somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবিধানের কফিন ঘাড়ে নিয়ে, গণতন্ত্রের জানাজার পথে . . . . . . . .

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সংবিধানের কফিন ঘাড়ে নিয়ে, গণতন্ত্রের জানাজার পথে . . . . . . . .


সংবিধান! দেশ পরিচালনার মূলনীতি। যাকে ইংরাজিতে বলা হয় A constitution is a set of fundamental principles or established precedents according to which a state or other organization is governed । বাংলাদেশ সংবিধানের শরীরে প্রচন্ড ব্যাধি থাকার কারনে এ পর্যন্ত ষোলবার কাটাছেড়া করা হয়েছে। হৃদপিন্ড পর্যন্ত সার্জারি করা হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু স্বাধ মেটেনি গণতন্ত্রের বাহকদের। অবস্থা এখন এমন যে সার্জারি করার পর সংবিধানের কফিন এখন আমাদের ঘাড়ে।

সংবিধানের প্লসটিক সার্জারি করা হয়েছে ৭ (খ) ধারা দিয়ে। যেখানে বলে দেয়া হয়েছে দেশ উল্টিয়ে গেলেও কিছু কোরআনের আয়াত সমতুল্য আইন আছে যা আনচেঞ্জেবল। এমনকি কোন আইন প্রনয়নকারী সংস্থাও এগুলো পরিবর্তন করার যোগ্যতা রখেনা। সংবিধানের কোন সমাস্যার ক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে ৭২ এর সংবিধানে। ৫২টার মত সেকশন রয়েছে যেগুলো পরিবর্তন করতে চেষ্ঠা করলে ৭ (ক) ধারা মতে সর্বোচ্চ শাস্থি। প্রশ্ন থেকে যায় কার স্বার্থে এগুলো করা হচ্ছে। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য নয় কি ?



সংবিধানের ৯৬ (৩) দফায় বর্ণিত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’-এর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ প্রক্রিয়া ছেঁটে ফেলে দিয়ে চালু করা হলো সংসদের মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ প্রক্রিয়া। এখন দেশের সবচেয়ে সম্মানিত, জ্ঞানী, শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মানুষদেরকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার অধিকার পেল জাতীয় সংসদের সেই সব সদস্য যাদের মধ্যে অধিকাংশই অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত, খুনের আসামি, কালোবাজারি বা দুর্নীতিবাজ। অর্বাচীন পুরাণের ভবিষ্যদ্বাণী হয়তো সত্য হলোÑ( ‘কলিকালে শূদ্র রাজা হবে’ )

সরকার যা বলবে, যেভাবে বলবে তা-ই করতে বাধ্য হবেন মাননীয় বিচারকগণ। এর অন্যথা হলে চাকরির গলায় ফাঁসির রশি পড়তে সময় লাগবে না। এককথায় জনগণের আশ্রয়ের শেষ ঠিকানাটিও নিরাপদ থাকতে পারল না। স্বাভাবিকভাবেই বিচারকগণ নিজেদেরকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত অনুগত রাখাকেই নিরাপদ এবং সন্তুষ্টির পথ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

ত্রয়োদশ শতাব্িেদত ব্রাকটন বলেছিলেন, ‘রাজাকে অবশ্যই ঈশ্বর ও আইনের অধীন হতে হবে’। পরবর্তীতে আইনবিদ হেনরি জে আবরাহাম ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’-এর সংজ্ঞা উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু ধরেই নেয়া যায় যে, যিনি বিচারককে অপসারণের ক্ষমতা রাখেন তার প্রণীত কোন আইন বা কার্যকে বাতিল করার ধৃষ্টতা বিচারক দেখাতে যাবেন না। সুতরাং কোন আইন করতে বা কোন কাজ করতে গিয়ে সরকারকে আর সাত পাঁচ ভাবতে হবে না যে সেটি সংবিধান পরিপন্থী বা অন্যায়মূলক হচ্ছে কি হচ্ছে না। অনায়াসে যাচ্ছে তাই করে যাবে বাধাহীন, বল্গাহীনভাবে।

সংবিধানের ৫৭ (৩) ধারা অনুসােের বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর ক্ষমতার নির্দিষ্ঠ কোন মেয়াদ নাই। ৫, ১০, ১৫ যা ইচ্ছা তিনি ক্ষমতায় থাকতে পরবেন। যতোক্ষন অন্য কেউ ক্ষমতা না নেবেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার নব্য আইেেনর জন্য বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসেবে পুরষ্কার পেতেই পারে। এছাড়াও সংবিধানে ১২৩ (৩) ধারাটি যথেষ্ঠ প্রশ্নের সম্মোখিন। যেখানে পূর্বর্বর্তী সাংসদ দের ক্ষমতা ছাড়ার ব্যাপারে প্রশ্ন থাকতেই পারে। সংবিধানের ৪ (ক) ধারা অনুসারে আমদের এক ধরনের মূর্তিপুজা করতে বলা হয়েছে। যেটা ইসলাম ধর্মে নিশিদ্ধ।

সংবিধানের বর্তমান অবস্থা দেখে দেশের বাকশাল বুঝতে বকি থাকেনা। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে! বিশ্বেও রোল মডেল হওয়ার জন্য। নির্বাচন না করেও কিভাবে নির্বাচিত হতে হয়? মুখে গণতন্ত্রেও কথা বলে কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়। এ দিক দিয়ে বাংলাদেম এখন বিশ্বেও জন্য রোল মডেল । যে কেউ বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতেই পারে।

প্রশাষনকে অবাধ অনিয়ম করার সুযোগ দিয়ে বলা হয়েছে এমন, যা পারো কর, শুধু আমাকেই ক্ষমতায় রেখো। যার কারনে প্রশাষনে নেই চেইন অব কমান্ড। সরকারী কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে ডাবল বেতন। শর্ত শুধু চুপ থাক। শিক্ষকের কাছে রাজনীতি উঠলেই, আমি এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইছি না ! প্রায় প্রতিটি লেবেলে নিয়মিত হত্যা এখন বাস্তবতা। জীবনের নিরাপত্তা চাওয়াটা অপরাধ। প্রকাশ্য ঘুসকে স্পিড মানি বলে জায়েজ করা হচ্ছে স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে।

মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭ জন রাজাকার হয়ে গেছে। ভাষা সৈনিক আ: মতিন বঙ্গবন্ধুকে ভাষা সৈনিক না বলার অপরাধে তার লাশ শহীদ মিনারে নিতে দেয়া হয়নি। অথচ তাদের কারনেই শহীদ মিনার তৈরী। দলীয় আনুগত্য না করলে সে রাজাকার। মুক্তযুদ্ধের স্বপক্ষের কথা বলে দেশকে দ্বিধা বিভক্তির পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দলীয় নেতারা মুক্তিযুদ্ধের ক্রেস্টের স্বর্ন চুরি করলে কি আর বলার থাকে!

সারা বিশ্বে সাধারনত সংখ্যালঘু নির্যাাতিত হয়। কিন্তু সম্ভবত বিশ্বে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে সংখ্যাগুরু নির্যাতিত হয়। আল্লাহর বানী পবিত্র কোরআন ঘরে রাখাও অপরাধ। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের নামে নব্য ক্রসেড চলছে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।

একইভাবে আবারও একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ষোড়শ সংশোধনী, সম্প্রচার নীতিমালাসহ অন্যান্য যাবতীয় কার্যক্রম। এ দেশের ভাগ্যাকাশে মহাপ্রলয়ের পূর্বাভাষ পাওয়া যাচ্ছে। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যায় নয়া বাকশালের পদধ্বনি। ধেয়ে আসছে কালবোশেখি। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা সবকিছুকে তছনছ করে দেবে সে ঝড়। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সংবিধানের কফিন পরানো শেষ এখন বাকি গণতন্ত্রের জানাজা।

দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা চাইবো মহাথির মোহাম্মাদ কিংবা নেলসন মেন্ডলার মত একজন উদার মানুষ। যিনি সবার আগে অগ্রাধিকর দেবেন দেশপ্রেম। ভলতেয়ারের মত বলবেন,I am not agree with your opinion, but I can dedicate my life for preserve your opinion আমরা দেশের আপামর জনগন সে আমায় প্রত্যাশাই করি প্রতিক্ষন
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



আমার এক বন্ধু আছে। ধরা যাক, নাম তার করিম। করিমকে একদিন চায়ের দোকানে একজন বলল, “আপনি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?” করিম চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, “ভূয়া হলে লাভটা কী?” লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×