"পতাকা এখন তরুণ প্রজন্মের হাতে। তারা আত্মসমালোচনা করতে জানে। তারা বিপ্লবের অগ্নিশিখায় জ্বলতে জানে।
বাংলার ঘরে ঘরে আরো একবার সূর্যসেন, প্রীতিলতা, সুভাষজী, অনিলবরণরা জন্ম নেবে, আরো একবার স্বাধীনতার রক্তলাল সূর্য ছিনিয়ে আনবে।
অপেক্ষা শুধু জন্ম নেয়ার, বাকীটুকু ইতিহাস..."
দিন কয়েক আগে ফেসবুকে এই স্ট্যাটাসটা দেওয়ার পর এক বন্ধুর মন্তব্য, কেউ brain wash করছে নাকি? আরেক জন বলল, কিরে লীগ না দল? বললাম, আমি বেদুঈন আমি চেঙ্গিশ, আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্ণিশ। আমাকে বলল, মানসিক ডাক্তার দেখা।
আজকাল সূর্যসেন কিংবা কর্ণেল তাহের এর কথা বললেই অনেকে দেখি বাঁকা চোখে তাকায়। তাদের চোখের ভাষায় কোনো ঘৃণা নেই, কোনো অবজ্ঞা নেই; কেবল ভয় আর নিরুৎসাহ। ভয় আরেকটি তাজা প্রাণ হারানোর; নিরুৎসাহ সেই তাজা প্রাণটিকে বাঁচিয়ে রাখার।
ছেলেবেলা থেকেই স্বাধীনচেতা হিসেবে বড় হয়েছি। বিশ্বাস করেছি নিজের অফুরন্ত প্রাণশক্তিকে, নিজেকে গড়ে তুলেছি তারুণ্য শক্তির পৃষ্ঠপোষকরুপে। ইতিহাসের তরুণ নায়কদের দেখে নিজের কল্পনাপ্রসূত মন তরুণ নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে একদিন সে বিপ্লবী সূর্যসেনের মত দেশের জন্য, মায়ের জন্য ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলবে। জীবনের ২২টি বসন্ত পাড় করে এসেছি। স্বপ্নটা যে তিমিরে ছিল, সে তিমিরেই রয়ে গেছে। দেশের জন্য কিছু করতে চাই, মানবতার জন্য মনটা বিদ্রোহী হয়ে উঠে। পাশের বন্ধুটি যখন নিজের বাবার টাকায় Pizza Hutএ গিয়ে একাই ৩৫০০-৪০০০ টাকা খরচ করে, তখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ২৫০০ টাকা মজুরীর দাবি নিমতলীর আগুনে দগ্ধ হতে থাকে। আরেক বন্ধু যখন বলে, Malaysia যাচ্ছি (তথাকথিত) UNYSAB এর international conference করতে। এবং তারপর শুনি এক-দেড় লাখ টাকা খরচ করে সেই International Conference এ সেই বন্ধুটি Thailand এর প্রতিনিধিত্ব করে এসেছে, এবং ফেসবুকে নির্লজ্জের মত থাইল্যান্ডীয় মার্কা পোশাক পরা ছবিগুলো যখন upload করে blush blush করতে থাকে, তখন বাংলাদেশের লজ্জাভরা চেহারাটা দেখে অসহায় আক্রোশে আস্ফালন করতে থাকি।
হায় আমার দেশ! হায় আমার মানুষগুলো!!
সূর্যসেন লীগ নাকি দল করত, সেটা ইতিহাসের কোথাও আমি খুঁজে পাইনি। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, সূর্যদের ডাক এসেছে আবার বাংলা মায়ের তরফ থেকে...
অপেক্ষা শুধু জন্ম নেয়ার...
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


