আচ্ছা, ধরুন, আপনি, আপনার আব্বু আর আপনার আম্মু একসাথে আপনার বাসার ড্রয়িং রুমে বসে গল্পে মজে আছেন, কখনো হাসির কিছু শুনে হাসছেন আবার কখনো পুরাতন কিছু স্মৃতিচারণ করছেন।
হঠাৎ কোত্থেকে বলা নেই, কওয়া নেই, আপনাদের বাসার মেইন দরজা খুলা, এই সু্যোগ নিয়ে কেউ একজন আপনার বাড়িতে ঢুকে গেলো। এরপর সোজা ড্রয়িং রুমে চলে এসে আপনার আব্বুর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, "এই বাটপার, তোর খবর আছে আজকে"। ঘটনার আকস্মিকতায় আপনারা সবাই হতবিহ্বল। এরপর ঘটলো আরও অদ্ভুত ঘটনা, সেই ব্যক্তি আপনার আব্বুকে একটা চড় মেরে বসলো।
আচ্ছা, তখন আপনি কি করবেন?
ভয়ে ভিতরের ঘরে পালিয়ে যাবেন? নাকি আব্বু কে বাচানোর চেষ্টা করবেন? নাকি লোকটিকে ধরার চেষ্টা করবেন?
একজন ছেলে হয়ে থাকলে আপনি লোকটিকেই ধরার চেষ্টা করবেন, ততক্ষণে ক্রোধে আপনি পুরো লাল হয়ে যাবেন। আবার একজন মেয়ে হয়ে থাকলে আপনি আপনার আব্বু-আম্মু দুইজনকেই বাচানোর চেষ্টা করবেন।
আচ্ছা, লোকটিকে ধরতে পারলে তাকে শাস্তি কি নিজে দেবেন? নাকি পুলিশে খবর দিবেন? নাকি এলাকায় সালিশ ডেকে বিচার করবেন?
আপনি সামর্থ্যবান হলে নিজেই দু ঘা বসিয়ে দেবেন আর না হলে পুলিশ, সালিশ ইত্যাদি অপশন বেছে নিবেন। এখন এই যে সামর্থ্যবান হয়ে আপনি দু ঘা বসালেন, তাতে কি আপনি অমানবিক হয়ে গেলেন? নাকি ঐ লোককে পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে কিংবা সালিশের মাধ্যমে একঘরে করে রাখায় আপনি অমানবিক হয়ে যাবেন?
নাহ, আপনি অমানবিক হবেন না। তাহলে আমার রাসূল, আমার আল্লাহকে নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করে, বাজে অংগভংগি করে, অশ্লীল বা ব্যাংগাত্বক কার্টুন, ছবি ইত্যাদি আকে, তাদের বিরুদ্ধে আক্রোশ দেখালে (দুই ঘা বসিয়ে দেওয়ার মত), তাদের পণ্য বয়কট করলে (একঘরে করার মত), তাদের বিচার দাবী করলে (পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালে) আমরা মুসলমানরা অমানবিক হবো কেন?
মনে রাখতে হবে, এই রাসূলকে কিন্তু আমার বাবা - মা, নিজ আত্নীয় স্বজন, প্রিয় মানুষগুলোর চাইতেও বেশি প্রাধান্য দিতে হবে, ভালোবাসতে হবে আর সৃষ্টিকর্তাকে আল্লাহকে কতটুকু কি করতে হবে, সেই কথা নাইবা বললাম। যারা প্যানপ্যান করে বলে যাচ্ছেন, আমরা ফ্রান্সের পণ্য বয়কট করার প্রতিবাদে ফ্রান্স যদি আমাদেরকে বয়কট করে তাহলে তো বিপদ!! বিপদ, আপদ, রিজিক ইত্যাদি সবকিছুর মালিক আল্লাহ। রিজিক তিনিই দেবেন, আজকে মৌনতা অবলম্বন করে তাকে অখুশি করে রিজিকের নিশ্চয়তা চান কিভাবে আপনি?
অনেকেই যুক্তি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অধিকাংশই ধার্মিক, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানবিক না। এটা একেবারে ১০০% ডাহা মিথ্যা কথা। সব ধর্মই মানুষকে প্রকৃতপক্ষে মানবতার শিক্ষা দেয়। আপনি মানবিক না, মানে আপনি ধার্মিকও না।
আমি নাস্তিকতার বিরুদ্ধে নই কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষের বিপক্ষে। আপনি আমাকে অপমান করলে আমি যেমন নিজেকে রক্ষা করবো, ঠিক তেমনি আপনি আমার ধর্মকে অপমান করলে সেই সময়ও আমার ধর্মকে রক্ষা করা আর আপনাকে প্রতিরোধ করা আমার কর্তব্য। আপনি বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হয়ে হয়তো এই কাজ করছেন কিন্তু আশেপাশের অনেককিছুতে আপনাকে চুপ থাকতে দেখে আমি বুঝে গেছি এটা স্রেফ আপনার ভন্ডামি।
দেশে চলমান দুটি পক্ষ হয়ে গেছে পারতপক্ষে। একপক্ষে ইসলামের পক্ষে আরেকপক্ষ ইসলামের বিপক্ষে। আমি বিশ্বাস করি, যে কোন মতে দুটি পক্ষ থাকতেই পারে কিন্তু সেটাতে ততক্ষণ পর্যন্তই শান্তি বজায় থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত বিপক্ষ শক্তি এমন কোন কর্মকান্ড করে না ফেলে কিংবা এমন কিছু বলে না ফেলে যা সম্পূর্ণ স্বার্থসিদ্ধির জন্য হয়ে যায়। আর মনে হচ্ছে, দেশে একটা পক্ষ নিরপেক্ষ থেকে মজা নিচ্ছে। এরাই মূলত ইসলামের পক্ষের ও বিপক্ষের মধ্যে দাংগা তৈরি করতে চায়, এটা নিয়ে সবাইকে খুব সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



