somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির আলোকবর্ষ দূরত্বে অবগাহন

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সময় ছিল যখন প্রত্যাশিত অনেক কিছুই পেতাম। পরীক্ষা দিয়ে ভাবতাম আর একটু ভাল দিলে মনে হয় হয়ে যেত। কিন্তু একটু খারাপ দিয়েও প্রত্যাশিত রেজাল্ট পেতাম। এখন আর তেমনটি হয়না। সবক্ষেত্রেই একই অবস্থা। আর্তনাদ করতে করতে এখন সব অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে।
জীবনে উত্থান পতন আসে। ক্যারিয়ারে খারাপ সময় যায়। এটা কোন গ্রহ নক্ষত্র ভুয়া রাশিচক্রের ব্যাপার না। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সবকিছু ঘটে। নিশ্চয়ই স্রষ্টা শ্রেষ্ঠতম বিচারক। প্রকৃতিতে এমন কিছু ঘটেনা যার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নেই। নিজের নিয়মেই প্রকৃতি ভারসাম্য বজায় রাখে। একবার কেড়ে নিলে আবার ফিরিয়ে দেয়। আবার কখনো বেশি দিয়ে ফেললে তা কেড়ে নেয়। জানিনা আমার ক্ষেত্রে কি হচ্ছে।

মৌনতা আর ধৈর্যের সাথে চেষ্টা করে যাওয়ার একমাত্র পথ। তবুও একসময় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে চায়। দু:স্বপ্ন এসে গ্রাস করে অস্তিত্বকে। তখন মনে হয় আমার কগনেটিভ প্রসেসের মধ্যেই ভ্রান্তি ঢুকে পড়েছে। আপাতদৃষ্টিতে যা হওয়ার কথা তা হয়না। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় কিন্তু সেই সার্কেল অফ রুইন আর ভাঙ্গেনা। অর্থহীন জন্মটাকেই অভিশাপ মনে হয়।
বৃত্ত ভাঙ্গার জন্য নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করি। অবিরাম সাধনার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়। নানান মত ও পথের সন্ধান করি। কিন্তু কিছুতে কিছু হয়না। অন্যকে দেখে ঈর্ষাও হয়না। শুধু নিজের ব্যর্থতার মাঝে গুমড়ে পড়ে থাকি। নিজের ভূল সংশোধনের প্রানান্তকর চেষ্টা করি।
নিজের জীবনের সকল ভূল কনফেস করি। ধর্মগুরুর পরামর্শ নেই। ধর্মে চার্চের মত কনফেসনের ব্যবস্থা থাকলে তাও করতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা নেই। কেউ বলেও দিতে পারবেনা কি করতে হবে এমনকি কারো ইমপ্যাথিক সাজেশনেও কাজ হয়না। নিজেকে নিতান্ত অসহায় মনে হয়। ভাল থাকার যত অভিনয়ই করিনা কেন দীর্ঘশ্বাস লুকাতে পারিনা। মনে এই বুঝি আমার পথ শেষ হয়ে এল।
এখান থেকেই স্ট্যাগনেশনের শুরু। আমৃত্যু এই যায়গাতেই থাকতে হবে। পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এটাতো কাপুরুষের কাজ।

আমি ঈশ্বর মানিনা। তিনি আমার কাছে এসে ঝুকে দাড়াবেন না। আমি উপরের দিকে চোখ তুলে তাকাই না। এখন এখানে আমার কোন অহংকার নেই। আমি দশদিককে উদ্দেশ্যে করে বলতে চায় হে দশ দিক আমার কোন অহংকার নেই। এখানে আমি জয়ী হওয়ার চেয়ে পরাজিত হওয়াকেই যেন বেশি ভালবাসি। মর্ত্যে ফিরে এসে ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ইমিউন সিস্টেমকে যেভাবে সাপ্রেস করা হয় ঠিক সেভাবে নিজের ভূল কগনিশন আর ভ্রান্ত আবেগ অনুভূতিকে কঠোরতম দমন করতে বেছে নেয় একগাদা বিষণ্নতা নিরোধক। তবুও যদি ভুল কগনিশন আর বাস্তবতার মধ্যে প্রাণসংহারী ব্যবধান দূর করা যায় এই প্রত্যাশায়।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×