রম্য- ডিজিটাল
আমরা সবাই খলিফাদের আমলের একটি কাহিনী জানি, কিন্তু সেই কাহিনীর ব্যতিক্রম জানি না। সংক্ষেপে কাহিনীটি ছিল এমন, এক বাচ্চাকে নিয়ে দুই মহিলা (তখনকার আমলে দুই মহিলা নামে কোন গালি ছিল না) কাজীর কাছে গেল বিচার নিয়ে। দুইজনই বলছে যে, এটা আমার বাচ্চা।কাজীতো পড়ে গেল মহাফ্যাসাদে, দুইজন বাপ বললেও কথা ছিল, কিন্তু দুই মা আবার কেমনে হয়, আবার DNA টেস্টেরও কোন ব্যবস্থা নাই। তখন কাজী বুদ্ধি করে বলল, ঠিক আছে, বাচ্চাটাকে কেটে দুইভাগ করে দুই জনকে দিয়ে দাও। তখন যে আসল মা সে চিৎকার করে বলে উঠল, নাহ্ আমার বাচ্চা দরকার নাই, বাচ্চাটা তাকেই দিয়ে দাও, কারণ বাচ্চাটার সাথে তার ভালবাসার সম্পর্ক্। আর অন্যজন ভাবল, পেলে লাভ না পেলে লস, পেলে বাচ্চাটাকে দিয়ে কত কিছু করানো যাবে, বাসার কাজ করানো যাবে, ইচ্ছা করলে একটা প্লেট দিয়ে রাস্তায় বসিয়ে দিলেও প্রচুর ইনকাম, এমনকি বেঁচেও দেয়া যাবে।
এখন একটু ভাবুন, যদি দুইজনই নকল মা হত তাহলে কি কেউ কোন ছাড় দিত? ভাবত কেটে দিলে দিক, আমার কোন প্রবলেম নাই। যা পাই তা-ই লাভ। কিডনি, চোখ কত কিছু বেচা যাবে, মাংসগুলো বেচে দিমু পশুখাদ্য হিসেবে চিড়িয়াখানায় আর হাড়গুলো বেচে দিমু বোতাম বানানোর কারখানায় আর না হলে হাড়গুলি দিয়া ডুগডুগি বাজামু। যা পাই তা-ই লাভ।
যাই হোক, সেই কাজী কবর থেকে উঠে আসল এক আজব রাজ্য্ ভিজিটিংয়ে, এসে দেখে রাজ্য নিয়ে ব্যাপক গ্যাঞ্জাম চলছে ,এক রানি বলে সিংহাসন আমার চাই, অন্যজন বলে আমার চাই, পুরো রাজ্য আমার লাগবেই। তখন কাজী শুনে মুচকি হাসে, ভাবে এ আর এমনকি প্রবলেম, তার মাথায় তখন সেই বাচ্চা নিয়ে বিচারের ঘটনা মনে আসল।কাজী ভাবল এত বড় রাজ্য্ আর এতগুলো প্রজাকেতো কাটাকাটি করা যাবে না, তাহলে কমবেশি হলে আবার ঝগড়াঝাটি লাগাবে। তাই কাজী বলল, ঠিক আছে, দুইজনেরই যেহেতু রাজ্য লাগবে, তাহলে আগুন জ্বালিয়ে, ককটেল আর পেট্রোল বোমা মেরে প্রজা আর রাজ্যটাকে ছাই বানিয়ে দাড়িপাল্লা দিয়ে মেপে তোমাদের দুইজনকে সেই ছাই সমানভাগে ভাগ করে দেই।তখন একজন বলল, নাহ, এতে আমি নীল নকসা ও সূক্ষ কারচুপির গন্ধ পাচ্ছি, তাই মাপতে হবে ডিজিটাল মেশিনে।তখন কাজী বলল ঠিক আছে, তাই হবে। তখন দুইজনই বলল দেন, কোন সমস্যা নাই, কারণ স্বার্থের ব্যপারে দ্বিমত করে লাভ নাই, স্বার্থের ব্যাপারে আমরা দু্জনই এক । যা পাই তা-ই লাভ। সেই ছাই দিয়া আমি দাত মাজুম, হাড়ি পাতিল মাজুম নো প্রবলেম। আরেকজন বলে নাহ্, ছাই দিয়ে দাত মাজলে চার-ছয় মারা যাইব না, টিভির এ্যডে আমারে তামিম ভাই কইছে, আমি ছাইগুলো কোন কোম্পানির কাছে বেইচ্যা দিমু। তারা ভিম, হাড়পিকের মত ১০০ লেবুর শক্তি লাগাইয়া বেইচ্যা দিব, আর না হয় ছাইয়ের জুস বানাইয়া বেইচ্যা দিক, আমার কি। আর OLX তো আছেই, দেখেন না এ্যাডে যে বলে, এখানে সব বেঁচা যায়; আর bikroy.com এ যামু না, এখানে বিক্রয় কারলে আবার নাচতে হয়, সেই বয়স কি আর আছে। যাই হোক, আমার লাভ হইলেই হইল, প্রফিট ইজ দ্যা আলটিমেট সল্যুশন।
তখন কাজী ভাবে, ওমা, একি!! আমি বরং কবরে গিয়ে ঘুমাই, আর বিচার কইরা আমার কাম নাই। এই বুঝি ডিজিটাল যুগ আইসা পড়ছে। এই ঘটনা শুইন্যা কাজীর পাশের কবরের লোক একটেলের এ্যাডের ভাষায় কইল, আমি আগেই ক্ইছিলাম, ডিজিটাল যুগ আইব। এইখানে মায়া, মোহাব্বত, ইশক, পেয়ার বলে কিছু থাকব না।
মোড়াল: ভালবাসার সম্পর্ক্ না থাকলে ছাড় দেয়ার কোন ব্যাপার থাকেনা, আর ব্যবসায়িদের কাছে সব কিছু নিরাপদ নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


