somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মরীচিকার গল্প

১০ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জীবন অনুভূতিময়, শাশ্বত ও অস্পৃশ্য অস্তিত্ব, যা ঘটনাবহুল গল্পের সমারোহে ভরা কিছু সময়ের সমষ্টি, কিছু স্থির স্মৃতি বিজড়িত একটি আত্নার ক্ষণিক অবস্থান এই মহা বিশ্বে।যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না; তবে জীবনের বিশেষ এক মুহূর্তে তার প্রকৃত অস্তিত্ব ধরা পড়ে।তখনই বোঝা যায় কত নির্মম সে। তাকে সর্বোচ্চ কঠোর নিরাপত্তায় রাখতে চায় সকলে, কিন্তু সব কিছুকে উপেক্ষা করে সে আপন গতিতে বিচরণ করে সর্বত্র, সকলের মাঝে। কারণ তার আসল ঠিকানা তো সেই মহাকাল, যা তাকে সর্বদায় আহ্বান করে যায় অসীমে মিশে আত্নগোপন করে থাকতে। তাই সুন্দর এই পৃথিবীকে সে অনায়াসে প্রত্যাখান করে সকল মায়া-মমতাকে বিসর্জন দিয়ে। জীবন যখন অনেকটা সুন্দর, নিরাপদে চলতে থাকে তখন সকলে তাকে চিরকালের জন্য আপন করে পাওয়ার প্রত্যাশা করে মনের অজান্তে। কিন্তু এক সময় সে কাউকে কিছু না বলে পাড়ি জমায় অনন্তের পথে সকলকে নির্বাক করে।মানুষ তাকে প্রকৃতই ভালবাসে কিন্তু সে কাউকে ভালবাসে না বিন্দু মাত্র। সে সব সময় দূরত্ব রেখে চলে।তাইতো সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে, অনেক দূরে।সে তার সাথে কাউকে অংশীদার করতে চাই না।কারণ, তার মত নির্মম, পাষাণ হৃদয়ের কেউ বা কোন পদার্থ নেই এই চরাচরে। পাথর, সে তো কঠিন হৃদয়ের, তবুও তার বুক চিরে ঝর্ণা প্রবাহিত হয় আর সকলকে যেন তার অব্যক্ত কথাগুলোকে জানাতে চায় অবিরাম স্রোতধারার শব্দে।
কিন্তু মায়ের আকাশ-বাতাস কাঁপানো আর্তনাদে কোনরূপ সাড়া না দিয়ে জীবন পাড়ি জমায় অনন্ত-অসীমে সকলের আঁড়ালে।সন্তানের বিনাশে মায়ের আহাজারিতে, নিস্বার্থ আর্তনাদে কেবল কি মনে হয় জান? মনে হয় পৃথিবীর বিনিময়ে জীবনের আহ্বান জানায়। প্রেমিকের বিনাসে প্রেমিকার কেবল একটাই চাওয়া – তাকেও যেন সে সাথে নিয়ে যায়, একা ফেলে না যায় এই রংহীন অর্থহীন জীবনে। কিন্তু সে তো নির্দয়, তার কাছে ভারাক্রান্ত এই হৃদয়ের সব কিছুই মূল্যহীন।সে যেন পৃথিবী চায় না, পিতা-মাতার বুক ফাঁটা আর্তনাদ শুনতে চায় না, চায় না এক মুহূর্তের জন্য একটু অপেক্ষা করতে যখন অনন্তে মিশে যাওয়ার ডাক পড়ে। সকল কিছুকে উপেক্ষা করে সে রওনা দেয় মহা শূন্যে, গভীর নিস্তব্ধতার অনেক গভীরে। তার জীবনে ”ফেরা” শব্দটি যেন অর্থহীন একটি শব্দ, যা দ্বারা কেবল ব্যর্থ অনুরোধ জানানো হয়।তার অস্তিত্ব যেন মহাশূন্যে, অনন্তে, দিকহীন ও সীমাহীন কোন এক নিস্তব্ধ অরণ্যে, যেখানে যাওয়ার দরজা আছে কিন্তু সেখান থেকে ফেরার দরজা নেই।আর এখানে পড়ে আছে তার ছলনাময়ী ছায়া, যাকে আশ্রয় করে আমরা একে অপরকে চিনি, বুঝি।জীবন সে তো এক মরিচীকার গল্প, যেখানে সে তার ছলনার জালে জড়িয়ে সকলকে দৌড় প্রতিযোগিতায় পেছনে রেখে ছুটে চলেছে পৃথিবীর সেই প্রথম হতে আজও।কিন্তু আমি চাই না এই মরিচীকার ফাঁদে পড়ে তার পেছনে ক্লান্ত হয়ে ছুটে চলতে।বরং, সর্বদা তার থেকে দূরে দূরে থাকব। তার কথা কল্পনাতেও আনব না, তার আহ্বানও জানাব না।কেবল তাকে অভিশাপ দেব। কেন সে মায়ের বুক খালি করে।আমার প্রিয় অস্তিত্বকে নিজের ইচ্ছামত কোন রকম সাড়া না দিয়ে বিনাশ করে দেয়। সে কেন এতটা পাষাণ, এতটা নির্দয়।সে কেন আমাকে অসমাপ্ত কাজটি করার একটুখানি সময় দেয় না। তার কি কোনই দয়া-মায়া নেই?
কেন তুমি এতটা নির্দয়, পাষাণ, মমতাহীন? যখন মা তার সন্তানের মাথা বুকে রেখে ডুকরিয়ে ডুকরিয়ে কাঁদে তখন তো আকাশ কাঁদে, বাতাস কাঁদে, কাঁদে কঠিন হৃদয়ের পাথরও; যার কান্নায় সৃষ্টি হয় প্রবাহমান স্রোতস্বীনি, যার পানি অবশেষে একাকার হয় সাগরের সীমাহীন জলরাশিতে।আসলে তুমি এসব বুঝবে কি করে, কারণ তোমার তো মা নেই!

মেহেদী হাছান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×