somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিকতার লেবাসে দেশ ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত প্রথম আলো সম্পাদক

১০ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাংবদিকতার লেবাসে দেশ ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত। তিনি দেশের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে তিনি যে জড়িত তার প্রমাণ আছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ব্যবস্থা করতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় সংবাদপত্র পাঠক ফোরাম আয়োজিত 'জঙ্গি তাজউদ্দীনের পৃষ্ঠপোষক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই' শীর্ষক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন। পাঠক ফোরামের আহ্বায়ক জহিরুল হকের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ওয়ালি-উর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, আওয়ামী লীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ সাত্তার, নাট্যকর্মী আসলাম শিহির, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত কাজী শাহানারা, বাংলাদেশ চিলড্রেনস ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ বাবলু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

ওয়ালি-উর রহমান বলেন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত তার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রথম আলোতে লিখেছিলেন, 'শেখ হাসিনা, আপনি সরে পড়ুন'। ওই লেখায় মতিউর রহমান শেখ হাসিনাকে বিদেশে অথবা অবসরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সংসদে ডেকে মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করাসংক্রান্ত সংসদ সদস্যদের দাবি সমর্থন করে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সংসদ সদস্যদের গাড়ি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকৃত। তাদের সম্মান করে শুল্কমুক্ত গাড়ি দেওয়া হয়। অথচ প্রথম আলো সম্পাদক এটা নিয়ে কটাক্ষ করছেন। মতিউর রহমান বারবার আমাদের সেনাবাহিনীকে উস্কানি দিয়েছেন এমন অভিযোগ করে ওয়ালি-উর রহমান বলেন, 'দয়া করে, অনুগ্রহ করে দেশটাকে, দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচতে দিন'।

অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন আষাঢ়ের কাদা দেখেছ কিন্তু চৈত্রের ঢেলা দেখনি। মতিউর রহমান এখন শুধু কাদাই দেখছেন। কিন্তু সাবধান মতিউর রহমান, আপনি খুব শীঘ্রই চৈত্রের ঢেলা-ও দেখবেন। তিনি বলেন, আরেক পাগলা ব্যারিস্টার দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র নিয়ে উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিচ্ছেন। ওই পাগলা ব্যারিস্টার কি জানেন না কারা একাত্তরে এ যুদ্ধ করেছিলেন আর কারা শহীদ হয়েছিলেন? অবিলম্বে ওই পাগলা ব্যারিস্টারেরও বিচার দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, কিছু বদমাশ আপনার দলে ঢুকেছে। এদের ধরুন, শাস্তি দিন। এতে আপনার ইমেজ আরো বাড়বে।

অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ সাত্তার বলেন, সাংবাদিকতার লেবাসধারী মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। তিনি দেশ ধ্বংসের চক্রান্ত করছেন। অবিলম্বে তাকে বন্দী করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের অবদান ছিল বেশি। সঠিক তদন্ত হলে মৃত জিয়াউর রহমানের ফাঁসি হতো বলে দাবি করেন তিনি। রাজনীতিতে জামায়াত ও স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রথমে জিয়াউর রহমান এবং এখন খালেদা জিয়া পুনর্বাসিত করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নাট্যকর্মী আসলাম শিহির বলেন, সব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা বের হয়ে আসবে। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাকারী মাওলানা তাজউদ্দীনের সঙ্গে মতিউর রহমান সিরিজ বৈঠক করেছিলেন। অবিলম্বে মতিউর রহমানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান তিনি।

জহিরুল ইসলাম বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনো ক্রিয়াশীল। এদের চিহ্নিত করতে হবে। সোনার বাংলা গড়তে হলে এসব অপশক্তি নির্মূল করার কোনো বিকল্প নেই।

কাজী শাহানারা বলেন, মতিউর রহমান পত্রিকা ব্যবসায় এসেছেন ষড়যন্ত্র ও হীনস্বার্থ চরিতার্থের জন্য। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

ইউসুফ বাবলু বলেন, গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত মতিউর রহমান এখন মহাজোট সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন জাতি জানতে চায়। অবিলম্বে মতিউর রহমানকে গ্রেফতারেরও দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলীর বিরুদ্ধে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া মতিউর রহমানকে 'মাইনাস টু ফর্মুলা'র জনক বলেও অভিহিত করা হয়।

বিস্তারিত :http://bangladesh-pratidin.com/?view=details&type=single&pub_no=166&cat_id=1&menu_id=1&news_type_id=1&index=1
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ঈদ উৎসব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮


রোজা শেষে ঈদের দিনে ঈদগাহে যাই 
চতুর্দিকে চেয়ে দেখি খুশির রোশনাই।

মলিন পোশাকে  এদিকে ওদিক চাই 
মনে কিছু কষ্ট  জাগে বিভেদ ভাবনায়। 

হঠাৎ চোখে পড়ে অসহায় এক ছেলে
এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি।

আরবের সাহিত্যের স্বর্ণযুগে, যখন কবিতা ছিল জাতির প্রাণশক্তি এবং ওকাজের মেলায় কাব্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসো ঈদের গল্প লিখি.....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


সামুতে নেই আর সেই আগের দিনের ঈদগুলো। ঈদের পোস্ট, গল্প লেখা,কবিতা, স্মৃতিচারণ কিছুই আর আজ নেই। সব কোলাহল ছাপিয়ে সামু আজ দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অনেকটাই নিশ্চুপ। কেউ কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×