somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

গল্প - অসময়ের আফসোস আর দোলাচল পরিস্থিতি :| :|

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরে আরে, নিয়া গেলো তো, এই ধর ধর ওরে, এই আপা, এই যে, আরে, কি ঘুমান নাকি ?

আশেপাশে মানুষের জটলা বেঁধে গেছে । সীমা ঘুমাচ্ছিল না কিন্তু গভীর চিন্তায় ডুবে ছিল । আচমকা চিৎকার-চেঁচামিচিতে তার হুশ ফিরে এলো । হ্যাঁ, কি হয়েছে !!

আরে, বেকুব নাকি !! মানুষ এমনে ঘুমায় !! আরেকটু হইলেই তো গলার থেকে চেইন টা টান দিয়া নিয়া যাইতো আপনার । সে তো ভাগ্য ভালো, এই ভাইটা আগেই দেইখা ফালাইছিল হারামিটারে আপনার গলায় হাত দেওয়ার আগে ।

আসলে বাসটিতে অনেক মানুষ । সীমা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো ঐ লোকটির দিকে, যে লোকটি তার গলার সোনার চেইনটিকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাচিয়েছে । লোকটি না বলে ছেলেটি বলাই ভালো হবে । ২৪-২৫ বছরের একটি ছেলে, চোখে হাই পাওয়ারের চশমা, ফোকলা দাঁত নিয়ে হাসি দিয়ে সীমার দিকে তাকিয়ে আছে । মনে হচ্ছে, বেশ বীরত্বপূর্ণ একটা কাজ করে ফেলেছে । সীমা শুকনোভাবেই ছেলেটিকে একটি ধন্যবাদ দিয়ে আবার সোজা হয়ে বসলো । এই শুকনো ধন্যবাদের কারণেই হয়তো কিন্তু ফোকলা দাঁতের ছেলেটির হাসি বন্ধ হয়ে গেলো হঠাৎ-ই ।

সীমা মোহাম্মদপুর থেকে উঠেছে বাসে । গন্তব্য সায়েদাবাদ । বর্তমান ঘটনাস্থল ঠিক প্রেসক্লাবের সামনে । বেশ অনেকক্ষণ ধরেই জ্যাম বেঁধে বাসটি আটকে আছে । কিন্তু সীমার মনে চলছিল গভীর চিন্তা । সে কি আসলেই ঠিক দেখেছে ? হিরণ কি সত্যি সত্যি ঐ মেয়েটির সাথে হেসে হেসে কফি খাচ্ছিল ? হিরণ আগে কোনদিন তো বলেনি যে তার কোন মেয়ে বন্ধু আছে !! বলাই বাহুল্য হিরণ সীমার বাগদত্তা । দুই পরিবার থেকেই ঠিক হয়েছে এই সম্পর্ক । সীমা কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করেছে আর হিরণ একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার । আজ শনিবার, স্বভাবতই হিরণের অফিস ছুটি । সীমা হিরণকে সারপ্রাইজই দিতে চেয়েছিল, তাই তো কুমিল্লা থেকে অনেকটা না বলেই চলে এসেছিল মোহাম্মদপুর । ভেবেছিল হিরণের বাড়ির সামনে এসেই হিরণকে ফোন দিয়ে সারপ্রাইজ দেবে সে । কিন্তু এ কি !! এ কি দেখলো সে !! পথের মধ্যেই এই ভর দুপুরে, আরেকটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কফি পর্ব, নাহ, সীমার কোনরকমেই মাথাই ঢুকছে না বিষয়টা ।

ওদিকে, ঢাকার লোকাল বাসের বিষয়গুলো একটু অন্যরকম । লোকাল বাসগুলোতে উঠলেই কেমন জানি যাত্রীরা একে অন্যের আত্মার সম্পর্কিত হয়ে যায় । বাসের কন্টাক্টর-হেল্পার-ড্রাইভারের সাথে কোন একজন যাত্রীর ঝামেলা বেঁধে গেলেই এর প্রমাণ ভালোভাবেই পাওয়া যায় । তাছাড়া কতশত সুখ-দুঃখের গল্প ফেদে বসে তারা । এছাড়া দেশ কিংবা বিশ্ব নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও বিবিধ সাজেশন তো আছেই । আবার অনেকে তো এও করে যে আরেকজনের পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা কিভাবে কাটানো যায়, সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন প্রদান করে, তাও একেবারে ফ্রিতে ।

সীমার মনোযোগ বাসের ভিতরে একেবারেই নেই, তাই সে খেয়াল করেনি বাসটিতে ঐ ঘটনার পর এখন হট টপিকস হয়ে আছে যে, সত্যি সত্যি চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে গেলে মেয়েটি কি করতো । কেউ কেউ বলছে, হয়তো বুক চাপড়িয়ে কাঁদতো । কেউ কেউ বলছে, বাড়িতে ফোন করে হাউমাউ করে কাঁদতো । আবার কেউ কেউ বলছে, ছিনতাইকারীর পিছন পিছন দৌড় দিতো । হঠাৎ বাসের পরিবেশ গুরুগম্ভীর হয়ে গেলো কিন্তু সীমার সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই একেবারেই ।

নাহ, হিরণকে নিয়ে আর ভাববে না সে । আচ্ছা, হিরণ যদি সত্যি সত্যি দোষী না হয় !! সে যদি পরিস্থিতি এক্সপ্লেইন করতে পারে !! কিন্তু কিভাবে ? সীমা সিদ্ধান্ত নিলো সে আর চিন্তা করবে না । তখনই তার মনে পড়লো, তাই তো !! ঐ লোকটিকেই তো ধন্যবাদ দেওয়া হলো না, যে তাকে ডেকে তার হুশ ফিরিয়ে এনেছিল আর সবার হয়ে তার সাথে কথা বলার প্রতিনিধিত্ব করছিল । সীমা ঘাড় ঘুরিয়ে বাসের পিছনের দিকে লোকটিকে খুঁজার চেষ্ঠা করলো কিন্তু পেলো না । তাহলে কি লোকটি নেমে গেলো !! ধুর, এই ধন্যবাদ না দেওয়ার আফসোসটা তো থেকেই যাবে !! আসলে মানুষ অনেক কিছুর গুরুত্ব সময়ে বুঝে না, অসময়ে ঠিকই সেটা নিয়ে আফসোস করে ।

একটু পরই জ্যাম ছেড়ে গেলো । বাসটি গুলিস্তান হয়ে সায়েদাবাদ পৌছালো । সায়েদাবাদ পৌঁছেই সীমা বাস থেকে নেমে গেলো । কুমিল্লাগামী বাসের টিকিট কেটে বাসে উঠতে যাবে সে এমন সময় খেয়াল করলো, হিরণ ফোন করেছে । আচ্ছা, সে কি ফোন ধরবে !! হঠাৎ ফোন ধরা আর না ধরার দোলাচলে নিজেকে বেশ অসহায় মনে হতে লাগলো তার ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৫৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×