Elephant Bathing

হাতির পিঠে আপনি চড়ে বসবেন আর হাতি তার শুড় দিয়ে পানি তুলে আপনার গা ভিজিয়ে গোসল করিয়ে দেবে। বিষয়টি ভাবতেই কেমন লাগে, তাই না? হ্যা, চিতোয়ানে Elephant Safari-এর পর ৫ই জুন সকাল পৌনে নয়টার দিকে আমরা হোটেলে চলে আসলাম। ৯ টার দিকে ব্রেকফাস্ট সেরে খানিকটা রেস্ট। সকাল ১০ টার দিকে গাইড রমেশ আমাদেরকে নিয়ে গেল হোটেলের নিকটবর্তী রাপ্তি নদীর তীরে। সেখানে পৌছে দেখি অনেক হাতি অপো করছে নদীর তীরে। চলছে হাতির পিঠে চড়ে গোসল উৎসব। মাহুতেরা পর্যটকদের উঠানোর জন্য হাতিকে তীরে এনে বসিয়ে দেয়। তারপর ১ জন ২ জন করে নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যায়। নদীতে পানি খুব বেশি নয়। স্বচ্ছ টলটলে পানির নিচের পাথরগুলো চক চক করছে। রমেশের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরাও উঠে পড়লাম এক হাতির পিঠে। মহিলারাও বাদ যাচ্ছে না। হতির পিঠে সামনে পর্যটকদের বসিয়ে পেছনে উঠে মাহুত। মাহুতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাতি শুড় দিয়ে পানি তুলে ঢেলে দিচ্ছে আরোহীর গায়। মনে হয় কে যেন বালতি ভরে পানি ঢেলে দিল আপনার গায়। আবার মাহুতের নির্দেশ, আবার পানি। এভাবে চলবে আপনি যতণ তৃপ্ত না হবেন মাহুত নির্দেশ দিতেই থাকবে আর হাতি তার শুড় পূর্ণ করে আরোহীর গায়ে ঢালতেই থাকবে। আনন্দে ভরে উঠছে আরোহীর মন। মাঝে মধ্যে যে বিপত্তি ঘটে না তা নয়। আমাদের পাশেই হাতিতে চড়ে এল বাচ্চা সহ এক দম্পতি। মহিলা হাতির পিঠে চড়ে খানিকটা ভয়ও পাচ্ছে। ভয়ের অবশ্য কারণও আছে হাতির পিঠটা পুরোপুরি সমতল নয়। কিছুটা এবড়ো থেবড়ো। আর হাতি যখন তার বিশাল শরীরটা হেলিয়ে দুলিয়ে চলতে থাকে তখন আরোহীর দেহও খানিকটা পাশাপাশি দোলতে থাকে। শরীরের ব্যালেন্স রাখতে না পারলে পড়ে গিয়ে ঘটতে পারে বিপত্তি। সেই বিপত্তিটাই ঘটল হাতির পিঠের ঐ দম্পতির বেলায়। নদীর মাঝ বরাবর গিয়ে হাতি যখন একটু গভীর পানিতে গা সামান্য এলিয়ে দিল মহিলা তার বাচ্চা সহ একেবারে কুপোকাত নদীর পানিতে।
মাহুতের সাহায্যে রক্ষা পেল বেচারী। হাতির পিঠে চড়ে গোসল করতে কোন টিকেট লাগে না, পুরোটাই টিপ্সনির্ভর। রমেশ আমাদের জানিয়েছিল প্রতি জনে কমপে ১০০ রুপি টিপ্স দিতে হয় হাতিওয়ালাকে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৮