এক বিকেলে নীলক্ষেত থেকে বই কিনে ফিরছিলাম আমার হলে (সূযসেন হল) গেটের কাছে আসতেই দেখি বড় জটলা, আর ”মার শালারে” বলে অনেকের হুংকার ধ্বনি, কারো হাতে তখন শোভা পাচ্ছিল চেয়ারের পায়া, রড, লোহার পাইপ ইত্যাদি । আর জটলার মধ্যমণি হয়ে যে ছিল, সে হচ্ছে এক ছিচকে চোর, যে কিনা হলের কোন এক রুমের সামনে থেকে এক জোড়া জুতা চুরি করেছিল।লোহার রড, লাঠি ইত্যাদির মাধ্যমে চোরটাকে আপ্যায়ন শেষে যখন কলার ধরে টেনে-হেচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল গেস্টরুমে বেধেঁ রাখার জন্যে, তখন দেখি তার নাঁক মুখ দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, আর হাত-পা ভেঙ্গে রক্তাক্ত থাকার কারণে হাটতে না পাড়ায় হেচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা দেখে আমার চোখ ছলছল করে উঠেছিল, করুণাও হয়েছিল তার জন্যে।মানিব্যাগে থাকা কয়েকটি ওয়ান টাইম ব্যান্ড এগিয়ে দিয়েছিলাম একজনের হাতে।
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে এটা মোটেও ঠিক হয়নি। দরকার ছিল তার কপালে দুইটা লাথি মেরে বলা,” শালা জুতা চুরি করিস, তোর কপালে লাথি জুটবে না তো স্যালুট জুটবে।ক্যান তুই একজনের সম্পদ চুরি করেছিস, দেশের সম্পদ চুরি করতে পারলি না? বিদ্যুতের খাম্বা কিংবা সহস্র এতিমের খাবার একা খেতে পারলি না? আর তা না পারলি একটা সেতু চুরি করেতো অন্তত সহস্র মানুষের স্বপ্ন চুরি করতে পারতি? শালা তোর তো কোন আমলেই ঠাই নেই।
হয়ত তার মা আমার মায়ের মত দোয়া চাইলে বলত, অনেক বড় হ বাবা। কিন্তু এটা তো ঠিক না, এটা বলে তো এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিল। ভাল কিছু না পারুক অন্তত বলতে পারত, তুই অনেক বড় চোর হ বাবা। তাহলে তো তার ভাগ্যে এই পিটুনি জুটত না, জুটত ফুলের মালা স্যালুট কিংবা নমিলেশন, আবার অন্যান্য সমগোত্রীয়দের কাছ থেকে হয়ত জুটত দেশপ্রেমিক আখ্যা।কারণ, যেখানে চোরদের জন্য শুধু আইনের স্বীকৃতি ছাড়া আছে বেকসুর খালাস, কালোটাকা সাদা করা, পুজি বাজার থেকে সহস্র মানুষের পুজি চুরি করাসহ সব রকমের মুখরোচক ব্যবস্থা। এত কিছু থাকতে তুই গেলি জুতা চুরি করতে। শালা তুই মর। তোর তো এই দেশে বেচে থাকারও অধিকার নেই। জন্মেছিস তো চুনোপুটি হয়ে, যদি পারিস রাঘব বোয়াল হয়ে এই দেশে জন্মিস, যেন একগ্রাসে দেশটাকে টুকরো টুকরো করে খেতে পারিস।তাহলে তোর বেডলাক ভাল হলে দেশের হন্তাকর্তাও হয়ে যেতে পারিস,

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


