somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

পাগল-ছাগলে দেশ ভরে গেছে... এই দেশে কি আর বাঘ থাকে ? তাই বাঘেরা দল বেঁধে ভারত ঘুরতে গেছে, ভাবছি আমিও গিয়ে ঘুরে আসবো, ওদের মত ফ্রি যেতে পারবো কি ?? X( X((

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উপরের ছবিতে যাকে বক্তব্য দিতে দেখছেন, তাকে বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন, তাদের সবারই চেনার কথা । তবে যারা চেনেন না, তাদের জন্য বলি, ইনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু । যারা এই লোকটাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তারা জানেন, এই লোকটির রাজনীতিক ব্যাকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগের নয় ।

আমরা সবাই কমবেশি জানি যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দিন দিন কমছে । সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সারা বিশ্বের মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও ভারতেই পাওয়া যায়, তাও শুধু সুন্দরবনে । কিন্তু বাংলাদেশের এই ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের ব্যক্তি বলে ফেললেন একেবারেই অদ্ভুত রকমের একটি কথা । যাই হোক, আসলেই লোকটি একটা বিরাট কাজ করে ফেলেছেন । যেই ঘটনাটি বলছি সেটি অবশ্য নতুন নয় । ২০১৫ সালের জুলাই মাসের দিকের ঘটনা । বিশ্ব বাঘ দিবস-২০১৫ উপলক্ষ্যে ২৩শে জুলাই, ২০১৫ রোজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে মাননীয় মন্ত্রী বক্তব্য দিতে দিতে এক পর্যায়ে বলে ফেলেন, কে বলেছে বাঘ কমে গেছে? বাঘ পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে বেড়াতে গেছে । বেড়ানো শেষে আবার চলে আসবে । আমি এই কথা শোনার পর পর তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত শিক্ষিত লোকদের রি-অ্যাকশনের কথা ভাবছি ।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক, এতদিন পর এই ঘটনা কেন তোলা হলো ? কারণ যারা সুন্দরবনের কাছাকাছি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি নিয়ে সরকারের সব ধরনের চেষ্ঠা-তদবির সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তাদের এটাও বুঝার কথা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নিয়ে বললেই প্রথমেই আসে বাঘের কথা, বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল বাঘ । এই বাঘ সম্পর্কেই একজন মাননীয় মন্ত্রীর এরকম গদর্ভ কথাবার্তা শুনলেই বুঝা যায় সরকার বিশেষ করে বর্তমান এই সরকার সুন্দরবনের বাঁচা-মরা নিয়ে কতটা সিরিয়াস ।

বেড়াতে গেছে !!! সিরিয়াসলি ? এরকম গাধার মত কথাবার্তা মন্ত্রীমশাই যখন বলে ফেললেন সকলের সামনে, তখন উনার কি নিজের মুখ নিজের চেপে ধরতে ইচ্ছা করলো না একবারও ? যারা জানেন না, তাদেরকে জানাই, সুন্দরবনের ভিতর বাংলাদেশ-ভারতের বর্ডার তৈরি করা হয়েছে একমুখী করে । অনেকটা এমন যে, কোন বন্য প্রাণী যদি বর্ডারের কাছে গিয়ে সামান্য ধাক্কা দেয় তাহলে বর্ডারের দরজা দিয়ে তারা সহজেই ঢুকতে পারবে, তবে বিপরীত পথে যতই ধাক্কা-ধাক্কি করুক, দরজা আর খুলবে না । তাই যে যে বন্য প্রাণী ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে ভারত চলে গেছে, তারা আর কোনদিন বাংলাদেশে এই উপায়ে ফেরত আসতে পারবে না, চাইলেও । এখন যদি মন্ত্রী মশাই দাদাদের পা ধরে কান্নাকাটি করে বন্য প্রাণীগুলোকে ফিরিয়ে আনতে পারেন, সেটা অবশ্য অন্য কথা ।

আবার ঐ সম্মেলনে মন্ত্রী মশাইয়ের কাছ থেকে এক মুখে দুই রকম কথা শোনা গিয়েছে । তিনি একবার বলেছেন, সুন্দরবনের বাঘ কোনোদিনই বিলুপ্ত হবে না আবার অন্য আরেক সময় বলেছেন সম্প্রতি প্রকাশিত বাঘের পরিসংখ্যানটি সঠিক নয়। পরিসংখ্যান যারা দেয় তারাও সত্যবাদি নন। আমার আত্মীয়স্বজনরা সুন্দরবনে বেড়ানো শেষে বলে বাঘ দেখে এসেছি। তখন পরিসংখ্যানকারীদের জিজ্ঞেস করলে বলে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে এসেছি। এই হলো বাঘ দেখার পরিস্থিতি। পায়ের ছাপ দেখে ও ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ কখনই সম্ভব নয় । দ্বিতীয় কথার মাধ্যমে কিন্তু পরিস্কার বাঘের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কম অথচ প্রথম কথাতেই তিনি ঠিক উল্টোটা বলেছেন । আসলে মন্ত্রী মশাই মাইক পেয়ে উল্টাপাল্টা যে বলে ফেলছেন, তা তখন পর্যন্ত হয়তো বুঝতেই পারেননি ।

আগেও দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসেনি কিন্তু জোট করার বদৌলতে মন্ত্রী হয়েছে, এরা এরকম পাগল-ছাগলের মত কাজ করেই চলেছে যত্রতত্র । এর উদাহারন আর পরিস্কার করে দিতে চাচ্ছি না, আপনারাই ভালো বুঝেন । বর্তমান সরকারের মন্ত্রী এমন অধমের মত কথাবার্তা বলে ভারতপ্রীতিকে জনসম্মুখে দেখাতে পারেন, তা হয়তো চিন্তারও বাইরে । এমন মন্ত্রীদের কারণেই দেশের এমন বেহাল অবস্থা । আর তাছাড়া ভারতকে খুশি করার জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও তো তৈরি করা হচ্ছে । তাই আর যাই হোক, সুন্দরবন মুড়ি খাক, দাদা রা খুশি থাকলেই সব ঠিক । কেন জানি মনে হচ্ছে, বাঘের যদি সত্যি সত্যি শুনার আর বুঝার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে এই কথা শুনে রাগে-ক্ষোভে হলেও বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতো আর কোনদিন ভুলেও ফিরে আসতো না ।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×