somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ খুরশীদ আলম
যারা ইমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ ( আল কুরআন)“সত্য ও সুন্দরকে ভালবাসি, অন্যায়- অবহেলা দেখলে খারাপ লাগে, তাই ক্ষদ্র এ প্রয়াস “

“ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছাটাই প্রকল্প চালু করা হোক ”

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছাটাই প্রকল্প চালু করা হোক ”
- গোলাম কিবরিয়া মজুমদার

একজন মুক্তিযোদ্ধার আকুতি সহ্য করতে কষ্ট হয়।স্বাধীনতার 44 বৎসরেও একজন মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি মেলেনি অথচ মুক্তিযুদ্ধের ধারে কাছেও যায়নি এমন লোকেরা মুক্তিযোদ্ধা বনে গেল। এই পরিস্থিতি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের আহত করে। যারা মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও যোদ্ধা বনে গেছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোর নেই । কারণ তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধারা দলবাজি, চ্যানেল বাজি করে উচ্চ পর্যায়ের রুই কাতলাদের সহযোগিতায় তাদের অবস্থান টিকিয়ে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাই রীতিমত ভীত সন্ত্রস্ত ও কোন কোন কারণে বিব্রতও বটে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে এখন আর অস্ত্র নেই যে কোন আক্রমণ প্রতিহত করবে।অনেকেই ইহধাম ত্যাগ করেছে।অবশিষ্টরা বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। যাদের দেখতাম অন্যায় অনিয়ম দেখলে বিজলীর মত জ্বলে উঠত, বজ্রের মত হানা দিত । তাদের এখন দেখা যায় নির্জীব।
তবে, এই অবস্থায় চুপ করে থাকলে সমস্ত জাতির প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই ভাতা সমগ্র জাতির প্রদত্ত ট্যাক্স থেকেই যোগান দেয়া হয়। জনগণের সেই কষ্টের অর্থ নির্বিচারে ব্যয় হওয়া কোন ভাবেই কাম্য নয়। সদাসয় সরকারও নির্বিচারে ব্যয়ের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনীয় করে রাখার জন্য রাস্তার নামকরণ করা হচ্ছে। দেখা যাবে তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধার নামেও একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য উপস্থিত হলাম। দেখলাম, তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধারাই প্রাধান্য বিস্তার করছে। তালিকাভূক্তি হতে বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধারা ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে। এ যন্ত্রণাকর পরিস্থিতি হতে উত্তরণ প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধার সৃষ্টি হয়েছিল জাতির মুক্তির জন্য। তাই, মু্ক্তিযোদ্ধাদের যন্ত্রণামুক্ত করার দায়িত্ব এখন জাতির উপরই ন্যাস্ত। একজন সচিব যেখানে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বাসনা রাখে সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা থাকাও অসাধারন নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যকেই ব্যহত করবে। তাই, বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছাটাই প্রকল্প” চালু করার প্রস্তাব করছি।
আমার প্রস্তাবঃ
1। “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছাটাই প্রকল্প” নামে একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে খোলা যোতে পারে।
2। প্রকল্পের অধীনে একটি কমিটি থাকবে। কমিটিতে সদস্য সংখ্যা থাকেবে 7 জেলা থেকে 7 জন।
3। এই সদস্যের কর্মকাল হবে 6 মাস। 6 মাস পর অন্য 7 জেলার 7 সদস্য দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। এই পদ্ধতিতে 6 মাস পর পর পরিবর্তিত হবে।
4। এই কমিটিতে সভাপতিত্ব করবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
5। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য পাওয়া মাত্র তাকে কমিটির সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ সম্বলিত নির্দেশ দেওয়া হবে।
6। যদি অনাকাঙ্খিতভাবে কোন অভিযুক্ত ও কোন সদস্যের নিজ জেলা এক হয়ে যায়, তবে ঐ সদস্য ঐ ব্যক্তির সাক্ষাতকার পর্বে উপস্থিত থাকবে না।
এই ব্যবস্থার মনোস্ত্বাত্বিক দিক হলো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা 7 সদস্যের একটি কমিটির সামনে হাজির হওয়ার সাহস পাবে না।
অতএব জনস্বার্থে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় একটি “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছাটাই প্রকল্প” চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক
গোলাম কিবরিয়া মজুমদার
মুক্তিযোদ্ধা
গ্রামঃ হাসানপুর, পোঃ আনন্দপুর
উপজেলাঃ ফুলগাজী, জেলাঃ ফেনী।



সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৫৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×