somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিতে গেলাম 'না' ভোট ...:|...অত:পর...

০২ রা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এইবারই প্রথম ভোটার হলাম। কেমন যেন নিজেকে অনেক দায়িত্তবান মনে হচ্ছে যা আগে কখনো এভাবে অনুভব করিনি। রাজনীতি নিয়ে কোনো দিনই মাথা ঘামাই নাই। এরশাদের আমলের কথা কিছুই বলতে পারবো না, একটু যখন বুঝতে শিখেছি বি এন পি শাসনামল ছিল এটুকু শুধু মনে পড়ে। আমার বাবা আওয়ামিলীগ সাপোর্ট করতেন। আমাদের সাথে সবসময় গল্প করতেন, এখনো করেন, তার ছাত্রজীবনের কথা, বিভিন্ন আন্দোলোনের কথা, শেখ মুজিবের সভায় যাওয়া-সাক্ষাত করা, একবার শেখ মুজিব বাবার পিঠে হাত বুলিয়ে দিছেন, কতো আবেগ নিয়ে বাবা এসব গল্প করেন। খুব স্পষ্ট না , কিন্তু মনে আছে, আমার মামা-খালারা বি এন পি সাপোর্ট করেন, আর বাবা আওয়ামিলীগ, এই নিয়ে দুলাভাই-শালা-শালি খালি ঝগড়া, চিল্লাফাল্লা, এক পার্টি আরেক পার্টি কে খেপানো। যখন আরেকটু বুঝতে শিখলাম তখন কার নির্বাচন কি মোটামুটি বুঝতেছি, মামা-খালা রা শিখাই দেয় ধানের শীষ , আর বাবা থেরাপি দেখান নৌকার। কিন্তু তখন অল্পো-বিস্তর বুঝি, মোটামুটি ধারনা হল পরিবর্তন দরকার। বাবার সাথে আমিও একমত হলাম , আমিও নৌকা বলে চিল্লাই আর মামা-খালামনিরা ছুটে আসে কান মলে দিতে। :D

সেবার আওয়ামিলীগ জয়ী হল। নতুনের আমেজ তখন বুঝতে শিখে গেছি। ৫ বছর। অন্য সব ভাল খেয়াল না করলেও একটা জিনিস, টিভি খুললেই নৌকা, ভাষন, অতীত রোমন্থোন। ভাল কথা। বই-পুস্তক সব পরিব্ররতিত, প্রত্যেক বছর ই বই পরিবর্তন। ভাল কথা।কোনো একটা উপলক্ষ , শুরু হল টিভি জুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য শেখ মুজিবের ভাষন। দেখে শুনে আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক যা বুঝল, এটা সম্মান দেখিয়ে করা হচ্ছে না, যেন সেই শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিটির ভাষন হয়ে দাড়াল তাদের বিজ্ঞাপন। যেখানে যাও, যাই কর, টেনে আনো শেখ মুজিব, নিজস্বতা বলতে কিছুই নাই।

যে আমার বাবা আওয়ামিলীগ এর এত ভক্ত, তিনিই চুড়ান্ত বিরক্ত হয়ে উঠলেন , শেখ মুজিবের যতোটা ভক্ত ছিলেন বাবা, তার কন্যার উপর ততোটাই বিরক্ত।

আবার এলো নির্বাচনের দিন। ততোদিনে যথেষ্ট সমোযদার হয়ে গেছি, যদিও ভোটার হতে পারলাম না অল্পের জন্য। তখন সদ্য এইচ এস সি পাস, ভারসিটি - মেডিকেল এ ভর্তির চিন্তায় মাথা খারাপ, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কিছুটা উত্থেজনা ঠিকই কাজ করে, কোচিং এ গেলেই আলোচনার ঝড়, ভালই লাগে। আমার বাবাই সেবার বি এন পি'র কথা বলেন, যদিও বুঝতে পারি মনে আওয়ামিলীগ এর জন্য ব্যথা। আমার বাসার সবাই বি এন পি তে ভোট দিল, জিতল ও বি এন পি, বাবা ভোট দিতে পারেননা, তিনি পলিং এজেন্ট।

তারপরের ইতিহাস সৃতিচারণ করার কিছু নাই, কারো শিখানো দলে সাপোর্ট করার বয়স আর নাই, সব নিজেই বিবেচনা করতে জানি। পরের ৭টি বছর কি ঘটেছে, কি দেখেছি তা আর বলতে হবে না এখানে। যে মামা-খালারা বি এন পি সমরথক, তারাই এখন উলটা পথে।

আমার ছোট বোনটা ভোটার হল, সে 'না' ভোট, আম্মূ কিছহুই দিবেননা। আর আমার বাবা, কিছুই বলেন না, শুধু একটাই কথা বললেন, "নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করতে জান এখন, নিজেই সিদ্ধান্ত নেও কাকে ভোট দিবে।" সভাবতই বাবা পলিং এজেন্ট, ভোট দিবেন না।

আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ দের উপর চুড়ান্ত বিরক্ত আমি ঘোষনা দিলাম 'না' ভোট দিবো। কিন্তু মাথার মধ্যে কি এক দন্ধ , জীবনের প্রথম ভোট টা কি আরেকটু বিবেচনা করে দিব? নাহ, 'না' ভোটই দিব।

এলো সেই দিন। বাসা থেকে বের হয়েই একটা ধাক্কা খেলাম। চারিদিকে কেমন একটা উৎসব উৎসব ভাব, কেমন যেন ঈদের দিন ঈদের মনে হচ্ছে চারপাশে। মাথার মধ্যে দন্ধ নিয়ে কেন্দ্রে লাইন দিলাম। দন্ধ তখন চুড়ান্তে। কি করবো? এইটাই করবো, নাকি ঐটা করবো? ব্যালট পেপার হাতে নিয়ে অবশেষে সিদ্ধান্তে আসলাম, নাহ, জীবনের প্রথম ভোট, যে আদর্শে বড় হয়েছি, দেশের অতীত উপাখ্যান যতোটুকু জেনেছি, নিজের দায়িত্ত কে প্রথমবার একটু নাড়া দিয়েই দেখি, মুক্তিযুদ্ধের সমরথক দল এর পাশে আনুষ্টানিক ভাবেই দাড়াই। 'না' ভোট silent ভোট, আমি কেনো silent থাকবো। যুদ্ধাপোরাধীদের বিরুদ্ধে আওয়াজ দেবার বালুকনা পরিমাণ যে সুযোগ আসবে, তাইবা আমি এড়াবো কেনো?

'না' ভোটের সীলটা আমার পড়লো নৌকায় । B-)
এখন শুধু দেখার পালা আমাদের দেয়া সমর্থন এর সম্মান তারা কতোটুকু রক্ষা করে।
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×