somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'স্বপ্নের' ঋণ শোধ হলোনা ফারুকের

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জয়পুরহাট, ফেব্র"য়ারি ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- শিক্ষা ঋণ দিয়ে চলছিল তার লেখাপড়ার খরচ। স্থানীয় একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া ৭৭ হাজার টাকার এখনো ১০ হাজার টাকা তোলাই হয়নি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত শেষবর্ষের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেনের ঋণ নিয়ে বোনা জীবন গড়ার স্বপ্ন দপ করেই নিভে গেছে। সোমবার গভীর রাতে ছাত্রশিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষের 'সর্বনাশ' লাশ করে দিয়ে গেছে বর্গাচাষী ফজলুর রহমানের ২৩ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে ফারুককে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘাতে দিন মজুরের ছেলে মেধাবী ছাত্র আবু বকর নিহত হওয়ার সপ্তাহ ঘুরতেই রাজশাহীতে আরেক মেধাবীর প্রাণ ঝরলো অকালে।

হত দরিদ্র পাঁচ সদস্যের এই পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ফারুকের বাবা ফজলুর রহমান। তিন সন্তানের মধ্যে ফারুকই একমাত্র ছেলে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, ফারুকদের ভিটে-মাটিসহ জমি রয়েছে মাত্র দেড় বিঘা। ছেলের পড়াশুনার খরচ চালাতে শেষ সম্বল আবাদি জমি বন্ধক রেখে এখন নিঃস্ব প্রায় ফজলু।

ছেলের মৃত্যুর খবর যেন কিছুতেই তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। আগন্তুককে দেখলেই ফজলুর সহজ সরল ভাষায় জানতে চাইছেন- "আমার ফারুক কি সত্যই মারা গেছে?"

মা হাসনা খাতুনের আর্তনাদ, "হামার ছবি তুলি কি হবে, তোমরা হামার বাবাক আনি দেও"।

ছোট বোন টপি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে শ্বশুরবাড়ি থেকে ছুটে এসেছেন বাবার বাড়ি।

তিনি জানান, দু'দিন আগেও ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে তার কথা হয়েছিল।

"ভাই আমাকে বলেছিল, আর মাত্র দুই বছর পর আমি বড় অফিসার হবো, তখন আর তোদের কোন কষ্ট থাকবে না", বিলাপ করছিলেন টপি।

ফারুক ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে স্কুলে প্রতি বছর প্রথম হতেন। এসএসসি ও এইচএসসিতেও জিপিএ +৫ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও সেই ধারাবাহিকতা রেখেছেন অটুট। �াতক (সম্মান)-এ প্রথম বিভাগ পেয়েই উত্তীর্ণ হন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×