somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাম্প্রতিক গম্ভীরা-২

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নানা : আরে এই লাতি.....খাড়া খাড়া এমন সাইজে গুঁইজে ঘোড়ার নাহাল
ছুইটে চইলেছিস কুনেঠে? শুন শুন...
নাতি : ওরে.... নানা, তুই খালি পিছে ডাকিস। কি কইবি টপাক কইরে ক
দেখি...
নানা : আরে কইছি কইছি। আগে একটু ব না। এক কাপ চা খা। তা এমন
সাজ দিইয়েছিস ক্যানে রে? হলুদ পাঞ্জাবী পিন্দেছিস, চোক্ষে মোটা
বাতার ঠুলি দিইয়েছিস, আবার চুল-দাঁড়িও রাইখেছিস? পিরিতের
কাঁঠাল খাইতে চইলেছিস নাকিরে?
নাতি : আর কইস না নানা। পিরিত টিরিত কিছু না। চইলেছি বইমেলায়।
আমারে দেইখলে নাকি নাবালক চ্যাংড়া চ্যাংড়া লাগে! তাই এমন
সাজ দিইয়েছি, যাতে চেহারা-সুরতে একটু ভারিক্কি আসে। বুইজলি
না নানা, কবি হইতে গেলে চেহারায় একটু ভারিক্কি থাইকতে হয়।
নইলে লুকে কবি হিসেবে মাইনতে চায় না।
নানা : অ...! তয় শুইনেছি জীবনানন্দ দাশের চেহারায় নাকি বনেদীআনা
ছিল না। আবার ভারিক্কি আনার জইন্যে তিনি চেহারায় বাড়তি
ওজনও চাপাইতেন না। কিন্তু কবিতা তো ভালই লিইখে গেছেন! তাঁর
নামে মেলা-টেলাও হয় না। কিন্তু লুকে তো তারে ঠিকই মনে
রাইখেছে।
নাতি : ঐ জইন্যেই তো বাইচে থাকতে তারও বেশি কদর ছিল না। তার
মূইল্য বুইঝেছে মানুষ পরে।
নানা : তার মানে লেখার গুণে না, দ্যাখনদারিতে বই চলে!
নাতি : ঠিক কইছিস নানা।
নানা : হ্যারে শুইনলাম মেলায় নাকি নকল পাঠক ভাড়া পাওয়া যায়? সেইটা
আবার কী?
নাতি : আরে নানা, কুন জগতে আছিস রে তুই। টাকা হইলে বউ ভাড়ায়
পাওয়া যায়, আর নকল পাঠক ভাড়ায় পাওয়া যাইবে না!
নানা : একটু খুইলে ক দেহি ব্যাপারখানা কী?
নাতি : দুঃখের কথা কী শুইনবি রে নানা! এই শালারা বিদেশ থেইকা
টয়লেট পরিস্কার কইরে, হাঁড়ি-পাতিল মাইজে-ধুয়ে সারা বছর
ডলার-পাউন্ড কামায়, আর ফেব্রুয়ারি মাস আসিলেই বাংলা টাকার
গরম দেখায়! কি করে জিগাইলেই নানান রহম ইক্সিকিউটিভ-
ফিক্সিকিউটিভের নাম কয়। আসলে তো শালারা, টয়লেট
ইক্সিকিউটিভ!
নানা : সে না হয় বুইজলাম। নকল পাঠকের ব্যাপারখানা খুইলা ক দেখি।
নাতি : হাঁড়ি-পাতিল মাইজে যে সময়টুকুন বাচে, হালারা কবিতা লেখে।
মেলার সময় দ্যাশে আইসে বই বাইর করে। এক হালায় টাকা দিয়া
কয়টা লোক ঠিক কইরেছে, হ্যারা রোজ মেলার স্টলে স্টলে ঘুইরে
ঘুইরে ঐ কবির বই চায়। এতে কইরে ঐ কবির নাম প্রচার হয়। আর
স্টল মালিকেরাও ঐ কবির বই সংগ্রহ কইরে নিজেগের স্টলে রাইখে
দেয়। সাধারণ পাঠক যে দোকানেই যায় ঐ কবির বই দ্যাখে। তারা
ঐ কবিরে বড় কবি ভাইবে তার বই কিইনে নেয়।
নানা : ওরে... বাবা রে... লাতিরে.....অয় তো কবি লয়রে, পুলিটিশিয়ান!
কবিতা লেইখা সময় নষ্ট না কইরা ওরে ক পুলিটিক্স কইতে। মুই
লেইখে দিম দশ বৎসরের মইদ্যে অয় পুরধানমুন্ত্রী হইবার পাইরবে!



* সব প্রবাসী কবি-সাতিহ্যিক এমন নন। সুতরাং তারা দুঃখ পাবেন না আশা করি।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতে চলতে পথে ৬

লিখেছেন কবিতা ক্থ্য, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৪৭

প্রকৃতির নিষর্গ:



ওবেরন যাওয়ার পথে জুলাই মাসে নিউ সাউথ ওয়েলসের (NSW) মেফিল্ড গার্ডেনে ধারণ করা এই ছবিটি একটি শান্ত পুকুরের বুকে প্রকৃতির প্রতিবিম্বি - প্রাণবন্ত ঋতুভিত্তিক রঙের মাধ্যমে শীতকালের... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানের বদলে জান: ব্যাপারটায় প্রতিহিংসার ফ্লেভার মেশানো

লিখেছেন অপলক , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৩৬

ইসলামে কি বলা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। দেশের আইনে কি আছে সেটাও না। ইংরেজীতে দুটো শব্দ আছে: Equality (Sameness: সমতা) এবং Equity (Fairness: নায্যতা)।




একটা অপ্রাপ্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×