somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরোটাই কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে মিলে গেলে আমার কোন দোষ নাই (রম্য-২)

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রম্য- ডিজিটাল

আমরা সবাই খলিফাদের আমলের একটি কাহিনী জানি, কিন্তু সেই কাহিনীর ব্যতিক্রম জানি না। সংক্ষেপে কাহিনীটি ছিল এমন, এক বাচ্চাকে নিয়ে দুই মহিলা (তখনকার আমলে দুই মহিলা নামে কোন গালি ছিল না) কাজীর কাছে গেল বিচার নিয়ে। দুইজনই বলছে যে, এটা আমার বাচ্চা।কাজীতো পড়ে গেল মহাফ্যাসাদে, দুইজন বাপ বললেও কথা ছিল, কিন্তু দুই মা আবার কেমনে হয়, আবার DNA টেস্টেরও কোন ব্যবস্থা নাই। তখন কাজী বুদ্ধি করে বলল, ঠিক আছে, বাচ্চাটাকে কেটে দুইভাগ করে দুই জনকে দিয়ে দাও। তখন যে আসল মা সে চিৎকার করে বলে উঠল, নাহ্ আমার বাচ্চা দরকার নাই, বাচ্চাটা তাকেই দিয়ে দাও, কারণ বাচ্চাটার সাথে তার ভালবাসার সম্পর্ক্। আর অন্যজন ভাবল, পেলে লাভ না পেলে লস, পেলে বাচ্চাটাকে দিয়ে কত কিছু করানো যাবে, বাসার কাজ করানো যাবে, ইচ্ছা করলে একটা প্লেট দিয়ে রাস্তায় বসিয়ে দিলেও প্রচুর ইনকাম, এমনকি বেঁচেও দেয়া যাবে।

এখন একটু ভাবুন, যদি দুইজনই নকল মা হত তাহলে কি কেউ কোন ছাড় দিত? ভাবত কেটে দিলে দিক, আমার কোন প্রবলেম নাই। যা পাই তা-ই লাভ। কিডনি, চোখ কত কিছু বেচা যাবে, মাংসগুলো বেচে দিমু পশুখাদ্য হিসেবে চিড়িয়াখানায় আর হাড়গুলো বেচে দিমু বোতাম বানানোর কারখানায় আর না হলে হাড়গুলি দিয়া ডুগডুগি বাজামু। যা পাই তা-ই লাভ।

যাই হোক, সেই কাজী কবর থেকে উঠে আসল এক আজব রাজ্য্ ভিজিটিংয়ে, এসে দেখে রাজ্য নিয়ে ব্যাপক গ্যাঞ্জাম চলছে ,এক রানি বলে সিংহাসন আমার চাই, অন্যজন বলে আমার চাই, পুরো রাজ্য আমার লাগবেই। তখন কাজী শুনে মুচকি হাসে, ভাবে এ আর এমনকি প্রবলেম, তার মাথায় তখন সেই বাচ্চা নিয়ে বিচারের ঘটনা মনে আসল।কাজী ভাবল এত বড় রাজ্য্ আর এতগুলো প্রজাকেতো কাটাকাটি করা যাবে না, তাহলে কমবেশি হলে আবার ঝগড়াঝাটি লাগাবে। তাই কাজী বলল, ঠিক আছে, দুইজনেরই যেহেতু রাজ্য লাগবে, তাহলে আগুন জ্বালিয়ে, ককটেল আর পেট্রোল বোমা মেরে প্রজা আর রাজ্যটাকে ছাই বানিয়ে দাড়িপাল্লা দিয়ে মেপে তোমাদের দুইজনকে সেই ছাই সমানভাগে ভাগ করে দেই।তখন একজন বলল, নাহ, এতে আমি নীল নকসা ও সূক্ষ কারচুপির গন্ধ পাচ্ছি, তাই মাপতে হবে ডিজিটাল মেশিনে।তখন কাজী বলল ঠিক আছে, তাই হবে। তখন দুইজনই বলল দেন, কোন সমস্যা নাই, কারণ স্বার্থের ব্যপারে দ্বিমত করে লাভ নাই, স্বার্থের ব্যাপারে আমরা দু্জনই এক । যা পাই তা-ই লাভ। সেই ছাই দিয়া আমি দাত মাজুম, হাড়ি পাতিল মাজুম নো প্রবলেম। আরেকজন বলে নাহ্, ছাই দিয়ে দাত মাজলে চার-ছয় মারা যাইব না, টিভির এ্যডে আমারে তামিম ভাই কইছে, আমি ছাইগুলো কোন কোম্পানির কাছে বেইচ্যা দিমু। তারা ভিম, হাড়পিকের মত ১০০ লেবুর শক্তি লাগাইয়া বেইচ্যা দিব, আর না হয় ছাইয়ের জুস বানাইয়া বেইচ্যা দিক, আমার কি। আর OLX তো আছেই, দেখেন না এ্যাডে যে বলে, এখানে সব বেঁচা যায়; আর bikroy.com এ যামু না, এখানে বিক্রয় কারলে আবার নাচতে হয়, সেই বয়স কি আর আছে। যাই হোক, আমার লাভ হইলেই হইল, প্রফিট ইজ দ্যা আলটিমেট সল্যুশন।

তখন কাজী ভাবে, ওমা, একি!! আমি বরং কবরে গিয়ে ঘুমাই, আর বিচার কইরা আমার কাম নাই। এই বুঝি ডিজিটাল যুগ আইসা পড়ছে। এই ঘটনা শুইন্যা কাজীর পাশের কবরের লোক একটেলের এ্যাডের ভাষায় কইল, আমি আগেই ক্ইছিলাম, ডিজিটাল যুগ আইব। এইখানে মায়া, মোহাব্বত, ইশক, পেয়ার বলে কিছু থাকব না।

মোড়াল: ভালবাসার সম্পর্ক্ না থাকলে ছাড় দেয়ার কোন ব্যাপার থাকেনা, আর ব্যবসায়িদের কাছে সব কিছু নিরাপদ নয়।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×