somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাম্প্রতিক গম্ভীরা

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নানা : হ্যারে লাতি, ইসব কি শুইনছি রে? দ্যাশে ইসব কি হইতেছে?
নাতি : ক্যানরে নানা? তুই আবার কী শুইনতে পাইলি?
নানা : তোরা শিক্ষিত মানুষ, তোগের তো এইসব আগে জানিবার কথা।
নাতি : আরে দ্যাশে ত এখন কতো কিছুই হইতেছে। তুই কুনটার কথা
কইছিস ক তো?
নানা : মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দালালেরা নাকি পদক পেইয়েছে?
নাতি : ও...। এই কথা! হয় রে নানা। তুই সইত্যই শুইনেছিস।
নানা : দ্যাশে এতো জ্ঞানী-গুনী থাইকতে ইটা হইলো ক্যাবা কইরে ক তো?
কেউ কিচ্ছু প্রতিবাদ কইরলো না?
নাতি : প্রতিবাদ কইরবে ক্যাবা কইরে রে নানা। বেশিরভাগ জ্ঞানী-গুনীরাই
তো মাথা বীমা কইরে রাইখেছে?
নানা : অ্যা....! ইটা আবার তুই কি শুনাইলি? শুইনেছি বাড়ি-গাড়ি, সম্পত্তি
বীমা করা যায়। জীবনবীমাও করা যায়। তাই বইলে মাথাও বীমা?
নাতি : হয় রে নানা। এখন ব্যাবাকই বীমা আর বন্ধকের যুগ। ঐ যে মেসি-
রোনাল্দোর নাম শুইনেছিস না, ফুটবল খেলে। ওরা ওগের পা’ও
বীমা কইরে রাখে। আমাগের দ্যাশের জ্ঞানী-গুণীরাও ওগের নাহাল
মাথা বীমা কইরে রাখে, বুদ্ধি বন্ধক দিয়া রাখে!
নানা : ওরে........লাতিরে......., এটি তুই কী শুনাইলিরে! হ্যারে ইসব বীমা-
বন্ধকের জইন্যে কী কুন আলাদা কুম্পানী খুইলছে নাকি?
নাতি : তুই আছিস নানা ঘরত বইসে তোর পান-তামাক লিয়ে! জগতের
কুনো খোঁজ-খবর রাখিস না। আরে আলাদা কুম্পানী খুইলবে
ক্যানে? কেউ সরকারী দলে মাথা বীমা কইরেছে আবার কেউ
বিরোধী দলে বুদ্ধি বন্ধক রাইখেছে! আবার কেউ কেউ খবরের কাগজ
ওয়ালা-টিভিওয়ালাদের কাছেও রাইখেছে!
নানা : উরেব্বাস! দ্যাশ তো বহুত আগায় গিইছে রে লাতি! তাই বইলে
মুক্তিযুদ্ধের দালালেরা পদক পাইলেও কেউ কিছু কইবে না!
নাতি : আরে নানা, তোরে নিয়া দেখি মহা মুসিবত। কইবে ক্যাবা কইরে,
কইলেই তো সরকারের রোষানলে পইড়বে। আগে যারা পুরস্কার
পাইয়েছে, তাগের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হইবে। আর যারা পাইবার
লাইনে আছে তারা লাইন হইতে ছিটকাইয়া পড়িবে।
নানা : ওরে বাবা! কতো হিসাব-নিকাশ রে লাতি!
নাতি : অইতো রে নানা। দুনিয়াডা কি ঘরত বইসে তামাক খাওয়ার মতন
সোজা! শুন নানা, আমি যে এতো কথা কইলাম, তুই আবার ইসব
কথা কাউরে কইস না।
নানা : ক্যান? কইলে কি হইবে?
নাতি : আইজকাল আমিও এট্টু-আধটু পইদ্য লিইখতে শুরু কইরেছি। একটা
বইও বাহির কইরেছি।
নানা : তুইও পইদ্য লিইখেছিস! দ্যাশে কি পইদ্য’র আকাল পইড়েছেরে! তা
লিইখেছিস তো বেশ কইরেছিল। তা মুই মুখ বন্ধ রাখিম ক্যানে?
নাতি : ধুরো ছাতা। বুইড়া হইতাছিস আর তোর বুদ্ধিসুদ্ধি পানের ডাবায়
হান্দাইতাছে। আরে এখন হামার বয়স তেইশ। মুই এখন থেইকেই
লাইন মাইরবার তালে আছি। গুরু ধইররেছি। গুরুর সুপারিশে
খুবরের কাগজে পইদ্য ছাপিয়েওছি। যাতে পঞ্চাশ পার হইলে হামিও
একটা সরকারী পদক পাই। ইসব কথা পাঁচ কান হইলে কি পাইবো!
নানা : ও! তোগের দেহি ভেতরে এক রূপ আর বাইরে আর এক রূপ!
নাতি : দশজনের মইদ্যে চইলতে গ্যালে এখন মুখোশ নিয়া চইলতে হয় রে
নানা। তুই মুখোশ নিয়া চলিস নাই বইলেই তো এখন ঘরত বসি
তামাক খাছিস। যদি একটা মুখোশ লিয়া চলতি, তাইলে ব্যাবাক
টাকা-পয়সার মালিক হইতি। দাঁত পইড়েছে, চামড়া ঘুচাইছে তাতে
কি! নাক ডুবাইয়া সূরা খাইয়া চেংড়ি নাচাইতি আর গাইতি-উলাল্লা
উলাল্লা....
নানা : অই থাম থাম। আর শুইনবার চাই না। দ্যাশের হালচাল দেইখা
আমার বাঁচার আশা ফুরাইছে। এই দুনিয়াত মোরা এখন অচল।
এখন কবরে যাইয়ে শান্তিতে ঘুমাইতে পাইরলেই বাঁচি!
নাতি : কবরে যাইয়েও শান্তি পাইবি না নানা। তোর কঙ্কাল চুরি কইরে
বিদেশে পাচার কইরে দিবে।
নানা : লাতিরে..... তোরে একখান কথা কই ভাই। হামার ভিটা বাড়িডা
তোরে আমি লিইখে দিব। তুই হামার একটা কথা রাখিবি?
নাতি : কথাডা কি আগে ক?
নানা : হামি মইরে গেলে তুই হামার দেহডা সুমুদ্দুরে ভাসাইয়ে দিবি।
অনেক দূরের নীল সমুদ্দুরে! হামার দেহখান নীল সমুদ্দুরের পানিতে
ভাইসবে। ভাইসতে ভাইসতে হারাইয়ে যাইবে। মাছেরা মজাক করি
মোর দেহখান খুঁটি খুঁটি খাইবে। মরিবার পর মোর দেহখান আর
মানুষির পাপের কামে নাগিবে না......’


*সকল বুদ্ধিজীবি এক রকম নন। কেউ কেউ আছেন ব্যাতিক্রম। তারা দুঃখ পাবেন না আশা করি।

৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×