somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাদ পড়ছেন মাশরাফি!:((:((:((

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইনজুরিতে পড়া মাশরাফির কাছে নতুন কিছু নয়। ফেরাটাও। দুর্ভাগ্যজনক পতন ও রাজসিক পুনরুত্থানের এ কাব্যের বয়স মাশরাফির ক্যারিয়ারের সমানুপাতিক। ব্যতিক্রম সর্বশেষবার। এবং এবার। আর ভয়টা সেখানেই। গতবারের বিস্ফোরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটে যায়!
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শিকার হওয়া ইনজুরির ধকল সামলাতে আট মাস লেগেছিল নড়াইল এঙ্প্রেসের। ফিরলেন ভয়-আশঙ্কা-অনিশ্চয়তা আর অভিমান সঙ্গী করে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে খেলেই আবার বাইরে! এবারের কারণ ইনজুরিজনিত নয়, কোচ জেমি সিডন্স আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আচরণগত। 'মাশরাফি ম্যাচ খেলার মতো ফিট নয়'_ঘোষণা দিয়ে তাঁকে একাদশের বাইরে ছুড়ে ফেলে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রতিক্রিয়ায় হোটেল ছেড়ে চলে যান মাশরাফি। এবারও যে একই নাটকের পুনর্মঞ্চায়ন হবে না, তা কে বলতে পারে! সেই সিডন্সই কোচ, 'ভার' কাটিয়ে সেই সাকিবই এখন পুরোদস্তুর অধিনায়ক। আর সেবারের মতো এবারও তো মাশরাফির ফেরাটা জীর্ণ-শীর্ণ, মলিন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ৬-০-৩৭-০। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৬-০-৩৬-০ এবং ৩-০-১৭-০। ফিটনেস-পারফরম্যান্সের যুগল দোহাইয়ে তাঁকে বাদ দিলে কার কী বলার আছে!
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ওয়ানডেতেই একটি করে বোলিং স্পেলের সুযোগ পেয়েছিলেন। 'সুযোগ'ই বলতে হবে, কারণ সফরকারীরা স্পিনে এতটাই দুর্বল যে প্রথম ম্যাচে ৬ ওভার এবং দ্বিতীয়টিতে ৩ ওভারের পর তাঁকে আর ডাকারই প্রয়োজন পড়েনি অধিনায়ক সাকিবের। তার পরও দ্বিতীয় ওয়ানডেটা একটু আলাদা করে উল্লেখের দাবি রাখে। ১১৬ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এর আগে মাত্র তিনবার ইনিংসে ৩ ওভারের চেয়ে কম বোলিং করেছিলেন মাশরাফি। সর্বশেষটি তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ ওভার করার পর ইনজুরিতে পড়ায়। ২০০৮ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তান মাত্র ১৯.৪ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পেঁৗছে গেলে ৩ ওভারের বেশি করা হয়নি মাশরাফির। অন্যটি ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৩ রানে অল আউট হওযার সেই ম্যাচ। সেখানে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম-ঝড়ে মাত্র ৬ ওভারে ম্যাচ শেষ। মাশরাফি করেছিলেন ২ ওভার।
এবারের ব্যাপার ভিন্ন। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বোলিংয়ের ডাক পড়ছে না। কারণ জিম্বাবুয়ের স্পিন-জুজু। সেটি মানছেন মাশরাফি নিজেও, 'পেস বোলিংয়ে আমরা ইনিংসের শুরুতে ভালো বোলিং করতে পারিনি। আর স্পিনাররা আসার পর থেকেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা ধুঁকছিল। এ কারণে পেসারদের সেভাবে বোলিং করা হয়নি। স্পিন দিয়েই সাজানো হচ্ছে বোলিং আক্রমণ।' শুধু নিজের নয়, পেস বোলিংটাই সামগ্রিকভাবে আরো ভালো করার প্রয়োজনীয়তাটুকু ঠিকই টের পাচ্ছেন তিনি, 'এ কন্ডিশনে পেস বোলিং করা সব সময়ই কঠিন। তার পরও ভালো জায়গায় বোলিং করা যায়। সেটি প্রথম দুই ম্যাচে আমরা কেউ করতে পারিনি। তবে আমাদের পেসারদের এর চেয়ে ভালো বোলিং করা দরকার। বিশেষত বড় দলগুলোর বিপক্ষে পেসাররা ভালো বোলিং না করলে দলকে সমস্যায় পড়তে হবে।'
প্রতিপক্ষের স্পিন-ভীতি, সতীর্থ পেসারের ভালো বোলিং না করা_এসব ছাপিয়ে মাশরাফিই উঠে আসছেন আলোচনার ভরকেন্দ্রে। ভালো বোলিং করতে না পারায় ম্যাচ প্র্যাকটিসকেই দুষছেন তিনি, 'নেটে তো ভালো বোলিং করছি। তবে ম্যাচ প্র্যাকটিস আসলে ভিন্ন ব্যাপার। সেই সুযোগটা সেভাবে পাইনি। গত ১৭ মাসে আমার যত ম্যাচ খেলা দরকার ছিল, তত খেলতে পারিনি।' পারেননি বলে তো আর হা-হুতাশ করে লাভ নেই। এ পরিস্থিতি মাড়িয়েই ফিরে আসার প্রত্যয় ঝরেছে মাশরাফির কণ্ঠে, 'এখান থেকেই আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। খেলতে খেলতেই পেরিয়ে আসতে পারব দুঃসময়। প্র্যাকটিসটা যেভাবে করছি, করে যাব। আর ম্যাচেও আগের চেয়ে একটু বেশি মনোযোগ দেব।'
বোলিং কোচ ইয়ান পন্টকে কোনো বিষয়ে শিষ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে দেখা গেল না। মাশরাফির দুর্দশার কারণ ও ফিরে আসার আশাবাদ ঠিকই শুনিয়েছেন তিনি, 'মাশরাফি আসলে খুব দুর্ভাগা যে ইনজুরির পর সরাসরি তাকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। মাঝে যদি দু-একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে পারত, সেটি খুব ভালো হতো। প্রথম ম্যাচে তাই স্বাভাবিক কারণেই খুব নড়বড়ে মনে হয়েছে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আশা করছি, কয়েকটি ম্যাচ খেললে দ্রুত সে ছন্দে ফিরবে।' মাশরাফির মাশরাফিতে ফেরায় অভিন্ন আশাবাদ সিডন্সেরও। প্রথম দুই ম্যাচের গড়পড়তা পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ ভিন্নভাবে করেছেন তিনি, 'আসলে গত সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তো ও ইনজুরিতে পড়েছিল। এটিই হয়তো মনের কোণে উঁকিঝুঁকি মেরে থাকবে। এ কারণে মানসিকভাবে ঠিক ততটা উজ্জীবিত ছিল না মাশরাফি। কয়েকটি ম্যাচ খেললে ও নিজেতে ফিরে আসবে।' সেটি কি এ সিরিজের কয়েকটি ম্যাচ? এবার অনিশ্চয়তায় দোলানো রহস্যময় হাসি সিডন্সের, 'কয়েকটি ম্যাচ খেলেও মাশরাফি ছন্দে ফিরতে পারে আবার কয়েকটি নেট সেশনেও।'
ধন্ধে ফেলে দেওয়া কথা। নেট সেশন করে ফেরার প্রেসক্রিপশন নিশ্চিতভাবেই 'মনে' নেবেন না মাশরাফি। মেনে কি নেবেন?সূত্র




সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×