somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শূন্যভুবনের মেহেদী
চারপাশের সব অসাধারণ প্রতিভাবানদের ভিড়ে অতি সাধারন একজন। ভালোবাসি বৃষ্টিতে ভিজে বৃষ্টিকে অনুভব করতে, ভালোবাসি কোন এক জোছনা রাতে আঁধারে মিশে যেতে, ভালোবাসি বন্ধুত্ব, প্রান খোলা হাসি, গান, কবিতা আর আঁধারে হারিয়ে যাওয়া একাকী।

'দেবী'কে চুরি এবং আমাদের ব্যর্থতা আর আড়ালের নির্লজ্জতা . . . !

২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




হীরা আর পেন্সিলের সীস দুইটার মধ্যে দামের পার্থক্য 'আকাশ আর পাতাল' হলেও দুইটাই যে একই জিনিস সেটা কি জানেন ? দুইটাই হচ্ছে কার্বনের দুইটা বিশেষ রুপ । ছোটকালে পেন্সিল দিয়ে লিখতে লিখতে পেন্সিলের প্রতি আমাদের ভালোবাসাটা এতো বেশীই হয়ে গেছে যে এখন আমাদের ৫ কোটি টাকার হীরার চেয়ে ৫ টাকার পেন্সিলই বেশী ভালো লাগে । কারণ আমরা ৫ কোটি টাকার মূল্যটা মনে হয় বুঝতে পারি না ঠিক মতো ।

শাকিব খানকে এতদিন আমরা ৫ টাকার পেন্সিলের মতোই মনে করেছি । ব্যবহারও করেছি ৫ টাকার পেন্সিলের মতো । কিন্তু ভারতের একটা ছবি করেই ভারতীয় দাদারা আমাদের নিজ দেশের শাকিবের মূল্য আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে । এখানে কি দাদাদের উপর রাগ করা যাবে ? আমার তো মনে হয় আমাদের উচিৎ নিজেদের উপরেই রাগ করা, নিজেদের এই ব্যর্থতার উপর । উনাদের মুভিতে তো আর মঙ্গলগ্রহ থেকে এলিয়েনরা এসে শাকিবের এই আউটস্ট্যান্ডিং লুক দেয় নাই, উনাদের মুভিতে তো আর প্লুটো থেকে এলিয়েনরা এসে গানের ভিডিও বানায় নাই ! আমাদের কি ভালমানের সেলুন নাই যেখানে শাকিবকে ভালো একটা লুক দেওয়া যেতো, ভালো একজন কোরিওগ্রাফারের কি খুব বেশী অভাব ? আফসোস, আমাদের হীরা থাকতেও আমরা সেই হীরার মূল্য বুঝতে পারলাম না !

এখন আমি কোন হীরা নিয়ে কথা বলবো না, এখন আমি কথা বলবো হীরার একটা খনি নিয়ে । আর এই খনিটার মালিক আমাদের শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার :) । উনার লেখা প্রতিটা উপন্যাস কি একেকটা হীরা নয় ? উনার লেখাগুলিতে কি আমরা আমাদের নিজেদের ছায়া দেখতে পারি না ? না পারি নাই, এখানেও আমরা চরমভাবে ব্যর্থ ! আমরা উনার লেখাগুলি থেকে কিছু অপূর্ব নাটক বানাতে পারতাম কিন্তু এখন আমরা যে সব নাটক বানাই তার ৮০% ফাতরামি মার্কা নাটক । ডিজিটাল সিনেমা বলে নাটক খাওয়াই ! আমরা অন্য দেশের সাধারণ কাহিনীর সিনেমার অসাধারণ প্রেজেন্টেশন দেখে প্রায় সময়ই আফসোস করি - আমাদের ডিরেক্টরদের কি এমন কোন কাহিনী নাই ! কিন্তু আপনি যদি হুমায়ূন স্যারের উপন্যাস পড়ে থাকেন তাহলে জানবেন উনার প্রত্যেকটা উপন্যাসের কাহিনীই কি অনন্যসাধারণ, অন্যরকম সুন্দর । এই সুন্দর সাধারণ কাহিনীগুলোই না কি সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করা যেতো যেমন করেছেন তিনি নিজে উনার শঙ্খনীল কারাগার, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, শ্যামল ছায়া, দারুচিনি দ্বীপ ইত্যাদি সিনেমায় যেগুলো সব গুলোই উনার নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে করা হয়েছে । ভারতে যেমন ফেলুদা নিয়ে সিরিজ মুভি বানানো হয়েছে, আমাদের দেশে কিন্তু মিসির আলীকে নিয়েও মুভি সিরিজ করা যেতো এবং আমার মনে হয় আমাদের মিসির আলী ভারতের ফেলুদা'র চেয়ে কোন অংশে কম না উল্টো আরও বেশী কিছু । কিন্তু আফসোস, অনেক বেশী আফসোস - এমন অসাধারণ এই চরিত্রের অসাধারণ গল্পগুলিই আমাদের চোখে লাগে না !
যে কাজটা আমাদের করা উচিৎ ছিল সেটা পাশের দেশ ভারত খুব সুন্দরভাবে করে ফেললো । 'ইএসপি একটি রহস্য গল্প' নামের কিছুদিন আগে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় বাংলা সিনেমাটা সম্পূর্ণ কপি / চুরি করা হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের আধিভৌতিক উপন্যাস 'দেবী' থেকে। কিন্তু তাদের সম্পূর্ণ সিনেমার কোথায়ও মূল গল্প কোত্থেকে নেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে সত্যি কথা বলে নি । বলা হয়েছে গল্পটা নাকি শিবাশিশ রায় নামের একজনের । কি নির্লজ্জ বেহায়া টাইপের চুরি !
এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে যদি সিনেমাটা আমরা করতে পারতাম এবং এর কাজ যদি দক্ষ কোন ডিরেক্টর করতেন তাহলে আমরা বাংলা সিনেমা জগতে সম্পূর্ণ নতুন একটা জেনর পেতাম আর সেটা হলো ''সুপারন্যাচারাল মিস্ট্রি থ্রিলার!'' আমার জানামতে আমাদের বাংলা সিনেমায় এই জেনরে আগে কোন মুভি হয়নি । কাজটা চুরি করে করলেও তারা কিন্তু এই কাজটা করে আমাদের একটা শিক্ষা দিয়ে দিলো । এখন আমরা যদি শিক্ষাটা নিতে পারি !
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:১৬
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×