somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরের অভাব মনে করিলে চিন্তন, নিজের অভাব ক্ষোভ রহে কতক্ষণ ?

১৫ ই মে, ২০১৪ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ রক্ত দিতে গেলাম রেড ক্রিসেন্টে। আমার পাশে বসা ছিল এক লোক, সে এই প্রথম রক্ত দিতে এসেছে, তাই খুব ভয় পাচ্ছে। যার রোগীকে রক্ত দিতে এসেছে, সে অনেকক্ষণ তাকে বুঝাল যে কিছুই হবেনা, মাত্র ৫ মিনিটের ব্যপার (অনেকক্ষণ ধরে বিভিন্নভাবে বুঝাচ্ছে, আর আমি শুনে হাসছি তার ভয় দেখে; ডোনারটির মনে হয় একদমই অভিজ্ঞতা নেই এসব নিয়ে) । এই বলে সে কাগজপত্র নিয়ে ভিতরে গেল। তখন ডোনার আমাকে জিজ্ঞাস করছে,
ভাই, রক্ত ক্যামনে নিবে?
আমিঃ ওই যে দেখছেন ব্লেড, ওইটা দিয়ে প্রথমে কাটবে, তারপর ওই লাল বালতিতে জমা করে আধা বালতি ভরে নিয়ে যাবে। ব্যান্ডেজ আনছেন? নিয়ে আসেন, রক্ত দেয়ার পর ব্যান্ডেজ করে দিবে।
ডোনারঃ ধুর মিয়া, ফাজলামি করেন ক্যান। ওই ভাইতো কইল, এটা সুই ডুকাইয়া রক্ত নিব একটা ব্যাগে। আচ্ছা ভাই ব্যাথা লাগব?
আমিঃ কি করেন আপনি?
ডোনারঃ চাকরি।
আমিঃ ছুটি নিয়েছেন? তিন দিনের ছুটি নিবেন। এমন ব্যথা লাগবে যে, জ্বরও আসতে পারে। তাই ছুটি নিয়ে ৩ দিন রেস্টে থাকবেন।
ডোনারঃ আরে, ওই ভাই তো বলল তেমন কোন ব্যথা লাগবে না। শুধু একটু পিপড়ায় কামড় দিব।
আমিঃ ধুর মিয়া। হাসপাতালে এতো পিপড়াঁ পাবে কোথায়। আর পাঁচ মিনিট ধরে পিপড়ায় কামড় দিলে চিন্তা করেন কত ব্যথা লাগতে পারে!! আর কোন পিপড়ায় কামড় দিবে সেটা তো বলে নাই। এইটা হচ্ছে বিষপিপড়াঁর কামড়ের মতন। এখন বোঝেন, কেমন লাগতে পারে।
ডোনারঃ ধুর রক্তই দিমু না। আজাইরা কামে আইলাম। আমার মা,য় না করছিল। অনেক জোড়াজুড়ি করায় আসলাম। জাইগা ভাই.........
আমিঃ আরে ভাই শোনেন, ওই রোগীর মত যদি আপনিও অসুস্থ হতেন অথবা দুর্ঘটনায় পড়তেন, তাহলে কি বলতেন যে, ধুর এত কষ্ট, থাক, রক্তই নিব না, মরলে মইরা যাব। নাকি গরু, ছাগল বা ‍মুরগির রক্ত নিতেন!
ডোনারঃ নাহ্, যারা সচরাচর রক্ত দেয়, তাদের কাছ থেকে নিব। অথবা ব্লাড ব্যাংক থেকে নিব।
আমিঃ ব্লাড ব্যাংক কি রং মিশিয়ে রক্ত বানায়? আর আপনি যে ব্যথা নিজে পেতে চাচ্ছেন না, সেই ব্যথা অন্যকে দিবেন কেন? অন্যকে ব্যথা দেয়ারতো আপনার কোন অধিকার নেই।
ডোনারঃ হুম তাইতো। না ভাই, আগে দেই নাই তো, তাই ব্যথার জন্য ভয় পাচ্ছিলাম।
আমিঃ এখন যে ব্যথার ভয়ে রক্ত দিতে চাচ্ছেন না,আল্লাহ না করুক আপনার কোন সমস্যা হলে সেই একই প্রক্রিয়ায়ইতো আপনাকে রক্ত নিতে হবে, নাকি ভাবছেন গ্লাসে করে রক্ত দিবে, আর আপনি ঢকঢক করে খেয়ে ফেলবেন?
ডোনারঃ সরি ভাই, এতো কিছু ভাবি নাই। নাহ্, আসছি যখন রক্ত দিয়াই যামু যত ব্যথা লাগে লাগুক।
আমিঃ ধন্যবাদ ভাই। নিজের একটু ব্যথায় যদি অন্যের জীবন বাচেঁ, তাহলে খারাপ কি। রোগী তো আরো অনেক কষ্ট করছে, আর ভাবুনতো তার পরিবারের মানসিক অবস্থা এখন কেমন। সে সময় আপনি আমি যদি একটু সাপোর্ট দেই, তাহলে ভাবুন কত সোওয়াব হবে। মানুষের ভাল করার জন্য এটা তো একটা অপরচুনিটি। আপনি ভাগ্যবান যে এই অপরচুনিটি আপনি পেয়েছেন।
ডোনারঃ হুম, ঠিক বলছেন। আমি এখন থেকে প্রায়ই রক্ত দেয়ার চেষ্ট করব। আমার বন্ধুদেরও বলব রক্ত দিতে।
আমিঃধন্যবাদ আপনাকে। আসলে রক্ত দিতে তেমন কোন ব্যথা লাগে না; শুধু সুই ডুকানোর সময় একটু ব্যথা লাগে। তারপর আর টেরই পাবেন না। আর অন্যের ব্যথার কথা যখন চিন্তা করবেন, তখন এটা কোন ব্যথাই মনে হবে না। সম্ভব হলে রোগীকেও একটু দেখে যাবেন। তাহলে বুঝবেন যে, আপনার শারীরিক একটু কষ্টে যে কতটা মানসিক প্রশান্তি হয়, আপনি কতটা মানসিকভাবে তৃপ্ত হন। অন্যের উপকার করার এই এক শান্তি।
"One of the best things in life is seeing a smile on a person’s face and knowing that you put it there."
তারপর আমার পেশেন্ট আসায় সেই লোকটার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলাম রক্ত দিতে...
বিভিন্ন সময় প্রয়োজনে রক্ত সংগ্রহ করতে যে কত জনের কত মিথ্যা কথা, ভয়ের কথা শুনতে হয়েছে, তার হিসাব নেই। এই লোক যদি কিছুটা ভীতু হয়, তাহলে ভাবেন ওরা কেমন? আমি না হয় না,ই বললাম।
শুধু কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতার একটা পংক্তি বলি......
”পরের অভাব মনে করিলে চিন্তন
নিজের অভাব ক্ষোভ রহে কতক্ষণ ?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×