স্বার্থ এবং সম্পর্ক নিয়ে আগেও লেখার চেষ্টা করেছি। স্বার্থ এবং সম্পর্কের ধরণও ভিন্ন ভিন্ন। সাম্য , দ্রোহ আর প্রেমের ভিন্ন সংমিশ্রণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটা লেখা পড়েছিলাম। লেখাটা পুরো মনে নেই , প্রায় সবই ভূলে গেছি তবে ভাবার্থটা মনে আছে। রুপক হিসেবে জবা ফুলকে ব্যবহার করা হয়েছে। রক্তজবাকে অবহেলা করে চুলের খোপা থেকে খুলে ফেলে দেওয়ার চেয়ে বরং অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র শাস্তি হল চলমান পথিকের পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মরা
এতে অবজ্ঞার কথায় বলা হয়েছে। অবজ্ঞার চেয়ে সম্পর্কের জবনিকাপাতই অনেক ক্ষেত্রে শ্রেয়তর্। সুপার গ্লু দিয়ে জোড়া লাগানো কোন বস্তু একটু বেশি চাপেই ভেংগে পড়ে। আবার শরীরের কোন জায়গায় কেটে গেলে ঐ টিস্যুর পরিবর্তে সেখানে কানেকটিভ টিস্যু দিয়ে পুরন হয়। সেই টিস্যু আগের টিস্যুর মত শতভাগ শক্তি ফিরে পায়না। ম্যাক্সিমাম ৮০ ভাগ দৃঢ়তা ফিরে পায়। এটা শরীরের জায়গা ও টিস্যু ভেদে একেক রকম হয়।
তেমনি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে প্রকারভেদে ছিন্ন সম্পর্ক জোড়া লাগলেও একই রকম হয়। কখনোই পূর্নতা ফিরে পায়না। আবার অনেক ক্ষেত্রে একেবারে ভংগুরই হয়ে যায়। তার মানে দেয়াল রচনা করলে সমস্যা নেই এরকম সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভেংগে গেলে সুপার গ্লু দিয়ে জোড়া লাগিয়েও কোন লাভ নেই। তা ছিন্ন হবেই বা ছিন্নপ্রায় হয়েই থাকবে। এক্ষেত্রে পূর্বের আকাশ প্রমাণ হৃদ্যতাও মূল্যহীন।
পূর্বের অনেক দেনা পাওনা আর পারস্পরিক স্বার্থ ত্যাগ করে অনেক কিছু করা অথবা কথিত নি:স্বার্থ ভালবাসা বা ত্যাগ তিতিক্ষাও মূল্যহীন। এটাও প্রকৃতির একটা আপেক্ষিকতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



