somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

পুরনো যে কোন প্রিয় জিনিস ফিরে পাবার আনন্দটাই অন্যরকম, তবে সেটি যদি হয় ভালো লাগার মানুষ, তাহলে তো কথাই নেই.... :`>

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- নীলা, এই নীলা, কোথায় গেলি ?
- কি হয়েছে, আবার, ডাকো কেন ?
- কি করছিলি ? আবার সেই কবিতা নাকি ?
- হুম, কবিতা । তাতে তোমার কি ভাইয়া ? তুমি তোমার কাজ নিয়ে থাকো, আমাকে বিরক্ত করো কেন ?
- যেই না আমার কবি, তার আবার ভাব দেখো ! যা ফট, তোকে দুই পয়সা দিয়ে গুনার টাইম নাই আমার ।
- তাহলে ডেকেছ কেন আমাকে ?
- আচ্ছা, তোর ঐ বান্ধবীটার নাম কিরে ?
- কোন বান্ধবী ?
- আরে ঐ যে, সেদিন ভার্সিটিতে যখন তোকে নামিয়ে দিতে গেলাম, যে মেয়েটা তোকে দেখে দৌড়িয়ে আসলো । ঐ যে, মনে হয়, পুরো লাল ম্যাচিং করে জামা পড়েছিল ।
- কেন রে ভাইয়া, প্রেমে পরেছিস নাকি আমার বান্ধবীর ? ওর নাম তো রূপা । ভালো নাম ইশরাত তালুকদার রূপা । জানিস ভাইয়া, মেয়েটাকে দেখলে মনে হয় না কিন্তু ও দারুণ ব্রিলিয়ান্ট । আমার খুবই ভালো বান্ধবী । অবশ্য ওকে ভাবী ডাকতে আমার সমস্যা নেই ।
- ঐ, পাকনামি করবি না, তোর ঐ বান্ধবী আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে । তাই তোর কাছ থেকে শিউর হলাম, আর কি । দেখ, আমি কিন্তু এসব একদম পছন্দ করি না । ওকে বলে দিবি আমি এসব একদম পছন্দ করি না । আর তোর কোন বান্ধবী যেন আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট না পাঠায়, ঠিক আছে ?
- কেন, ভাইয়া, সমস্যা কি ?
- যা ভাগ, এসব আমার একদম ভালো লাগে না । সবকথা কি তোকে বলতে হবে ? যা, তুই, ঐ বস্তাপচা প্রেমের কবিতা লিখতে থাক গিয়ে । এইসব কবিতা কবিতা করে তো পড়াশুনা মাথায় উঠাইছিস । কিছু বলা হয়না বলে বেশি বাড়াবাড়ি । যা, তোর ঘরে যা ।

(নীলা চুপচাপ তার ঘরে চলে আসলো । তার এই একটা মাত্র ভাই । তার থেকে চার বছরের বড় । ছোটবেলা থেকেই দুই ভাইবোন মারামারি, দুষ্টামি করতে করতে বড় হয়েছে । কিন্তু ইদানিং খুব খিটমিটে হয়ে গেছে ভাইয়া । কথায় কথায় খালি বকা দেয় আর ঝাড়ি মারে । নীলার মন খারাপ হয়ে গেলো । ঘরে আসার পরেই টেবিলে বসে গেল সে । কালকের কবিতাটায় আজকে আর মনোযোগ বসবে না । নতুন কবিতা লিখতে হবে । প্রতিবাদী কবিতা, মনে মনে ভাবলো নীলা)

"যেদিনের অশ্রু-হাসি
সেদিনের কষ্ট রাশি
আকাশের লাল-নীল চাঁদ
নেমেছে অথৈ রাত
বিষাদেই সিন্ধু অতল
করেছে খুশি কতল
অনেকের মাঝেই বাঁচা
ছেড়েছে জন্ম আশা"

কি মনে করে আবার ভাইয়ার ঘরের দিকে গেল নীলা । ঘরে ঢুকতেই যাবে এমন সময় ঘরের বাইরেই থমকে গেল সে । ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ঘরের ভিতর থেকে । তাহলে কি ভাইয়া কাঁদছে ? হ্যাঁ, ভাইয়াই তো । কারণ এই বাসায় তো তারা দুই ভাইবোন ছাড়া আর কেউ থাকে না । একলা ঢাকা শহরে এসে তারা দুইজন থিতু হয়েছে তাও তিন বছরের মত । মা-বাবা গ্রামেই আছে ।

নীলা এখানে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে । আর ওর ভাইয়া, নিলয় চাকরি করে সোনালি ব্যাংকে, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে । নিলয় কিন্তু মোটেও এরকম ছিল না । খুবই হাসিখুশি ছেলেটা মাতিয়ে রাখতো পুরো বাসা । কিন্তু সমস্যা হয়েছে রেখা চলে যাওয়ার পর । রেখা, নিলয়ের এক্স ওয়াইফ । একদিন নিলয় ব্যাংক থেকে ফিরে এসে দেখে বাসায় রেখা নেই । তখন এই বাসায় থাকতো খালি তারা স্বামী-স্ত্রী । রেখার বাসায়, এমনকি ওর বন্ধু-বান্ধবী সবাইকে ফোন দিলেও রেখার খোঁজ আর পাওয়া যায়নি । রেখা যেন পুরোপুরি গায়েব হয়ে যায় । পুলিশে খবর দিলেও রেখা আর কোনদিন ফিরে আসেনি বা তাকে পাওয়া যায়নি । এরপর থেকে নিলয় একা । এরপর কয়েকদিন পর নীলা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পায় । তখন বাড়ি থেকে সিদ্ধান্ত হয় সে উঠবে তার ভাইয়ের কাছেই । কিন্তু হাসিখুশি সেই ভাইটিকে আর তেমন হাসতে, কথা বলতে দেখে না এখন নীলা । যেন হারিয়ে গেছে পুরাতন নিলয় ।

- কি রে, তোর মন খারাপ কেন ? ভার্সিটির ক্লাসে নীলাকে চুপচাপ দেখে প্রশ্ন করলো রূপা ।
- ভাইয়াকে আজকে আবার কাঁদতে শুনলাম ।
- আবার ?
- হুম । আচ্ছা, তুই কি ভাইয়াকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলি ?
- হুম, পাঠিয়েছি । কিন্তু তোর ভাইয়া তো একসেপ্ট করেনি । মনে হয় ফেসবুকে আমাকে ব্লক করে দিছে ।
- (হঠাৎ কি ভেবে) আচ্ছা, তুই একটা কথা বলবি ?
- কি কথা ?
- তুই না সেদিন বললি, তোর আমার ভাইয়াকে ভালো লাগে । তুই নিশ্চয় ইয়ার্কি মারিসনি ?
- (প্রশ্ন শুনে ঢোক গেলে রূপা) না, মানে । করি তো । কিন্তু তোর ভাইয়া বলে কথা ।
- তো কি হয়েছে ? আচ্ছা, তুই কি আমার ভাইয়াকে বিয়ে করবি । তুই তো সব জানিস । তোর কাছে তো আমি সবই বলেছি । তোর বাবা-মা কি আপত্তি করবে ?
- না, ইয়ে মানে, আমি তোর ভাইয়ার কথা আর তার সব কথা আমার বাবা-মাকে বলেছি । তারা প্রথমে একটু নাখোশ হলেও এখন তারা রাজী ।
- সত্যি ? (আনন্দে যেন লাফিয়ে উঠলো নীলা) । তাহলে চল, আজকেই তোকে বাসায় নিয়ে যাবো ।
- কি !!? আজকেই ? ইয়ে মানে, আজকে না গেলে হয়না ?
- না, আজকেই তোকে যেতে হবে, চল ।

এরপর দুইবান্ধবী নীলার বাসায় চলে আসলো । নিলয় বসে ছিল তার ঘরে । রূপাকে ঠেলেই যেন ভাইয়ার ঘরে পাঠিয়ে দিলো নীলা । রূপা ইতস্তত করে ঘরে ঢুকলো । প্রায় নিঃশব্দেই নিলয়ের কাছে চলে আসলো রূপা । হঠাৎ সাহস সঞ্চয় করে নিলয়ের কাধে হাত দিলো রূপা । হঠাৎ পিছন থেকে হাত পড়তেই চমকে পিছন ফিরলো নিলয় । নিলয় পিছন ফিরে তাকাতেই রূপা সব লজ্জা ভেঙ্গে বলে ফেললো, আই লাভ ইউ । হঠাৎ-ই যেন রূপাকে জড়িয়ে ফেললো নিলয় । আর তখন তার চোখে কান্নার জল । এই কান্না সুখের কান্না, এই কান্না প্রিয় কাউকে ফিরে পাবার কান্না । আজ নিলয় সুখী, অনেক সুখী ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৫৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×