খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় তৈরি হয় এ অনন্য স্থাপত্যকীর্তি।
প্রথমে বন্দরের পরিচিতি চিহ্ন হিসেবে এটি তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। বাতিঘরের মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল ১১০ বর্গফুট। উচ্চতা ছিল ৪৫০ ফুট। ৫০ মাইল দূর থেকেও এটি দেখা যেত। দ্বাদশ শতকে প্রবল ভূমিকম্পে বাতিঘরটি ভেঙে পড়ে।
হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীতে প্রযুক্তির ব্যবহার যখন খুব সীমিত ছিল, তখন বিশাল এবং কঠিন কোনো স্থাপনার কাজে হাত দেওয়াটা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। তারপরও তারা তা করেছেন। অনেক অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেছেন তারা, যা ভাবতে গেলে আজো অবাক হতে হয়। প্রাচীন যুগে মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল জলপথ। জলপথ দিয়েই ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। কিন্তু এই জলপথে চলাচল করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। পদে পদে বিপদের সম্মুখীন হতে হতো। এখানে জলদস্যুর যেমন ভয় ছিল, তেমনি ঘনকুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারে অথৈ জলরাশির মাঝে নাবিকদের পথ হারিয়ে ফেলা ছিল একেবারেই সাধারণ ব্যাপার। এ নিয়ে প্রাচীন শাসকরাও সবসময় থাকতেন আতঙ্কগ্রস্ত। তবে এ সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় যে কোনো শাসকরা খোঁজেননি, তা কিন্তু নয়। গ্রিক সম্রাট টলেমি এ সমস্যার কথা জানতে পারলেন। তিনি ছিলেন মিসরের রানী ক্লিওপেট্রার বাবা। সমস্যার সমাধানে তিনি পথ খুঁজতে লাগলেন। অবশেষে ২৭০ অব্দে ভূমধ্যসাগর উপকূলে আলেকজান্দ্রিয়ায় নির্মিত হলো একটি বাতিঘর। এ বাতিঘরটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। বাতিঘরটির মূল ভিত্তিভূমির আয়তন ছিল ১১০ ফুট। উচ্চতা ছিল ৪৫০ ফুট। মূল দেহের চারদিক দিয়ে পেঁচানো ছিল সিঁড়ি। এ সিঁড়ি বেয়েই উপরে ওঠা হতো। বাতিঘরটি তৈরির সময় ৪৫০ ফুট উঁচুতে যে বিশাল অগি্নকুণ্ড জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাতিঘরটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ তাকে নিভতে দেখেনি। প্রায় ৫০ মাইল দূর থেকেও বিশাল অগি্নকুণ্ড মানুষের চোখে পড়ত। আলেকজান্দ্রিয়ার এ বাতিঘরটি বহুকাল ধরে সমুদ্রগামী হাজার নাবিককে পথ দেখিয়েছে। পথ দেখিয়েছে পৃথিবীর দেশে দেশে সমুদ্র উপকূলে বাতিঘর তৈরির। কিন্তু পৃথিবীর কোনো সৃষ্টিই চির অমর নয়। যে কোনো কারণেই হোক সব সৃষ্টিই এক সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ধ্বংস হয়েছে আলেকজান্দ্রিয়ার সেই বাতিঘরও। ১২০০ শতকে এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পে বাতিঘরটি ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের এই নিদর্শনও।
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।