পূর্বে প্রকাশের পর
........................
হঠাৎ দৌড়ে যাওয়া এক লোকের ধাক্কায় আমার ঘোর কাটলো। আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগুতে থাকলাম। ফার্মগেটের ভীড় আমাকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। রিক্সা নিতে ভাল লাগছে না। বৃষ্টি শুরু হলো ঝিরঝির করে। হেঁটে হেঁটেই ফ্ল্যাটে পৌছালাম। দুই রুমের একটি বাসা। যাযাবর জীবন। আমি একাই থাকি। রাত বাদে সকালের নাস্তা আর লাঞ্চ করি বাহিরে। রাতে নিজেই রান্না করি।
শরীরটাকে এলিয়ে দিলাম বিছানায়। বৃষ্টিতে সারা শরীর ভিজে গেছে। মোবাইলটাকে বন্ধ করতে যেয়েও বন্ধ করলাম না। ভাবলাম শ্রাবণী যদি আবার ফোন দিয়ে বসে। হঠাৎ ঝমঝম করে বৃষ্টি নেমে এলো। বিদ্যুত চলে গেলো। এই এমন এক বৃষ্টির দিনেই ওর সাথে আমার প্রথম পরিচয়। সেদিন যদি বৃষ্টি না হতো তবে তো শ্রাবনীর সাথে পরিচয়ও হতো না। আর তবে তো ওর আর আমার জীবনটা এমন হতো না। ওর, শ্রাবনী নামটা কিন্তু আমারই দেয়া।
নাহ্ অনেক হয়েছে। আর না। কেন আমি আর ওকে নিয়ে ভাববো? ও তো এখন আর আমার না। জেনেছি, ওর স্বামী আছে। যদিও রবিন (শ্রাবণীর স্বামীর নাম) মোটেই ভাল ছেলে না। এই রবিনই আমাকে এখানে আজ নিয়ে এসেছে। বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে ঢুকে হাতমুখ ধুলাম। খুব ক্ষিদে লেগেছে। আবার রাতের জন্য ভাত রান্না করতে হবে। কিন্তু কিচ্ছু ইচ্ছে করছে না। একটা সিগারেট ধরিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসলাম। বৃষ্টির ফোটা গুলো বেশ বড় বড়। আজ আকাশও শ্রাবনীর সাথে কাঁদছে।
রাজশাহী ভার্সিটির এক অন্যতম মুখ ছিল এই শ্রাবনী। পড়ালেখা, গানবাজনা, খেলাধুলা সব সবকিছুতেই ছিল ওর পদচারনা। ভার্সিটির কালচারাল প্রোগ্রামে ও গান গাইলে আমি গীটার বাজাতাম। সেই গিবসন্ স্প্যানিশ গীটারটা এখন আছে। কিন্তু আর ছয়টি তারে সুর বাজে না। শ্রাবনী দুষ্টমী করে বলতো, "তুমি কি গীটার বাজিয়ে আমার মন জয় করতে চাও?" আমি উত্তরে কিছু না বললেও আমার গীটারটা উত্তর দিতো ঠিকই। এ উত্তর যে শ্রাবণী বুঝতে পারতো তা আমি বুঝতাম ওর চোখ দেখে।ও আচ্ছা এখানে বলে রাখি, আমরা দুজনই রাজশাহী ভার্সিটি থেকে পাশ করেছি। ও পড়তো সাইকোলজিতে। আর আমি বায়োকেমিষ্ট্রিতে। শ্রাবণী আমার এক ব্যাচ জুনিয়র ছিল।
বিদ্যুত এলো। ঘরের লাইট গুলো বন্ধ। কলিং বেলের আওয়াজে সম্বিত ফিরে পেলাম। কে এলো এসময়?
কে? কে?
আমি, দরজা খোলেন।
দরজা খুলে দেখি রহমত চাচা। আমি যে বাসায় ভাড়া থাকি, সেই বাসার দারোয়ান।
ঘুমায়া পড়ছিলেন?
না, বলেন চাচা কি বলবেন।
রহমত চাচা হাতে থাকা একটা খাম দিয়ে বললো, এইডা আইজকা দুপুরবেলা আইসে। বাজানের শরীলডা কি খারাপ?
বললাম, না, এই একটু মাথাটা ব্যথা করছে। চাচাকে বিদায় দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। চিঠিটা খুলতে ইচ্ছে করছে না। আরেকটি সিগারেট ধরিয়ে টান দিয়ে কি মনে করে আবার চিঠিটি খুললাম। এতো দেখি স্কলারশীপের চিটি। দেখেই মনটা কিছুটা ভাল হলো। বেশ কিছু দিন আগে জাপানে এপ্লাই করেছিলাম। চিঠিতে এম্বাসীতে যোগাযোগ করতে বলা হয়ছে। আজ অনেকদিন পরে শ্রাবণীর দেখা পেলাম আবার স্কলারশীপের চিঠিও পেলাম।
শ্রাবণী খুব বলত দেশের বাহিরে পড়াশুনা করতে যাওয়ার জন্য। শ্রাবণীর মোবাইল নাম্বার থাকলে ফোন করে জানাতাম। নাহ্ কি যে ভাবছি, ফোন করতে যাবো কেন, ওর এখন সংসার হয়েছে। খারাপ দেখায়। আসলে চিঠিটা পেয়ে এত ভাল লাগছে যে সব ভুলে গেছি।
এভাবে আবার কয়েকদিন অফিসের কাজ নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেলাম। স্কলারশীপের ব্যাপারটা অফিসের কাউকেই জানানো হয়নি। আর তা ইচ্ছে করেই।
[১১ই জুলাই, সকাল ৬.৪৫ মিনিট]
মোবাইলের রিং এ ঘুম ভাঙ্গলো। বেশ অনেকক্ষণ ধরে বেজে চলছে। গতকাল রাতে অনেক রাত জাগা হয়েছে অফিসের প্রজেক্ট ওয়ার্ক নিয়ে।
হ্যালো, হ্যালো, কে বলছেন প্লিজ?
কোন উত্তর নেই।
শুনতে পেলাম, "আমি"।
কে?
চলবে..........
১ম পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



