হঠাৎ বাসার কলিংবেলটি বেজে উঠলো । মিসেস রেহানা বিছানায় শুয়ে ছিলেন । বাসায় কেউ নেই তাই নিজেই উঠে গিয়ে দরজা খুললেন । দরজা খুলেই দেখতে পেলেন মিসেস সোহানা দাড়িয়ে আছেন । প্রায় ৩২ টা দাঁত বের করে হাসছেন তিনি ।
- কি ব্যাপার ভাবী ? আপনি ? এই সময় ? কিছু লাগবে নাকি ?
- আরে, আপনি কি দরজায় দাড় করিয়ে রাখবেন নাকি আমাকে ?
- ওহ, সরি, আচ্ছা, ভিতরে আসেন । (সোফার দিকে দেখিয়ে) বসুন, ভাবী ।
- এখন তো কেবল সন্ধ্যা সময় । কি করছিলেন ভাবী ?
- কিছু না, এমনি শুয়ে ছিলাম । শরীরটা ভালো লাগছে না । কাল রাতে একটু বেশি জেগে ছিলাম তো তাই ।
- কেন ? মিনার জন্য নাকি ?
- হুম, মিনার জন্যই । আমার তো এই একটামাত্র মেয়ে । সামনে এসএসসি পরীক্ষা । ও তো ভীষণ ফাকিবাজ । এখন যদি মনোযোগ দিয়ে, রাত জেগে না পড়ে, তাহলে তো পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না । কিন্তু ওর কোন খেয়াল নেই । রাত ১০ টা বাজলেই ঘুমানোর জন্য পাগল হয়ে যায় । তাই ওর সাথে জেগে থাকতে হয়, আমি সাথে জেগে থাকলেই ও পড়ে ।
- ভাবী, এত কষ্ট করার বয়স কি আর আমাদের আছে ? আমার মেয়ে লাবণ্য কে তো পড়ার কথা বলাই লাগে না । দেখুন না, মিনা আর ও একসাথেই তো এসএসসি দেবে । ওকে তো সব সাবজেক্টে স্যার দিয়েছি । মাসে ওর বাসার স্যার বাবদ আমাদের প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয় । ছেলেমেয়ে মানুষ করা কি চাট্টিখানি ব্যাপার, ভাবী ?
- (মিসেস সোহানার কথায় লজ্জা পেয়ে) না, তা তো বটেই । কিন্তু আপনার ভাইয়ের তো এত ইনকাম নেই । আমরা তো মিনাকে একটাও স্যার দিতে পারলাম না বাসায়, আপনি তো জানেনই ।
- হ্যাঁ, তা তো জানিই । স্যারদের পড়া পড়তে পড়তে লাবণ্য একটুও সময় পায় না অন্য কিছু করার, জানেন ভাবী ? যাক, একটু কষ্ট করুক আর তো মাত্র কয়েকটা দিন ।
(যথারীতি লাবণ্য এসএসসিতে এ+ পায় । মিনা পায় ৪.৮৮ । রেজাল্টের দিন মিষ্টি দিতে এসে মিসেস সোহানা মিসেস রেহানাকে আরও কয়েকটি খোটা দিয়ে চলে যান)
ঠিক ২ বছর পর মানে এইচএসসি পরীক্ষার আগেও একই রকম অবস্থা হয় । কিন্তু মায়ের অপমানের কথা মাথায় রেখে মিনা এবার ঠিকি এ+ পায় । অবশ্য লাবণ্যও এ+ পায় তবে প্রশ্ন কিনে । কিন্তু প্রশ্ন কেনার টাকা মিনার বাবা-মায়ের নেই । এর ঠিক কয়েকদিন পর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা হলো । রেজাল্ট দিলে জানা গেলো মিনা মেধা তালিকায় ৭৮ তম হয়েছে । কিন্তু লাবণ্য মেডিকেলে চান্সই পাইনি ।
মিসেস রেহানা মিসেস সোহানার বাসায় মিষ্টি নিয়ে গেলেন । দরজায় দাড়িয়ে কলিংবেল চাপলেন । অনেকক্ষণ পর দরজা খুললেন মিসেস সোহানা নিজেই । কিন্তু আজ মিসেস সোহানার মুখে কোন হাসি নেই । মিসেস রেহানা মিসেস সোহানার হাতে মিষ্টির প্যাকেটটা দিলেন । সাথে শুধু একটা কথাই বললেন, ভাবী, মেধার মূল্যায়ন কখনও টাকা দিয়ে হয়না ।
এই কথা শুনে মিসেস সোহানা মিসেস রেহানার সামনেই কেঁদে ফেললেন । অঝোর সেই কান্না, অনেক কষ্টের সেই কান্না ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



