ভার্চুয়াল জগতটা মানুষের সামাজিকতায় অনেকটা বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে, কি বলেন? এখন মানুষের বন্ধু হাতেগুনা নয়, অসংখ্য। এক সময় বন্ধুত্বে বিচ্ছেদ ছিল একটা বিশাল ঘটনা আর এখন? এখন সকালে বন্ধুত্ব হয় বিকালে তাকে ব্লক মারা হয়।
বাবা যার বন্ধু, ছেলেও তার বন্ধু। আগে ছিল চাচা-ভাতিজা।
এজগতের কল্যানে এখন অনেক সময়ের কাজ অল্প সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। এখন যে কোন সংবাদ, শুভেচ্ছা বিনিময়, সুখ-দুঃখগুলো মুহুর্তেই পুরো পৃথিবী জুড়ে শেয়ার করা সম্ভব হচ্ছে। পার্থক্য একটাই, আগেকার মোয়ামালাত মোয়াশারাত ছিল হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা মিশ্রিত আর এখনকারটা হচ্ছে স্ক্রিনে ভেসে উঠা বিভিন্ন রংয়ের কালারফুল অন্তসার শূন্য কৃত্রিম তামাশা।
আগে কাউকে উপহার দিতে গিয়ে, দাওয়াত দিতে গিয়ে, কুশল বিনিময় করতে গিয়ে পুরো পরিবার ও সমাজের খোজ খবর নেওয়া হতো, খোশ মেজাজে। সুখ দুখের আলাপ করা হতো। কিন্তু এখন? দামি কাপড়, মিষ্টি, হরেক উপহার গিফট করা হয় মোবাইলের স্ক্রিনে। কি আধুনিক রসিকতায় মজে আছি আমরা। আমরা বুঝিনা এই সমস্ত শুভেচ্ছা বার্তায় অভাবির অভাব কমে না, দুখীর দুঃখ লাঘব হয়না। বরং দারিদ্রতাকে আরো উসকে দেয়া হয়।
তাই বিভিন্ন উপলক্ষে যারা আমাকে ম্যাসেজ করেন আমি সেগুলো দেখে হাসি। বিপদে পড়ে যার কাছে দশ টাকা ধার পাওয়া যায় না, সমস্যায় পড়লে যে ব্যাক্তি আমার ঘাড় ধরে সমস্যার সমুদ্রে আকণ্ঠ চুবিয়ে মারতে চায় সে নাকি আমার ও আমার পরিবারের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে। তামাশা আর বিনোদন যাকে বলে আরকি।
আমার আপনার আশে পাশে এধরনের ভদ্রলোক অগুনিত। আসুন, এদেরকে চিনি, এদেরকে জানি। নয়তো বড় সমস্যায় ফেলে দিয়ে এরাই আপনার পিঠ চুলকাবে সবার আগে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৮ রাত ১২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



