somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ খুরশীদ আলম
যারা ইমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ ( আল কুরআন)“সত্য ও সুন্দরকে ভালবাসি, অন্যায়- অবহেলা দেখলে খারাপ লাগে, তাই ক্ষদ্র এ প্রয়াস “

জীবনঃ যখন যেখানে যেমন

২৭ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনঃ যখন যেখানে যেমন
======= মোঃ খুরশীদ আলম
জীবন মানে কি? জীবনের সজ্ঞা কি? যে জীবন চাওয়া-পাওয়ায় তৃপ্ত নয়, চরমসুখ, পরম আনন্দ যে জীবনে ধরা দেয়নি সে জীবনের কোন মানে হয়? জীবন; তার সংজ্ঞা পরিবর্তন করে বিভিন্ন ধাপে, যেমন ঋতু পরিবর্তন হয় দু মাস পর পর।
জীবনকে, তার মানেকে খুঁজেছি, দেখেছি তার স্বরূপ, বুঝতে চেয়েছি জীবনের মানে। শৈশবের জীবন, জীবনের চরম সুখের মুহুর্ত। বাঁধা নেই, ধমক নেই, স্বাধীনভাবে জীবনকে উপভোগ করার স্বাধীনতাটুকু রয়েছে। জীবনের একটি মুহুর্তে Aim in life পড়ে মুখে-ঠোঁটে ফেনা তুলে ফেলেছি, বুঝতেই পারিনি আসলে Aim in life কি। বুঝলে হয়তো জীবনের চরম এই উপলব্ধিটুকু হতো না।
রঙ্গিন ভাবনার দুনীয়ায় সব কিছুই রঙ্গিন। ঘর থেকে বের হলে শুধু রঙ্গের ছড়াছড়ি। এতো রঙ্গের মাঝে মা-বাবার বকুনিটুকুই ছিল আসল, নির্ভেজাল। আহাঃ যদি বুঝতাম। বুঝিনি, খুঁজে বেড়িয়েছি পোষ্টারিং আর দেওয়াল লিখনীতে, রাতভর জেগে থেকে রঙ্গিন দেওয়ালের শ্লোগানগুলোতে জীবনের মানে খুঁজেছি। হাদারাম কোথাকার, বলার মতো কেউ ছিল না।
জীবনের দু’চাকার ছোট্ট গাড়িটা বার বার ব্রেক কষেছে, ক্যাৎ, কোৎ শব্দে। সুখ-দুখের স্মৃতির মাঝখানে বিরতি, আবার কু ঝিকঝিক ঝিকঝিক, প্যাও, প্যাও শব্দ। বর্ণচোরা মন, স্থির থাকেনি। এ ডাল থেকে ও ডালে, ও ডাল থেকে এ ডালে, ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ। ছাইচাপা দুখগুলোকে উল্টেপাল্টে দেখেছি, দেখি সুখ পাই কিনা, এ মন্ত্রে। ত্রি-চক্রযানের পাইলট, কখনো ট্যাক্সি ড্রাইভার, বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি, কতযে রূপে সাজিয়েছি তাকে।স্থায়ী হয়নি কোনটাই। গাঁদা ফুলের মালা কতক্ষণই বা সুবাস ছড়ায়। সুবাস ছড়াতে পারিনি। ফুসফাস করে কেন যে সত্য কথাগুলো বের হয়ে আসতো, কে জানে।মুখ থেকে নয়, বুক থেকে। তাইতো, শেষমেষ সাবার চক্ষুশুল। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, বিধিরাম সর্দার।
জীবনকে দেখেছি পথেঘাটে লাঞ্চিত হতে। ময়লা-আবর্জনার স্তুপে খুচিয়ে খুচিয়ে জীবনের এলোমেলো স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে গুছানোর অব্যাহত ব্যার্থ চেষ্টায়রতদের দেখেছি।দু’এক টাকার জন্য ছোটলোক, টোকাইদের বেধড়ক মারধর করে যারা, তারাই আবার হাজার টাকা দিয়ে মাটির শরীরকে সাজায়। ব্রাশের হালকা পরশে রং মাখে সর্বাঙ্গে । এ যেন রং তুলির আবরণে চরিত্রকে ঢাকার চেষ্টা। ব্যর্থ বলবনা, এ জীবনে সেওতো একটা মানে খুঁজে বেড়ায়।
পাইপের ভেতরে হু হু করে কাঁদতে থাকা জিহাদের অতৃপ্ত আত্না, এক ফোঁটা পানির জন্য রাজনের হাহাকার, আশুলিয়া বা সাভারের বাতাসে ভেসে বেড়ানো লাশের গন্ধ, নিমতলির এডিসদগ্ধ বনি আদমদের নিরবে চলে যাওয়া, যানবাহনে ও গাড়িতে পুঁড়ে মরা মানুষগুলোর রক্ত, চামড়া, মাংসের পোড়া গন্ধ, ঈদের পূর্বেই ঈদ বোনাস ও বেতনের দাবীতে অনশনরত বান্দাগুলো জীবনের মানেকেই ম্লান করে দেয়। তৈরী করে এক একটি ইতিহাস।
সৃষ্টিকর্তা জীবন গড়ে, কিন্তু চলে মর্ত্যের দেবতাদের ইশারায়। এরা অদৃশ্য। জনতার ভাগ্যকে দুহাতে পিষে নানা রূপ দান করে এরা। তারা জীবনের দৃশ্যপট পরিবর্তন করে, ভাগ্য নির্ধারন করে। এদের ইশারায় তৈরী হয় বড় বড় রাজ প্রাসাদ, সিড়ি থেকে শেষপ্রান্ত পর্যন্ত যেখানে মৃদু রঙ্গিন আলোর হাতছানি। এখানে নিত্য ইতিহাস রচিত হয় যার শুরু আছে কিন্তু শেষ থাকতে নেই। (সমাপ্ত)

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৪১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×