লাল-নীল কাগজমালায় মোড়ানো কলাগাছের ফটক পেরিয়ে লাজনম্র নববধূ যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। সঙ্গে তার নানী-দাদি, দু'একজন সখী ছাড়াও রঙিন টিনের বাক্স। আর সেই বাক্সে আছে নিপুণ হাতে তৈরি একটি নকশিকাঁথা। একটু পেছন ফিরে তাকালে ঐতিহ্যসচেতন যে কারও চোখের সামনে কল্পনায় ভেসে উঠবে এমন দৃশ্য। এক সময় জামালপুরের গ্রামীণ বিয়েশাদিতে নকশিকাঁথা ছিল অনিবার্য। নতুন কনের শ্বশুরবাড়ি যাত্রায় বাবার বাড়ি থেকে নকশিকাঁথা নেওয়ার রেওয়াজ দীর্ঘদিন থেকেই ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসছে এ অঞ্চলে। শুধু নকশিকাঁথা নয়, নানা কারুকাজ করা দস্তরখানও ছিল জামালপুরের গ্রামীণ সমাজে অনিবার্য একটি অনুষঙ্গ। বিয়েশাদি ছাড়াও মেহমানের সামনে দস্তরখান বিছিয়ে খাবার পরিবেশন ছিল আভিজাত্যের প্রকাশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দস্তরখান হারিয়ে গেলেও ঐতিহ্যবাহী নকশিশিল্প আবার জেগে উঠেছে জামালপুর জেলাজুড়ে। নকশি সূচিশিল্পের বাণিজ্যিক প্রসারে দরিদ্র এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও বেশ পাল্টে গেছে। জেলায় অসংখ্য দরিদ্র নারী জড়িয়ে পড়েছে এই শিল্পের সঙ্গে। কিন্তু এতকিছুর পরও এখানকার নারী শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমের ন্যায্য পাওনা থেকে। প্রায় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ নকশি সূচিশিল্পের বাণিজ্যিক প্রসার জামালপুরে শুরু হয় আশির দশকের শেষের দিকে। বর্তমানে জামালপুর সদরসহ পুরো জেলায় ৫০ হাজারের বেশি দরিদ্র নারী এই পেশায় জড়িত। এতে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে অনেক হতদরিদ্র নারী। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি তারা ঘরে বসেই নকশিকাঁথা, নকশি চাদর, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কটি, ওয়ালম্যাট, কুশন কভার, শাড়ির নকশি পাড়, থ্রি-পিস ওড়নাসহ নানা রকম নকশি সামগ্রীর সূচিকর্ম করছে।
এছাড়াও বাড়তি আয়ের জন্য অনেক শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরাও জড়িয়ে পড়েছে এ শিল্পের সঙ্গে। শহরের পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে এ শিল্পের অসংখ্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান। পুরনো ঐতিহ্য ও নকশা অনুসরণ করে গ্রামীণ নারীরা সুই, সুতা-রংয়ের সমন্বয়ে কাঁথাসহ এসব দ্রব্যে নানা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে তাদের নিপুণ হাতে। জামালপুরের নকশি পণ্যের কদর বাড়ছে দেশ-বিদেশে। জামালপুর জেলা শহরেও রয়েছে এ শিল্পের ছোট-বড় অনেক শো-রুম। কিন্তু বিপণন সমস্যা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর পুঁজির অভাবে শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক নারীকর্মী। ইচ্ছামতো মালিকের দেওয়া অল্প মজুরিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। আর স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, একটি নকশিকাঁথা তৈরি করতে মজুরিসহ খরচ হয় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে তা বিক্রি করতে হয় ২০০০ টাকায়। এই কাঁথা ঢাকার বড় বড় বিপণিবিতানগুলোতে বিক্রি হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। পুঁজির অভাবে তারা নিজেরা বাজারজাত করতে পারছেন না এসব পণ্য। ফলে পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে নিজেরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি যথাযথ শ্রমমূল্য পাচ্ছেন না নারী শ্রমিকরা। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরীন জাহান এসব কথা স্বীকার করে বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা আর ব্যাংক ঋণ সহায়তা পেলে এখানকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি এসব সূচিপণ্য ঢাকাসহ বড় শহরে নিজেরাই বিপণন আর রপ্তানি করতে পারে। এতে হতদরিদ্র নারী শ্রমিকরা একদিকে যেমন তাদের সঠিক শ্রমমূল্য পাবেন, পাশাপাশি দরিদ্র এই জেলায় গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও অনেকটা পাল্টে যাবে।
আলোচিত ব্লগ
আজকের ডায়েরী- ১৮৫

ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঈদ মোবারক !

আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান
আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা
ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!
আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।