somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জোনায়েদ সাকি-তাসলিমাদের খপ্পরে পড়লে, শীতে ঠক ঠক করে কাঁপবে বাংলাদেশ

২১ শে নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





সম্ভবত ২০১৮-১৯ সালের কথা। তীব্র শৈত্য প্রবাহের রাতে পেশাগত কারণে গেছি জোনায়েদ সাকি-তাসলিমা আখতারের বাসায়, সঙ্গে দুই সহকর্মী আইটি ও ক্যামেরা পারসন। তখন গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন চলছিল, জোনায়েদ সাকির স্ত্রী নারী শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক তাসলিমা আখতারকে জার্নালে যুক্ত করতে গিয়েছিলাম। আমরা সময়ের অনেকটা আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। কলিংবেল বাজাতেই তাসলিমা গেট খুলে আমাদের নিয়ে গেলেন তার কাজের রুমে। বেশ বড় বাসা, কিন্তু বীভৎস অগোছালো! তিনি পিসিতে কাজ করতে লাগলেন, আমরা তিনজন তীব্র ঠান্ডায় খালি পায়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। সেই রুমে বসার আর কোনো চেয়ার নেই, তিনি আমাদের বসার ব্যবস্থাও করলেন না! আমরা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম! ফ্লোর ভীষণ ঠাণ্ডা, শীতে আমাদের খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। আমরা সহকর্মীরা বিব্রতচোখে একে-অন্যের দিকে তাকাচ্ছিলাম। কেননা এমন অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য প্রথম, কোনো অতিথির বাসায় এমন বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়িনি। তাসলিমা কাজের ফাঁকে টুকটাক কথা বলছিলেন আমাদের সঙ্গে। আমি কখনো কখনো এক পায়ের ওপর আরেক পা রেখে দাঁড়াচ্ছিলাম। ত্রিশ মিনিট পেরিয়ে যাবার পর তাসলিমার উপলব্ধি হলো যে আমরা তীব্র ঠান্ডা ফ্লোরে দাঁড়িয়ে আছি, এবং অস্বস্তিবোধ করছি! তিনি বললেন, ‘আপনাদের তো ঠাণ্ডা লাগছে, আসেন স্যান্ডেল পায়ে দেন।’

তার সঙ্গে সদর দরজার কাছে গিয়ে তিনজন স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে আবার রুমে ফিরে এলাম। কিন্তু আমাদের বসার ব্যবস্থা করলেন না। আমরা স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভীষণ অগোছালো রুম, এলেমেলো বইয়ের গাদার দিকে আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি বললেন, আসলে আমরা তো বাইরে থাকি, ঘর-টর গোছানোর সময় পাই না।’

তিনি এবার ঢাকা-১২ আসনে এমপি প্রার্থী, যিনি নিজের ঘর গোছাতে পারেন না, তিনি দেশ গোছাবেন কী করে! এর মধ্যে সাকি বাসায় আসেন, টুকটাক কথা হয়। টকশোতে দেশ উদ্ধার করেন, কিন্তু তিনিও আমাদের বসার ব্যবস্থা করেন না।

আমরা সাড়ে এগারোটায় তাদের বাসায় ঢুকেছি, তাসলিমাকে বারোটা বিশে যুক্ত করার কথা, সেটা ধাক্কা খেয়ে বারোটা চল্লিশ হয়েছে। দাঁড়িয়ে থেকেই বারোটা চল্লিশে তাকে যুক্ত করি। প্রোগ্রাম শেষ হয় একটায়। এই দেড় ঘণ্টা আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম, তার মধ্যে ত্রিশ মিনিটের বেশি খালি পায়ে ঠান্ডা ফ্লোরে!

প্রোগ্রাম শেষ হলে জোনায়েদ সাকি আমাদেরকে বাসার নিচে এগিয়ে দেন, আর গাড়িতে উঠার আগে বলেন, ‘আপনাদের চা খাওয়াতে পারলাম না!’

আসলেই চা খাওয়ানোর জন্য দেড় ঘণ্টা বড্ড কম সময়!

শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল, এরশাদ। এরা ব্যতিত পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জেএসডি, গণফোরামের বড় বড় নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের বাসায়-অফিসে গেছি। এই শহরের বড় বড় ব্যবসায়ী, আইনজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের বাড়িতে গেছি। কিন্তু সাকি-তাসলিমার বাসার মতো অপমানিত বোধ করিনি কোনোদিন। বসা তো সাধারণ ভদ্রতার ব্যাপার, দু-একজন সামরিক কর্মকর্তা ব্যতিত না খেয়ে আসতে দেয়নি কেউ। অনেকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেছেন। বাইরে থেকে থালি অর্ডার দিয়ে আনিয়ে খাইয়েছেন। একবার নজরুল ইসলাম বাবু ভাইয়ের বাসায় গেছি, তিনি তখনও বাসায় আসেননি। ভাবী আমাদের নাস্তা এনে দিলেন। এরপর বাবু ভাই এলেন, জার্নালে যুক্ত হলেন। বললেন, ‘ভাত খেয়ে যেতে হবে।’

বললাম, ‘ভাই, আমরা অফিস থেকে খেয়ে আসছি। আসার পর ভাবী নাস্তা দিয়েছেন, নাস্তা খেয়েছি।’

বললেন, ‘নাস্তা খেয়েছেন, আমি তো দেখি নাই।’

কে শোনে কার কথা! হাত ধরে টেনে ডাইনিং নিয়ে চেয়ারে বসালেন। এই হলো প্রকৃত রাজনীতিকের আন্তরিকতা, রাজনীতিকের পাগলামী! সব বড় দলের নেতাদের মধ্যেই এমন আন্তরিকতা দেখেছি। দেখেছি যিনি যত বড় নেতা, তিনি তত বেশি আন্তরিক। তারা মানুষের নেতা। সাকিদের মতো সঙ্গে ভাড়া করা লোক নিয়ে ঘোরেন না। প্রেসক্লাবে একটা মানববন্ধন করতে হলেও চারশো টাকা মজুরিতে সাকিদের লোক ভাড়া করতে হয়।

না, সাকি-তাসলিমা খাওয়াননি, তাতে মোটেই অখুশি নই। আমরা খেতে যাইনি। কিন্তু প্রচণ্ড ঠান্ডায় তিনজন মানুষকে দেড় ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখবেন! রাস্তার একটা কুকুর কাছে এসে দাঁড়ালেও তো আমি তাকে উপেক্ষা করি না, ওর গায়ে হত বুলাই, খাওয়াই।
এই রকম মানবিকতা নিয়ে তাসলিমা শ্রমিক-আন্দোলন করেন! আসলে মানবতা-টতা কিছু নয়। এই শ্রমিক-আন্দোলন তার বাণিজ্য। রাজনীতিও সাকি-তাসলিমার তাদের কাছে বাণিজ্য।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় বসে দুর্নীতি-টাকা পাচার যা-ই করুক, জনগণের জন্য কাজও এরাই করে বা করবে। জনগণকে যতটুকু সম্মান দেবার তা এরাই দেয়, এরাই দেবে। সারাদেশে জোনায়েদ সাকি-তাসলিমার দলের পাঁচ হাজার ভোটও নেই, তাতেই তীব্র শীতে দেড় ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছে। তারা এমপি হলে, বাংলাদেশ তাদের খপ্পরে পড়লে, আমাদের মতোই অবস্থা হবে, শীতে ঠক ঠক করে কাঁপবে বাংলাদেশ!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৫২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×