এসো হাতে হাত ধরি, উল্লাস করি...
নতুন যে কোনো সম্পর্ককে আমি ইদানীং আর আগের মতো আগ্রহে স্বাগত জানাতে পারি না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মানসিক কদর্যতা, বীভৎসতা_ আগে জানা সব ধারণাকে চুরমার করে দিচ্ছে। চেনা জগৎটা প্রতিনিয়ত কেমন অদ্ভুত এক অাঁধারের ঘের হয়ে ধরা দিচ্ছে মানসপটে। যাক বাবা, শেষ পর্যন্ত টিকে যাওয়া স্কুলের বন্ধুরাই আমার জন্য ভালো। অনেক দিনের গ্যাপে দেখা হওয়ায় সেভাবে হয়তো একে অন্যের ভাবনার জগৎকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ছুঁয়ে দিতে
পারি না ঠিকই কিন্তু অকারণে ক্ষতি করা, বদনাম করা এসব থেকে তো দূরে থাকা যায়!
সময়ের হাত ধরে...
মাবরুকার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব এ বছর সতেরোতে পা রাখল। বাবা-মা ভাইদের পরে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কে যার সঙ্গে আমি পথ হাঁটছি প্রতিদিন। আমার অসহ্য মন খারাপ। খেপাখেপি ঘুরতে হবে রিকশায়, উল্টাপাল্টা কিছু কাজ না করলেই নয়, মেজাজ ঠাণ্ডা হবে না। সব কাজ বাদ দিয়ে, কোনো অজুহাত না দেখিয়ে আমাকে কোনো প্রশ্ন না করে, কে আমার পাশে নিঃশব্দে এসে দাঁড়াবে? 'মাবরুকা'। আমার ভাইর বিয়ে অথচ আমার অনার্স থার্ড ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা। কে আমার বদলে সব কাজ করবে, বিয়ে সামাল দেবে? 'মাবরুকা'। ভাইয়ার হলুদ হচ্ছে, আমি মাবরুকার বাসায় পড়ছি, পরের দিন পরীক্ষা দিচ্ছি নিশ্চিন্তে। ঢাকার বাইরে বেড়াতে যাচ্ছি দল বেঁধে। আমি কোনো কিছুই দেখে রাখি না, গুছিয়ে আনি না। আমি যাই প্রকৃতি দেখতে, তাই করি। আমার চুলের ব্যান্ডটা পর্যন্ত দেখে কে ব্যাগে পুরবে? 'মাবরুকা'। ঝুট ঝামেলার দশরথ পেরিয়ে বিয়ে হলো আমার। দিন-রাত ডিউটি দিয়েছে বাসায়, বিয়ে বাড়িতে তথাকথিত আত্মীয়রা নয়, বন্ধুরা- মাবরুকার তদারকিতে। এমন ভালোবাসার
বিনিময় কী হতে পারে? শুধুই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। তাই দিয়ে যাই এর বেশি কিছু নয়।
এসো নবীন, হাতখানি বাড়িয়ে বলছে প্রবীণ...
লেখালেখি করছি বেশ কয়েক বছর। বইও বেরিয়েছে; কিন্তু মনের মতো হয়নি কোনোটাই। এবারের মেলা টার্গেট করে তাই ভেবেছি ভালো একটা প্রকাশনী থেকে বই বের করতে হবে। লেখকের নাম বললাম না। যারা বলে যে, বিখ্যাত লেখকরা নবীনদের জায়গা করে দিতে ইচ্ছুক নয়, সাহায্য করেন না, এমনকি লেখা পড়ার আগেই বলেন কিছু হয়নি তাদের উদ্দেশ্যে বলছি এ ঘটনা_ কবিতার বইয়ের পান্ডুলিপি দেখে দেওয়া থেকে শুরু করে, বইয়ের নাম, ফ্ল্যাপ, প্রচ্ছদ, প্রকাশক ঠিক করা সব এ বিখ্যাত নারী কথাসাহিত্যিক আমার হয়ে দু'হাতে করেছেন। আমি এমনই এক পেশায় জড়িত যেখানে অফিসের পরে আমার পক্ষে কোনো কিছুতেই সময় দেওয়া দুষ্কর। বিখ্যাত লেখকরা চাচ্ছেন নবীনরা আসুক সামনে, নবীনদের দায়িত্ব অন্তত আগামীতে ভালো লিখবে এমন স্বাক্ষর বর্ষীয়ানদের সামনে তুলে ধরা। এখানে কর্মের পথ ধরে বন্ধুত্ব, নিঃস্বার্থ দান, সাহিত্যিক পরিচয়ের সম্প্রীতি গড়ে দিয়েছে অযুত ফারাকেও এক আশ্চর্য ভালোবাসার মেলবন্ধন।
ঋণ আছে...
সকালে উঠেই ভাবি 'তাকে' ফোন করব। কাজের চাপে যখন নাভিশ্বাস তখন আলগোছে কপাল চেপে তার কথা ভাবি। সব সম্পর্কেই কি পরিণতি হয়? বুকের আলমিরাতে মানুষ একজনমে কত বিবিধ বিচিত্র সম্পর্ককে বয়ে চলে সরবে-নীরবে। আমি 'তাকে' বুকে নিয়ে প্রতি মুহূর্ত যাপন করি 'তাকে' পাব না জেনেও।
আমার সব কষ্টে- আনন্দে-প্রাপ্তিতে-অবহেলায় 'তাকে'ই সব জানাই মনপত্র, মনালাপ দিয়ে। জানি 'সে' কখনো জানবে না, আমিও 'তাকে' বলতে পারব না অধিকার নিয়ে 'তোমাকে চাই'। শুধু জানি বেঁচে থাকা সুন্দর, জীবন আরো প্রার্থিত 'তাকে' ভাবতে পারছি বলে। তার কাছে আমার ঋণ আছে আমাকে এখনো প্রেমজ রাখছে বলে।
মনের ঘরে থাকুক স্বাধীন সন্তরণ। শুধু একদিন ভালোবাসা মৃতু্য যে তারপর তাও যদি হয়... প্রেমহীন হাজার বছর বেঁচে কী লাভ, তারচেয়ে এসো, হাঁটি পাশাপাশি, উল্গাস করি, হাতে হাত রেখে জিজ্ঞেস করি নিজেকে আরেকবার "আমি 'ওকে' ভালোবাসি, আমাকে কখনো কি ভালোবাসবে 'ও'?"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


