নানা : আরে এই লাতি.....খাড়া খাড়া এমন সাইজে গুঁইজে ঘোড়ার নাহাল
ছুইটে চইলেছিস কুনেঠে? শুন শুন...
নাতি : ওরে.... নানা, তুই খালি পিছে ডাকিস। কি কইবি টপাক কইরে ক
দেখি...
নানা : আরে কইছি কইছি। আগে একটু ব না। এক কাপ চা খা। তা এমন
সাজ দিইয়েছিস ক্যানে রে? হলুদ পাঞ্জাবী পিন্দেছিস, চোক্ষে মোটা
বাতার ঠুলি দিইয়েছিস, আবার চুল-দাঁড়িও রাইখেছিস? পিরিতের
কাঁঠাল খাইতে চইলেছিস নাকিরে?
নাতি : আর কইস না নানা। পিরিত টিরিত কিছু না। চইলেছি বইমেলায়।
আমারে দেইখলে নাকি নাবালক চ্যাংড়া চ্যাংড়া লাগে! তাই এমন
সাজ দিইয়েছি, যাতে চেহারা-সুরতে একটু ভারিক্কি আসে। বুইজলি
না নানা, কবি হইতে গেলে চেহারায় একটু ভারিক্কি থাইকতে হয়।
নইলে লুকে কবি হিসেবে মাইনতে চায় না।
নানা : অ...! তয় শুইনেছি জীবনানন্দ দাশের চেহারায় নাকি বনেদীআনা
ছিল না। আবার ভারিক্কি আনার জইন্যে তিনি চেহারায় বাড়তি
ওজনও চাপাইতেন না। কিন্তু কবিতা তো ভালই লিইখে গেছেন! তাঁর
নামে মেলা-টেলাও হয় না। কিন্তু লুকে তো তারে ঠিকই মনে
রাইখেছে।
নাতি : ঐ জইন্যেই তো বাইচে থাকতে তারও বেশি কদর ছিল না। তার
মূইল্য বুইঝেছে মানুষ পরে।
নানা : তার মানে লেখার গুণে না, দ্যাখনদারিতে বই চলে!
নাতি : ঠিক কইছিস নানা।
নানা : হ্যারে শুইনলাম মেলায় নাকি নকল পাঠক ভাড়া পাওয়া যায়? সেইটা
আবার কী?
নাতি : আরে নানা, কুন জগতে আছিস রে তুই। টাকা হইলে বউ ভাড়ায়
পাওয়া যায়, আর নকল পাঠক ভাড়ায় পাওয়া যাইবে না!
নানা : একটু খুইলে ক দেহি ব্যাপারখানা কী?
নাতি : দুঃখের কথা কী শুইনবি রে নানা! এই শালারা বিদেশ থেইকা
টয়লেট পরিস্কার কইরে, হাঁড়ি-পাতিল মাইজে-ধুয়ে সারা বছর
ডলার-পাউন্ড কামায়, আর ফেব্রুয়ারি মাস আসিলেই বাংলা টাকার
গরম দেখায়! কি করে জিগাইলেই নানান রহম ইক্সিকিউটিভ-
ফিক্সিকিউটিভের নাম কয়। আসলে তো শালারা, টয়লেট
ইক্সিকিউটিভ!
নানা : সে না হয় বুইজলাম। নকল পাঠকের ব্যাপারখানা খুইলা ক দেখি।
নাতি : হাঁড়ি-পাতিল মাইজে যে সময়টুকুন বাচে, হালারা কবিতা লেখে।
মেলার সময় দ্যাশে আইসে বই বাইর করে। এক হালায় টাকা দিয়া
কয়টা লোক ঠিক কইরেছে, হ্যারা রোজ মেলার স্টলে স্টলে ঘুইরে
ঘুইরে ঐ কবির বই চায়। এতে কইরে ঐ কবির নাম প্রচার হয়। আর
স্টল মালিকেরাও ঐ কবির বই সংগ্রহ কইরে নিজেগের স্টলে রাইখে
দেয়। সাধারণ পাঠক যে দোকানেই যায় ঐ কবির বই দ্যাখে। তারা
ঐ কবিরে বড় কবি ভাইবে তার বই কিইনে নেয়।
নানা : ওরে... বাবা রে... লাতিরে.....অয় তো কবি লয়রে, পুলিটিশিয়ান!
কবিতা লেইখা সময় নষ্ট না কইরা ওরে ক পুলিটিক্স কইতে। মুই
লেইখে দিম দশ বৎসরের মইদ্যে অয় পুরধানমুন্ত্রী হইবার পাইরবে!
* সব প্রবাসী কবি-সাতিহ্যিক এমন নন। সুতরাং তারা দুঃখ পাবেন না আশা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



