রাজনৈতিক জীবনে শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী সাহেব ক্বিবলা (রহ

ছিলেন আপোষহীন এক বীর। ভোগ-বিলাশ কিংবা ক্ষমতার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না। তাইতো তার জীবনে বেশ কয়েকবার মন্ত্রিত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হবার প্রস্তাব আসলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। তিনি বলতেন সংসদীয় মন্ত্রীত্বের ক্ষমতা ৫ বছরের আমি এ ক্ষমতা চাই না। আর সে জন্যই তিনি আজ জনগনের হৃদয় আসনে অসীন। তার রাজনীতি ছিল ইসলাম স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে, শিক্ষার স্বার্থে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন, ১৯৫০ সালে আসাম প্রদেশে ‘মুসলিম এডুকেশন’ বন্ধের প্রতিবাদ আন্দোলন, ১৯৭১ সালে সেচ্ছায় কারাবরণ, ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদ, সালমান রুশদী, তসলীমা নাসরীনসহ কুখ্যাত নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন, ২০০১ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নামকরণ বিরোধী আন্দোলন, আওয়ামীলীগ সরকারের সময় ফতোয়া নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে আন্দোলন, হজরত শাহজালাল (র

এর মাজার প্রাঙণে বোমা হামলার প্রতিবাদসহ অসংখ্য আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন সক্রিয় নির্ভক যোদ্ধা। এছাড়া তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন, জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেন, ২০০৬ সালে স্বতন্ত্র আরবী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং ফাযিল, কামিলকে যথাক্রমে বিএ এবং মাষ্টার্সের মান প্রদানের দাবীতে ঢাকার উদ্দেশ্যে লংমার্চ করেন। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান সংসদে স্বতন্ত্র আরবী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন আইন বিলটি পাশ হয় এবং ফাযিল, কামিলকে যথাক্রমে বিএ এবং মাষ্টার্সের মান প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বিশ্ব মুসলিমের জন্য আন্দোলন করেছেন। ইরাকে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে ৬ মার্চ ২০০৩ সালে ঢাকার পল্টন ময়দানে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের মহাসমাবেশ করেন।
কবির ভাষায়: যে আন্দেলনের সুচনা তুমি করে গেছো, যে মানযিলের পথ আমাদের দেখিয়ে গেছো, আমরা সে পথ ছাড়বো না, এ আন্দোলন থামবে না, কথা দিলাম।
এই দেহ প্রাণ আছে প্রস্তুত জিহাদমুখে, নেই কোন ভয় নেই সংশয় মোদের বুকে, ওহাবীবাদের আস্তানা, বাংলাদেশে হবে না, কথা দিলাম।