somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেটা

২৪ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা সারাক্ষণ রেগে থাকেন।মা বলেন, বাবার আমাদের কাজের মেয়ে রাহেলার সাথে অবৈধ সম্পর্ক। আজও এটা নিয়েই ঝগড়া। কাল রাতে নাকি বাবা রাহেলার ঘরে ছিল।মা দেখেছে, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।অথচ রাতে আমি বিছানা ভিজিয়েছি, আর ঘুম আসছিল না।মা-বাবার ঘরে গিয়েছি, ভয়ে কথা বলিনি।তাই বাবা আমার ঘরে এসে শুয়েছিল।
আমি মাকে বলেছি।মা আরও রেগে গেলেন।বললেন,"বাপের মতই হয়েছিস।একটু গোঁফ গজালেই মেয়ে ছেলে নিয়ে ফষ্টিনষ্টি করবি।"

অবৈধ সম্পর্ক, ফষ্টিনষ্টি কি?আমি জানি না।তবে বুঝতে পারি এগুলা খুব খারাপ।তাই আর কিছু বলিনি।আর মা ইদানীং খুব মারে, সেদিন বেত দিয়ে পাছায় মেরেছে।আমি ক্লাসে আরামে বসতেই পারিনি!

আমি দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছি।তুলি আমাদের বাসায় এসেছে। কোনভাবেই তুলির সামনে পরা যাবে না, তুলি কেচোকে খুব ভয় পায়।আমার নুনু দেখে নিশ্চয়ই একটা চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে।সেদিন নিহান আমার নুনু দেখে বলেছে, তোর নুনু সাদা কেচোর মত!আমার নুনু চেইনে আটকে গেল।অথচ টিস্যু দিয়ে নুনুটা ধরে সে-ই চেইন থেকে ছূটিয়ে দিয়েছিল।আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কোনদিন বিয়ে করবো না।কিন্তু যদি করি, তবে নিহানকেই করবো। আর বাসায় কোন কাজের মেয়ে রাখবো না।

আমার নাম ফরেস্ট। ক্লাসের সবাই ডাকে "জংগল"।আমার খারাপ লাগে না।কিন্ত নিহান ডাকে "অরণ্য"। কি যে ভালো লাগে,আনন্দে কান্না চলে আসে।কিন্ত মামা বলেছে, ছেলেদের কাদতে নেই।মা-বাবাকে বলে নামটা বদলে ফেলা যায়, কিন্তু বাবা রাজি হলেই মা রাজি হবে না।মা "ফরেস্ট গাম্প" মুভি দেখে আমার না রেখেছিল।এজন্যই আমি ফরেস্টের মত ভীতু। মা যদি "জন উইক" মুভি দেখে আমার নাম জন রাখত, আমি নিশ্চয়ই সাহসী হতাম। জন উইক যে ফাইট করে, দেখতেই ভালো লাগে।আমি গুন্ডা হতে চাই, জানি মা রাজি হবে না।

আমার মা বেশ রাগী আর নির্দয়ও। আমি আজ বিছানা ভিজিয়েছি, তাই আমার শাস্তি সারাদিন নেংটো থাকা।কিন্তু মা ভয়ংকর কথা বলল যে আমাকে নেংটো হয়েই স্কুলে যেতে হবে।মা যা বলে তাই করে, ভাগ্যিস আজ শুক্রবার। তাই বেচে গেছি।কাল নিশ্চয়ই মার রাগ কমে যাবে।

বাবা থাকলে আমাকে বাচিয়ে দিত।কিন্ত বাবা যে এত সকালে কোথায় গেল?অবশ্য মা অনেক রেগে আছে, আমার একটা বোন হবে তাই। মা বেশি রেগে থাকলে বাবা আমাকে বাচাতে পারে না।মা আমাকে মারে, পরে টয়লেটে আটকে রাখে।টয়লেটে তেলাপোকা নেই, কিন্তু তখন একটা বড় তেলাপোকা এন্টেনা বের করে আমায় দেখে।অবশ্য হুস হুস করলে ভয়ে চলে যায়।

আমি পায়ে-পায়ে মামার ঘরের দিকে চলে যাচ্ছি।মার সামনে কিছুতেই পরা যাবে না।কপাল খারাপ, তুলির সামনে পরে গেলাম।তুলি বললো, "এই জংগল! তুই টাই দু'পায়ের মাঝখানে পরে আছিস কেন।টাই খুলে গলায় পর।"
আমি দৌড়ে মামার ঘরে চলে এলাম।খাটের নিচে শুয়ে আছি।

আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।কিন্তু ঘুমালে নিশ্চয়ই আবার ফ্লোর ভিজিয়ে দিবো।মা আরও রেগে যাবে।আমি চোখ বন্ধ করে আছি।মামা আমার গায়ে একটা কাপড় জড়িয়ে আমায় বিছানায় শুইয়ে দিলেন।আমি জেগেই আছি, কিন্তু কিছুই বলবো না।মামা আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।কিছু মানুষের হাতে মায়া থাকে,মায়া সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয়। বাবার হাতেও আছে, কিন্তু মামার হাতে বেশি।আমার কান্না পাচ্ছে।কিন্তু আমিতো ছেলে!

আমার মামা খুব ভালো মানুষ। মামার মত কেউ পৃথিবীতে নেই।আমি জানি আর আসবেও না।আমি দুবার মামার বিছানা ভিজিয়েছি। মামা দুবারই সকালে বলেছে,"ফরেস্ট, রাতে পানি খাবার সময় বিছানায় পানি ফেলে দিয়েছি-রে।দেখ তোর প্যান্টেও একটু পানি পরে গেছে।যা প্যান্ট বদলে ফেল।"

ঘুম থেকে জেগে দেখে ঘর অন্ধকার। আমি সুইচ টিপলাম, কারেন্ট নেই।আস্তে আস্তে ডাকলাম, মামা! মামা!যাতে মা না শুনতে পায়।মনে হয় কেউ বাসায় নেই।যেদিন আমাকে বাসায় রেখে সবাই চলে যায়, সেদিন কারেন্ট থাকে না। আমি সুরা নাস আর সুরা ইখলাস পড়ি।এই দুইটা পড়লে ভূত-পেত্নী আসে না।কিন্তু আজ আমার অযু নেই।তবুও পড়ছি, আল্লাহ নিশ্চয়ই আমায় মাফ করবেন।

দরজায় শব্দ হচ্ছে।আমাদের বাসায় দারোয়ান নেই।ছেলেধরা বা কল্লা-কাটা সহজে আসতে পারবে, পদ্মা সেতুর জন্য নাকি অনেকগুলো মাথা দরকার।আমি ভয়ের চোটে আরেকবার ফ্লোর ভিজিয়েছি। মা আজকে আমাকে আর খাবার দিবে না।

"কিরে ব্যাটা, ভয়ে পেয়েছিস!আমি তোর বাপ!" আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।বাবা বললো, মা হাসপাতালে।আমি খুশিই হলাম, আজ সারারাত টিভি দেখা যাবে, কাল নেংটো হয়ে স্কুলে যেতে হবে না।তবে রাতে নিশ্চয়ই ভাত খাওয়া হবে না।

বাবা বললো,"ফরেস্ট, তুই একা প্যান্ট পরতে পারিস?"
বললাম,"পারি!"
"পরিক্ষা হয়ে যাক, ১০০ নাম্বারে পরিক্ষা।"

আমি প্যান্ট পরে এলাম।বাবা হাসলেন।আমি আবারও দুইপা একসাথেই দিয়েছি।এত চেষ্টা করি, পারি না!
বাবা বললো,"তুই যেহেতু একটাতে দুই পা দিয়েছিস, যা তুই ৫০ পেয়েছিস।এটাও ভালো নম্বর। তুই পাস করেছিস, এজন্য তোকে আজ চাইনিজ খাওয়াবো।"

আগেই বলেছিলাম, আমার বাবা অনেক ভালো। সারাদিনে দুঃখ কেমন চমকেই ভুলিয়ে দিল।আমার বাবা ম্যাজিশিয়ান, তবে মামা দি গ্রেট ম্যাজিশিয়ান!

আমি এখন বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ১৪৩ নম্বর রুমের সামনে বসে আছি। মা বলে, ১৪৩ মানে "I love you". কিন্তু নিহান বলেছে, এর মানে "I hate you"ও হতে পারে। মেয়েটার কি যে বুদ্ধি।মাকে জানালে নিশ্চয়ই রেগে যাবে।

আমার খুব খিদে পেয়েছে। বাবা চাইনিজের কথা ভুলে গেছে, এখন মনে করিয়ে দিতেও খুব লজ্জা লাগছে।বাবার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কোন সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমার খুব খিদে পেয়েছে।

" কি হয়েছে বাবা?"
"তোর বোন কিছুতেই মায়ের পেট থেকে বের হবে না।ডাক্তার খুব টানাটানি করছে।কাজ হচ্ছে না।"

"বাবা, আমি গিয়ে যদি ডাক দেই।বলি, মীরা বাইরে আয়।আমি তোর জন্য পুতুল এনেছি।"
"বাহ!তুই বোনের নামও ঠিক কিরেছিস!তা পারিস, কিন্তু তোর মা রেগে যাবে।আর বোনকে শুরুতেই মিথ্যে বলা কি ঠিক হবে?"

"তা ঠিক।আচ্ছা বাবা, মা কাকে বেশি ভালোবাসে?"
"তোর মামাকে, পরে তোকে,শেষে আমাকে।"

"আমি দুই নাম্বার! কিন্তু আমার ফার্স্ট হতে ইচ্ছে করে।"

বাবা আর কিছু বললো না।
মামার জন্য খারাপ লাগছে, মা নিশ্চয় মীরাকে বেশি ভালোবাসবে।তবে আমি মামাকেই বেশি ভালোবাসবো। মীরা, নিহানের চেয়েও অনেক বেশি।
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:৩৮





অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো এবং নেইমার হলুদ কার্ড খাইলো। :D
ব্রাজিলের এই পরাজয়ের পিছনে অবশ্য আমার কোন দোষ নেই, আমি শুধু বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে বলেছিলাম ব্রাজিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন, ভালোবাসা ছাড়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০২



আমি ভাই টাকা চাই।
টাকা হলে সম্মান আর ভালোবাসা অটোমেটিক চলে আসবে। হ্যা এটাই বাস্তবতা। বর্তমান যুগটা অন্য রকম। যার টাকা নাই, তার কোনো মূল্য নাই। সম্মান নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×