একটা সময় ছিল যখন প্রত্যাশিত অনেক কিছুই পেতাম। পরীক্ষা দিয়ে ভাবতাম আর একটু ভাল দিলে মনে হয় হয়ে যেত। কিন্তু একটু খারাপ দিয়েও প্রত্যাশিত রেজাল্ট পেতাম। এখন আর তেমনটি হয়না। সবক্ষেত্রেই একই অবস্থা। আর্তনাদ করতে করতে এখন সব অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে।
জীবনে উত্থান পতন আসে। ক্যারিয়ারে খারাপ সময় যায়। এটা কোন গ্রহ নক্ষত্র ভুয়া রাশিচক্রের ব্যাপার না। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সবকিছু ঘটে। নিশ্চয়ই স্রষ্টা শ্রেষ্ঠতম বিচারক। প্রকৃতিতে এমন কিছু ঘটেনা যার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নেই। নিজের নিয়মেই প্রকৃতি ভারসাম্য বজায় রাখে। একবার কেড়ে নিলে আবার ফিরিয়ে দেয়। আবার কখনো বেশি দিয়ে ফেললে তা কেড়ে নেয়। জানিনা আমার ক্ষেত্রে কি হচ্ছে।
মৌনতা আর ধৈর্যের সাথে চেষ্টা করে যাওয়ার একমাত্র পথ। তবুও একসময় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে চায়। দু:স্বপ্ন এসে গ্রাস করে অস্তিত্বকে। তখন মনে হয় আমার কগনেটিভ প্রসেসের মধ্যেই ভ্রান্তি ঢুকে পড়েছে। আপাতদৃষ্টিতে যা হওয়ার কথা তা হয়না। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় কিন্তু সেই সার্কেল অফ রুইন আর ভাঙ্গেনা। অর্থহীন জন্মটাকেই অভিশাপ মনে হয়।
বৃত্ত ভাঙ্গার জন্য নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করি। অবিরাম সাধনার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়। নানান মত ও পথের সন্ধান করি। কিন্তু কিছুতে কিছু হয়না। অন্যকে দেখে ঈর্ষাও হয়না। শুধু নিজের ব্যর্থতার মাঝে গুমড়ে পড়ে থাকি। নিজের ভূল সংশোধনের প্রানান্তকর চেষ্টা করি।
নিজের জীবনের সকল ভূল কনফেস করি। ধর্মগুরুর পরামর্শ নেই। ধর্মে চার্চের মত কনফেসনের ব্যবস্থা থাকলে তাও করতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা নেই। কেউ বলেও দিতে পারবেনা কি করতে হবে এমনকি কারো ইমপ্যাথিক সাজেশনেও কাজ হয়না। নিজেকে নিতান্ত অসহায় মনে হয়। ভাল থাকার যত অভিনয়ই করিনা কেন দীর্ঘশ্বাস লুকাতে পারিনা। মনে এই বুঝি আমার পথ শেষ হয়ে এল।
এখান থেকেই স্ট্যাগনেশনের শুরু। আমৃত্যু এই যায়গাতেই থাকতে হবে। পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এটাতো কাপুরুষের কাজ।
আমি ঈশ্বর মানিনা। তিনি আমার কাছে এসে ঝুকে দাড়াবেন না। আমি উপরের দিকে চোখ তুলে তাকাই না। এখন এখানে আমার কোন অহংকার নেই। আমি দশদিককে উদ্দেশ্যে করে বলতে চায় হে দশ দিক আমার কোন অহংকার নেই। এখানে আমি জয়ী হওয়ার চেয়ে পরাজিত হওয়াকেই যেন বেশি ভালবাসি। মর্ত্যে ফিরে এসে ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ইমিউন সিস্টেমকে যেভাবে সাপ্রেস করা হয় ঠিক সেভাবে নিজের ভূল কগনিশন আর ভ্রান্ত আবেগ অনুভূতিকে কঠোরতম দমন করতে বেছে নেয় একগাদা বিষণ্নতা নিরোধক। তবুও যদি ভুল কগনিশন আর বাস্তবতার মধ্যে প্রাণসংহারী ব্যবধান দূর করা যায় এই প্রত্যাশায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



