নির্মিত আভিজাত্যময় জটিল ক্লাসিক একজোড়া পাদুকা। আজো অনেকের বিশ্বাস, এই পাদুকা লর্ড বিষ্ণুর। ১৭৭৫ এর পর অর্ধ শতাব্দী কচিনে আইভরির পাদুকা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ভারতে মোঘল শাষকরা এবং শেষদিকে হায়দারাবাদের নিজাম জুতোয় সোনা, রূপা, আইভরি ইত্যাদি ব্যবহার করতেন। নিজেদের আভিজাত্য প্রকাশের লক্ষ্যে বৈকালিক ও সান্ধ্য পার্টিতে মহিলারা যেতেন রূপার পাদুকা পরে। চীনে মেয়েদের পরানো হত বিশেষ এক ধরনের জুতো যাতে তাদের পা বর্ধিত হতে না পারে। ১৯ শতকে এই জুতোর নাম ছিল ‘লিলি ফুট’। গত শতাব্দীর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রে আসামীদের স্থানাস্তরের সময় পায়ে লোহার ভারী জুতো পরিয়ে দেয়া হত, যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে।
৩. নিষেধের মায়াজালে যখন উঠেছে কেঁপে চরন যুগল
প্রাচীন আমলে ক্রিতদাসদের রাখা হত খালি পায়ে, তারা ছিল জুতো পরার অধিকার থেকে বঞ্চিত। গত শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের দেশেও জমিদার কিংবা সামন্তপ্রভুদের বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে হলে জুতো খুলে যাওয়ার রেয়াজ ছিল। এখন অবশ্য এসব হাস্যকর রেয়াজ চোখে পড়ে না।
১৮৪৫ সালে জুতো বানানোর মেশিন এবং ১৮৫৮ সালে জুতো সেলাইয়ের মেশিন আবিস্কৃত হওয়ার ফলে জুতো তৈরির ক্ষেত্রে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, যার ফলে অনেক রেয়াজই মুছে যায় ইতিহাসের পাতা থেকে। তবে এখন দেশে কিংবা বিদেশে কারো বাড়িতে জুতো নিয়ে ঢুকলে গৃহকর্তা-কর্তির দৃষ্টিতে ফুটে ওঠা নিষেধের মায়াজালে সহসাই কেঁপে ওঠে চরন যুগল।
শুধু ঘরের কথাই বা বলছি কেন?
বাইবেলে জুতোর উল্লেখ আছে অসংখ্যবার। তবে চার্চে জুতো পরার ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অন্য ধর্মে আছে। ইহুদি ধর্মে আছে, মোজেস যখন জ্বলন্ত অগ্নির সামনে ঈশ্বরের সাক্ষাৎ লাভ করেন, মহামান্য ঈশ্বর প্রথমেই তাঁকে আদেশ করেন-Put off thy shoes from off thy feet, for the ground whereon thou standest is holy ground.(In the book of Exodus, 3:5, when God appears to Moses in the burning bush)ইসলাম, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে উপাসনালয়ে জুতো নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।
৪. জুতানামায় জুতা ও জর্জ বুশ
পৃথিবীর সর্ব কালের ঘৃণিত রাষ্টনায়কদের একজন জর্জ বুশ কি স্বপ্নেও ভেবেছিলেন যে তার বিদায় পর্বটি হবে এতটাই অপমানজনক। তাকে জুতো খেতে হবে বিদেশের মাটিতে। একদা আপনার চরন আবৃত করার এই মহান আবিস্কার কিংবা উদ্ভাবন একবিংশ শতাব্দিতে এসে যে এতোটাই ঘৃণার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে যুদ্ধাপরাধী জর্জ বুশ ছাড়া সেকথা ভালো আর কে বোঝেন? সারা পৃথিবীর মানুষ প্রাণভরে যেন উপভোগ করলো টিভি পর্দায় পুনঃ পুনঃ প্রচারিত হওয়া বুশের প্রতি জুতা ছুড়ে মারার দৃশ্যটি। এর পরপরই ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যম হিশেবে জুতো ছুড়ে মারার প্রবণতা চালু হয়ে যায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। চীনা নেতা, কোরিয়ান সাংসদ, এমন কি ভারতের অতি ভদ্র প্রধানমন্ত্রীও বাদ যাননি উড়ন্ত জুতোর অম্ল স্পর্শ থেকে।
বছর কয়েক আগে একাত্তরের রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী মন্ট্রিয়লে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে জুতো খেয়েছিলেন। আমাদের দেশে এক সময় সামাজিকভাবে ঘৃণা প্রকাশের জন্যে নষ্ট রাজনীতিবিদ, টাউট, চোর-বাটপারকে মাথা ন্যাড়া করে জুতোর মালা পরিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরানো হত। এমন দৃশ্য আজকাল আর শহরে দেখা যায় না।
জুতোর সঙ্গে মান-অপমানের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কতোটা নিবিড় তা নিম্নোক্ত উদ্ধৃতি থেকে কিছুটা পরিষ্কার হ’লেও হ’তে পারে। অক্সফোর্ড পন্ডিত, স্বনামধন্য লেখক তপন রায়চৌধুরীর ‘রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা’ থেকে কয়েক লাইন তুলে দেবার লোভ সংবরন করা গেল না...
...এই মান-অপমানের ব্যাপারটা নিয়ে সর্বশ্রেণীর বরিশালবাসীই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ছিলেন। বরিশালের গ্রামাঞ্চলে দাড়ি ধরিয়া জুতা মারার ঘটনা একাধিকবার চোখে পড়েছে।
জুতা মারা বা খাওয়া জীবনযাত্রা বা human condition-এর অঙ্গীভূত বলেই জানত।
...শুনেছি বড়হিস্যার বাড়ীর এক তহশীলদার অবাধ্য প্রজাদের অভব্যতায় অত্যন্ত বেজার হ’য়ে হুজুরদের একটি পত্র প্রেরণ করেন। তার বয়ান নিম্নরূপ:
অশেষ সন্মানপুরঃসর প্রতিপালকবরেষু নিবেদন এই যে অধীনকে অত্র তহশীল হইতে ফরান্ বদলী করিবার আদেশ হয়। অধীন বড়ই মনঃকষ্টে বাস করিতেছে। গতকল্য সকাল দশ ঘটিকায় প্রজারা অধীনকে দাড়ি ধরিয়া জুতা মারিয়াছে। অধীন তাহাতেও বিচলিত হয় নাই।
কিন্তু অদ্য তাহারা অধীনকে অপমান করিবে বলিয়া শাসাইয়া গিয়াছে। সব সহ্য হয় কিন্তু ব্রাহ্মণসন্তান অপমান সহ্য করিতে পারিবে না। ইতি সেবক...
*এই লেখাটি অন্যদিন পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরিমার্জিত এবং সংশোধিত আকারে সামুতে প্রকাশ করলাম।*
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৫:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


