somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ-ই আসলে ফয়েজ জহির

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




লিখছিলাম, লেখার বিরতিতে ফেইসবুকে ঢুকে এই ছবিটা দেখে একা একাই হাসলাম, ব্যাপক বিনোদিত হলাম! বিনোদিত হবার কারণ সামনের সারিতে সর্বডানে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, সেই ফয়েজ জহির ভাই, আরণ্যকের বড় ভাই। ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে সারাদেশে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে লালবদর জঙ্গিরা। এই সময়ে তারা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর যেমনি ভেঙেছে; তেমনি ভাঙচুর করেছে অসংখ্য মাজার, বাউল আখড়া, প্রায় দুই হাজার ভাস্কর্য। অসংখ্য বাদ্যযন্ত্র ভেঙেছে। মাজারপন্থী ও বাউলদের মারধর করেছে। কয়েকজনকে মেরেও ফেলেছে। এইসব ভাঙচুরের মাঝেই অক্টোবরের প্রথমদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন ফয়েজ জহির। তার যোগদানের পরেও অনেক মাজার ও বাউল আখড়ায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং বাউল-মাজারপন্থীদের মারধর করেছে জঙ্গিরা। তিনি কখনো-ই কোনো প্রতিবাদ করেননি, জিহাদী জঙ্গিরা সারাদেশে এত তাণ্ডব চালানোর পরও তার বিবেক জাগ্রত হয়নি, তিনি নীরবে শিল্পকলার চাকরি করেছেন। এই বছর সেপ্টেম্বর মাসে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ থেকে ফয়েজ জহিরকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে। কয়েক মাস ঘাপটি মেরে থাকার পর এখন হঠাৎ তার ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত হয়েছে! সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন পোস্টার হাতে! তার হাতের পোস্টারে কী লেখা? সম্ভবত লেখা- ‘শিল্পীদের কণ্ঠ থামানো যায় না।’

ওরেরররররর বাবাবাবাবাবাবা…….বিরাটটটটট বিপ্লবী! দেড় বছর ঘুমানোর পর হঠাৎ তার বিপ্লবী চেতনা, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর জানান দিতে শুরু করেছে- ‘আমি আছি, মরি নাই!’

আপনি আমার কাছে মৃত জহির ভাই, আমার মতো আরও অনেকের কাছেই আপনি মৃত! আপনার পোস্টারে লেখা ‘শিল্পীদের কণ্ঠ থামানো যায় না।’ অথচ আপনি নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক থাকা অবস্থায় শিল্পকলায় প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলকে হল বরাদ্দ দেননি। আপনি শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করেছেন। প্রাঙ্গণেমোরের নাটকে আপনাদের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা নেই, অথচ আপনি তাদের নাটক করতে দেননি। হয়ত দলের কারো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে। আর আজ আপনি আসছেন শিল্পীদের পাঁশে দাঁড়াতে, শিল্পীর জাত খুঁইয়ে এখন আসছেন জাতে উঠতে! নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ থেকে যদি আপনাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় না করত, তাহলে আপনি এখনও ওই চাকরিটা করতেন, গাঞ্জুটোকাই ফাসেকীর পোঁদ চাঁটতেন, আজও রাস্তায় এসে দাঁড়াতেন না। ওরা আপনাকে ব্যবহার করে পোঁদ মুছে টিস্যুর মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে, এখন আপনি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন, আপনার পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই আপনি এখন আপনার ৫ আগস্টের পূর্বের সত্তা বাঁচানোর জন্য বন্ধু-বান্ধুবের সঙ্গে ভিড়ে মিশে যেতে চাইছেন। যেন মাঝের এক বছরে আপনি ভাজা মাছটিও উল্টে খাননি!

আপনি শিল্পী নন জহির ভাই, আপনি নাট্যকর্মী নন, আপনি ধুরন্ধর, আপনি সুবিধাবাদী, নাট্যকর্মীদের লজ্জা! আমার কানে বাজছে হীরা ভাইয়ের লেখা ময়ূর সিংহাসন নাটকে সম্রাট শাহজাহানের বেশে মামুন ভাইয়ের সেই সংলাপ, ‘আওরঙ্গজেব…..বিশ্বাসঘাতক…..!’
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ-ই আসলে ফয়েজ জহির! ডাইনে তাকাই- ফয়েজ জহির, বাঁয়ে তাকাই-ফয়েজ জহির, রাজপথে- ফয়েজ জহির।


হায়, কাতারে কাতারে ফয়েজ জহিরদের দেশে জন্ম আমার!

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:১৬
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×