প্রায় দুই মাস আগের কথা, জীবনে প্রথম লন্ডনে এলাম। আগষ্ট হল এখানে গ্রীষ্মের শেষ মাস । হালকা গরম, চমৎকার আবহাওয়া। বউ-বাচ্চা সহ বাসে উঠলাম বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে যাব। বাসে উঠেই, কেমন যেন একটা উসখুস অনুভবের সাথে দমবন্ধ অবস্থা হল। চারপাশে তাকালাম, বাসের অন্য যাত্রিরা বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে স্বস্থির ভেতর আছে। আমি ভাবলাম, আমরা হঠাৎ নতুন পরিবেশে এলাম, এজন্য এমন মনে হচ্ছে। বাস দুই/তিন টা স্টপেজ পার হওয়ার পর দেখি, আমরা দর-দর করে ঘামা শুরু করলাম। লক্ষ্য করলাম, বাতাসের কোন ফ্লো-নাই। জানালার মত কিছু খুঁজে পেলাম না যে খুলে দেই, সব লক। যেন একটা গরম ওভেন-এর ভেতর ঢুকে গেলাম। ভাবলাম আজ বুঝি বাসের এয়ারকন্ডিশন কাজ করছে না। প্রয়োজনে গত দুইমাসে অনেকবার লন্ডনের বিখ্যাত দুই-তলা লাল বাসে উঠতে হয়েছে। গরমের দিন গুলিতে পুরো মাস জুড়ে একই অবস্থা। পরে বুঝতে পারলাম লন্ডনের বাসে আসলে এয়ার কন্ডিশনিং এর ব্যবস্থাই নাই। খুব অবাক হলাম। এত উন্নত একটা শহরের মানুষদেরকে গরম কালে কোন এয়ারকন্ডিশনিং এর ব্যবস্থা ছাড়া এমন দমবন্ধ লক অবস্থায় বাস-যাতায়ত করতে হয়। অথচ, বাংলাদেশের লোকাল বাসে তো জানালা পুরোই খোলা, ধুলিকনা এবং কালো ধোঁয়া মিশ্রিত বাতাস তেড়েফুড়ে আসে, অসস্তিকর আরামে মানুষগুলি কিভাবে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ঘুমোতে ঘুমোতে বাড়ি-থেকে কর্মক্ষেত্রে যাতায়ত করে। দমবন্ধ অবস্থা তো হয় না। আসলে, লন্ডনে গ্রীষ্মে মাঝারি গরম হওয়ার কারনে নাকি ঐতিহাসিকভাবেই কুলীং সিস্টেমের এর দরকার হয় না। এমন কি এই যে ছবির পেছনে বিশাল লম্বা গ্লাস-লেয়ারিং এ টাওয়ার দেখছেন, ওখানেও কোন এয়ার কন্ডিশনিং এর ব্যবস্থা নাই (হিটিং সিস্টেম আছে)। আমি এখনকার মত ওখানেই আছি, কাচের ঘর, বড় কোন জানালা নেই, সামান্য গরমেই বাসার ভেতরই দমবন্ধ অবস্থা হয়। যাই হোক, আমার কাছে বাংলাদেশ, কোরিয়া, জাপান, মালয়শিয়া, সিংগাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চায়না, জার্মানির লোকাল বাস লন্ডনের লোকাল বাসের চেয়ে বেশ আরামের মনে হয়েছে।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


