somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি্রাজ
নিজের সম্পর্কে বলার মত এখন ও অর্জন হয়নি কিছুই। তবে একটা অর্জন হয়েগেছে!! অন্যায় আর অন্যায়কারীর প্রতিবাদ করতে শিখেগেছি!!! সে যেই হোক।।

একটি ছেলের গল্প

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা একটা দরিদ্র ছেলের গল্প। নাম- আনিস, বয়স- ১২ কি ১৩। গায়ের রঙ- কালো।
ছেলেটি একটা রেস্টুরেন্ট এ টেবিল বয়ের কাজ করে।
আজ সকালে একজন মহিলা খেতে আসলেন তার ১২ বছরের বাচ্চা কে নিয়ে । মহিলার হাঁতে একটা টেডিবিয়ার, দেখেই বোঝা যাচ্ছে ছেলেটির জন্য কেনা হয়েছে, ছেলের হাঁতে জুস তবু কাঁদছে! কাঁদ কাঁদ গলায় বলছে- আমি বার্গার খাব, বার্গার খাব।
মহিলা ওয়েটারকে ডেকে বললেন – একটা হ্যাম বার্গার দাও তো।
ছেলের গালে চুমু দিয়ে বললেন আর কিছু খাবা, আমার সোনা বাবা!
- না, আমি বার্গার খাব। আমি বার্গার ছাড়া কিছু খাই, তুমি জাননা?
মহিলা - আমি জানি আমার বাবা বার্গার খায়, এইতো আঙ্কেল আনছে।
ওয়েটার অর্ডার নিয়ে আনিসকে ডেকে বলল টেবিল পরিষ্কার করে দিতে ও টিস্যু সার্ফ করতে।
আনিস টেবিল পরিষ্কার করতে করতে বেশ কয়বার চোখাচোখি হল মহিলার সাথে।
ততক্ষণে বার্গার এসে গেছে।
ওয়েটার বার্গার রাখতে রাখতে বলল – এই যে বাবু তোমার বার্গার।
মহিলা বলল- সোনা বাবা আমার, তোমার বার্গার এসে গেছে , ঝটপট খেয়ে নাও।
- তুমি না খাইয়ে দিলে আমি কখনও খাই, জাননা।
মহিলা- আচ্ছা বাবাম, আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
এরপর দীর্ঘ সময় নিয়ে মা তার ছেলেকে অনেক মমতার সাথে খাওয়ালেন। খাওয়া শেষ করে ছেলে তার মাকে অনেক সময় ধরে জড়িয়ে ধরে রাখলো।
- আমার লক্ষ্মী মম।
এই পুরো দৃশ্যই আনিস পরম যত্ন নিয়ে আড়াল থেকে লুকিয়ে দেখেছে। কল্পনার রাজ্যে হারালো আনিস...
তার মা ও তাকে সব সময় ভাত খাইয়ে দিত, আনিসও মায়ের হাত ছাড়া ভাত খেতনা। অনেকদিন মায়ের হাঁতে খায়নি আনিস।

আনিস যখন কল্পনার রাজ্যথেকে ফিরলো তখন দেখলো ম্যানেজার তার কলার ধরে টানছে আর তার পাশে একটি গ্লাস ভেঙ্গে পড়ে আছে !!
বিকাল পর্যন্ত আনিসের মন ভালো হয়নি, তার মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছা করছে, মায়ের হাঁতে ভাত খেতে মন চাচ্ছে। অবশেষে ম্যানেজার কে গিয়ে কাঁচুমাচু করে বলল- স্যার, আমি বাড়ি যাব, স্যার, আমি বাড়ি যাব।
বজ্রপাত হল সাথে সাথেই- সকালে গ্লাস ভাংছিস, কাজের কোন ঠিক নাই, আসছে- স্যার, আমি বাড়ি যাব।
মুখকে ঈষৎ বাঁকা করে এরপর যা বলল তা ভদ্র ভাবে লেখা যাচ্ছেনা। তবু আনিসের অতি পিড়াপীড়িতে
ম্যানেজার জানালো – যদি যাবি তো একবারেই যা! আর আসতে পারবিনা!!

আনিস জানে, ম্যানেজার স্যার মুখে বললে ও তাকে বাদ দিবে না। যাওয়ার সময় ম্যানেজার তাকে ভাংতি মাসের টাকা দিয়ে বললেন – তারাতারি ফিরে আসিস।

ছেলেটি রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে পৌঁছে গেল “মায়ের ফুল” বিতানে। আনিস জানে তার মা বড় বড় লাল গোলাপ খুব পছন্দ করে। আজ সে অনেকগুলো গোলাপ কিনবে! মায়ের জন্য কিনবে!!
কিন্তু এখানেও সেই ছেলেটি! তার মা তাকে গোলাপ কিনে দিচ্ছে।

আনিসও একথোকা গোলাপ নিলো। তার সবগুলো পকেট হাতড়ে সব টাকা দেয়ারপরও দোকানী আরও দশ টাকা চাচ্ছে।
আনিস অনেক করে বলল- আমার কাছে আর টাকা নেই, দিন না, অন্য কোন দিন দিয়ে যাবো।
কিন্তু দোকানি কিছুতেই দিবেনা, বলল- অন্যটা নাও। এটা নিলে আরও ১০টাকা দিতে হবে।
আনিসের এই থোকাটিই পছন্দ হয়েছে। ও মিনতি করতে থাকলো- আমার মায়ের জন্য নিচ্ছি। আমাকে দিননা!!

সেই মহিলা এগিয়ে এসে গোলাপের থোকাটি কিনে আনিসের হাঁতে দিতে দিতে বলল- সব সময় তোমার মাকে এভাবে ভালবেস! আনিস জ্বল জ্বল চোখে মহিলার দিকে তাকিয়ে আছে।

ছেলেটি যখন তার মায়ের কাছে পৌছাল তখন গোধূলি নেমেছে। মায়ের পাশে বসলো ছেলেটি, কবরের বুকে ফুলগুলো রাখতে রাখতে বলল- মা, আমি ভাত খাব! তোমার হাঁতে ভাত খাব! আমার অনেক খিদা পেয়েছে মা, আমাকে তুমি খাইয়ে দাও! তুমি জাননা তুমি না খাইয়ে দিলে আমি ভাত খাইনা। আমাকে ভাত দাও মা। ভাত দাও।
অশ্রু ঝরল ছেলের চোখে! এ অশ্রু ঝরা থামেনা কবু। কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটি কবরের পাশেই ঘুমিয়ে পড়লো!!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×