somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হালকা গরমেও লন্ডনের বাস যেন একটা দমবন্ধ ওভেন

০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় দুই মাস আগের কথা, জীবনে প্রথম লন্ডনে এলাম। আগষ্ট হল এখানে গ্রীষ্মের শেষ মাস । হালকা গরম, চমৎকার আবহাওয়া। বউ-বাচ্চা সহ বাসে উঠলাম বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে যাব। বাসে উঠেই, কেমন যেন একটা উসখুস অনুভবের সাথে দমবন্ধ অবস্থা হল। চারপাশে তাকালাম, বাসের অন্য যাত্রিরা বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে স্বস্থির ভেতর আছে। আমি ভাবলাম, আমরা হঠাৎ নতুন পরিবেশে এলাম, এজন্য এমন মনে হচ্ছে। বাস দুই/তিন টা স্টপেজ পার হওয়ার পর দেখি, আমরা দর-দর করে ঘামা শুরু করলাম। লক্ষ্য করলাম, বাতাসের কোন ফ্লো-নাই। জানালার মত কিছু খুঁজে পেলাম না যে খুলে দেই, সব লক। যেন একটা গরম ওভেন-এর ভেতর ঢুকে গেলাম। ভাবলাম আজ বুঝি বাসের এয়ারকন্ডিশন কাজ করছে না। প্রয়োজনে গত দুইমাসে অনেকবার লন্ডনের বিখ্যাত দুই-তলা লাল বাসে উঠতে হয়েছে। গরমের দিন গুলিতে পুরো মাস জুড়ে একই অবস্থা। পরে বুঝতে পারলাম লন্ডনের বাসে আসলে এয়ার কন্ডিশনিং এর ব্যবস্থাই নাই। খুব অবাক হলাম। এত উন্নত একটা শহরের মানুষদেরকে গরম কালে কোন এয়ারকন্ডিশনিং এর ব্যবস্থা ছাড়া এমন দমবন্ধ লক অবস্থায় বাস-যাতায়ত করতে হয়। অথচ, বাংলাদেশের লোকাল বাসে তো জানালা পুরোই খোলা, ধুলিকনা এবং কালো ধোঁয়া মিশ্রিত বাতাস তেড়েফুড়ে আসে, অসস্তিকর আরামে মানুষগুলি কিভাবে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ঘুমোতে ঘুমোতে বাড়ি-থেকে কর্মক্ষেত্রে যাতায়ত করে। দমবন্ধ অবস্থা তো হয় না। আসলে, লন্ডনে গ্রীষ্মে মাঝারি গরম হওয়ার কারনে নাকি ঐতিহাসিকভাবেই কুলীং সিস্টেমের এর দরকার হয় না। এমন কি এই যে ছবির পেছনে বিশাল লম্বা গ্লাস-লেয়ারিং এ টাওয়ার দেখছেন, ওখানেও কোন এয়ার কন্ডিশনিং এর ব্যবস্থা নাই (হিটিং সিস্টেম আছে)। আমি এখনকার মত ওখানেই আছি, কাচের ঘর, বড় কোন জানালা নেই, সামান্য গরমেই বাসার ভেতরই দমবন্ধ অবস্থা হয়। যাই হোক, আমার কাছে বাংলাদেশ, কোরিয়া, জাপান, মালয়শিয়া, সিংগাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চায়না, জার্মানির লোকাল বাস লন্ডনের লোকাল বাসের চেয়ে বেশ আরামের মনে হয়েছে।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ চোরের উপরে বাটপারি!!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



টুং করে একটা নোটিফিকেশান আসলো।

ফাৎনার নড়াচড়া দেখে বুঝলাম, বড়শিতে একটা 'ব্রাউন ফিস' ধরা পড়েছে। এখন টেনে তোলার আগে খানিকটা খেলতে হবে। মৎস্য শিকারীরা জানে, এই কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×