somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসা

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বড় গ্যারেজে পেইন্টার
মিস্ত্রি হিসেবে একনামে চিনে সবাই হেলালকে ।
ছেলে ভালো,রেগুলার
টাইমলি চলে আসে গ্যারেজে,কাজ যদিও একটু
ধীরে করে তবে কাজে কোনো ভুল থাকেনা।মালিকও তাই
খুশি।বেতনও বাড়িয়ে দেবার চিন্তা করে হয়তো।
সারাদিন সেলাই মেশিনের গড়গড় শব্দে কান ঝালাপালা
জুলির।বিরক্ত লাগে গার্মেন্টসে কাজ করতে। তবুও
করতে হয় পেটের দায়ে।লোকাল
গাড়িগুলোতে মহিলা সিটের সংখ্যা কম হুয়াই
ম্যাক্সিমাম টাইম দাঁড়িয়ে আসতে হয়,আর প্যাসেঞ্জার
ভর্তি হলে তো গাড়িতে উঠতেই পারেনা। তার উপর আবার
ট্রাফিক জ্যাম।সব মিলে মোটামুটি সবসময় দেরি হয় তার।
মালিকও খিস্তি-খেওর করে অনেক।
সয়ে গেছে বলে গায়ে লাগেনা আর জুলির
হেলালের গ্যারেজটা থেকে জুলির গার্মেন্টস খুব
বেশি দুরেনা।হেঁটে যেতে ১৫মিনিটও লাগে।হেলাল
সাইকেলে ৫-৭মিনিটে পৌঁছে যায় গ্যারেজের
সামনে প্রতিদিন সন্ধায়।গ্যারেজের সামনে ভ্যানগাড়ির
একটি ফুসকা-চটপটির দোকানে বসে দুজনে নাস্তা করে।
অনেক ভালবাসে একে-অপরকে।কাজ শেষে প্রতিদিন
ক্লান্ত দুজন গল্প করতে করতে ফুসকা খাই।এদিক-ওদিক
তাকিয়ে খুউব গোপনে একে-অপরকে খাওয়ায় দেয়
ভালবাসার ফুসকা
এভাবেই তাদের ভালবাসা চলতে চলতে আজ প্রায় দু'বছর
হয়ে গেল।কখন যে এতগুলা সময় পার করে আসল-ফুচকার
দোকানটাই বোধহয় তার সাক্ষী!!
আজ কিন্তু হেলালের খুব
ইচ্ছে করছে জুলিকে নিয়ে শহরের বড় নামী-
দামী রেস্টুরেন্টে খাবে।জুলিও রাজি।
আগেভাগে হেলাল ছুটি নিয়ে রেখেছে।জুলি নেয়নি।
নিলেও পাবেনা তাই।'একে তো সবসময় লেট,তার উপর
আবার কাজের চাপ'-মালিক এটা বলবে শিওর। তাই কাজ
ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট দিনে যথাযায়গায় হাজির দুজনে।
হলদে একটা টাইট থ্রিপিজ পড়েছে জুলি।অনেক সুন্দর
লাগছে তাকে।হেলাল একটা ঢোলা লাল টকটকে শার্ট
আর গাড় নীল জিনস্ পড়েছে।দুজনে আজ লোকাল
গাড়িতে না রিকশায় চড়বে।রেস্টুরেন্টে গেলো।খাবার
অর্ডার করল মুখে,মেনু দেখে না। খাবার
আসতে দেরী হবে;হোটেলে হলে তাড়াতাড়ি চলে আসতো।
এখানে দেরী করা হয় কারণ এই সময়টুকু দেওয়া হয় যুগলদের
একান্তে কথা বলার নিমিত্তে।হেলাল-জুলি আলাপ
না করে অন্যদের কার্যকলাপ দেখছিল।
জুলি নিচুস্বরে বলল,'ছি:!কি বিশ্রি!
ওদিকে তাকিয়ে আছো ক্যান্?'হেলাল অবাক,নির্বাকও
বটে।এখনো অপলক তাকিয়ে আছে।জুলি এবার
জোরে তাকে চিমটি দিল
:উহ!!কিরে-বিরক্তিমাখা কণ্ঠস্বর হেলালের
:কিরে মানে,কি দেখো এরকম ওদিকে?-জুলি ask করল
:দেখছি না,শিখছি যে-হেঁসে জবাব দিল হেলাল
:এসব শিখতে হবেনা,নতুন করে প্রেম শিখছ?
ইতোমধ্যে খাবার চলে এলো।এতগুলা চামচের কি দরকার?
প্রকৃতি প্রদত্ত হাতে পাঁচটি চামচ আছে,ওগুলোই use করল
তারা। খাওয়া দাওয়া শেষ হতে না হতেই জুলি টিস্যু
দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল,'চল
যাই,দেরি হয়ে যাবে আবার।'
:হুম,যাবো,একটু পর,কারণ এতক্ষণ
যা শিখেছি তা বৃথা যেতে দিয় কি করে?-হেলাল
ম্রিদুহেসে বলল
-মানে কি?এতটুকু বলেছে মাত্র জুলি।এর আগেই তার
মাতা হেলালের বুকে চলে যাই।চোখে শুধু লাল
টকটকে আভা দেখতে পায় জুলি।শক্ত
করে জড়িয়ে ধরেছে হেলাল।'করছো কি এসব,দেখবে সবাই,ছাড়ো!-
মধুমাখা রাগান্বিত স্বর জুলির।
হঠাৎ আর কোনও কথা বলতে পারছেনা জুলি।
দুজনে চুপ,কোনো আওয়াজ নেয়।এজন্যই বোধহয়
ইনগ্রিড_বার্গম্যান বলেছেন,"শব্দ যখন নিরর্থক
হয়ে উটে,তখন কথা বন্ধ করার জন্য প্রকৃতি চুম্বনের
মতো মধুর ফন্দি বের করেছে।"

'জগতের সকল প্রাণি সুখী হোক,সকল প্রেম
দীর্ঘজীবী হোক।।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদির আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আর প্রবাসীদের পুরনো বন্দিদশা: আমাদের শ্রমবাজারের নতুন সংকট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

বাইরে যুদ্ধাবস্থা, রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের লাগাতার ড্রাফট-মিসাইল হামলা, আর অন্যদিকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো একে একে বাতিল বা স্থগিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে আবারও এক মারাত্মক অন্ধকারের ছায়া নেমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×