somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ সেই ভয়াল ২৯শে এপ্রিল

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সেই ভয়াল ২৯শে এপ্রিল।ভয়াল কেন ভাবছেন কারণ এই রাতের কথা মনে পারলে আমার গায়ের লোম এখনো খারা হয়ে যায়।এখনো আমার কানে বাজে ঘরের জানালার গ্ল্যাস ভাঙ্গার শব্দ, চোখে ভাসে সমূদ্রে পাড়ে পড়ে থাকা লাশ,গাছের উপড়ে ঝুলে থাকা লাশ চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ। আমি আপনাদের কাছে আমার কথা বলছি ১৯৯১ সালে সেই রাতে আমি কোথায় ছিলাম। আমি তখন চট্টগ্রামে ছিলাম, কারন আমার বাবা তখন চাকরি করাতো চট্টগ্রামে, সেই সুবাদে আমরা সবাই বাস করতাম চট্টগ্রামে। আমি তখন ৫ম শ্রেনিতে পড়ি। প্রতিদিনের মতো আমি স্কুলে যাই।সেই দিন আকাশটা ছিল মেঘলা,স্কুলে যাওয়ার পর একটি ক্লাশ হওয়ার পর সাররা স্কুল ছুটি দিয়ে দিল। আর সাররা বললো তোমারা বাসাই যেয়ে যারা সমুদ্রের কাছাকাছি থাকো তারা একটু সাবধানে থাকবে।তখন আমি বাসাই চলে আসি।আর আসার পথে চারিদিকে শুধু মাইকের শব্দ।সেই মাইকিং মনে হয় তেমন কারো কানে তুলে নাই, কারন সেই দিন ছিল ১০ নম্বর সিগ্ন্যাল।সবাই বলাবলি করছিল এর আগেও নাকি এরকম ১০ নম্বর সিগ্ন্যাল হয়েছে তেমন কিছুই হয় নাই।আর রেডিও টেলিভিশনে ৫ মিনিট পরপর বুলেটিং কারছে।খবরে আগে থেকে বলে দিয়েছিল রাত ৮টার পর থেকে কারেন্ট থাকবে না।তাই আমরা সবাই রাত ৮টার আগেই খাওয়া দাওয়া সেরে আগেই ঘুমানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।ঠিক যথারিতি ৮টার সময় কারেন্ট চলে গেল।আমরা সবাই ঘুমিয়ে পরেছিলাম।ঠিক রাত ১০টা থেকে আস্তে আস্তে বাতাস শুরু হলো।আমরা সবাই ঘুম থেকে জেগে গেলাম।এর পর শুরু হয়ে গেল ঝড় আর বাতাসের তীব্রতা বাড়তে শুরু করলো, বাতাসের তীব্রতা যেন ক্রমসই বাড়তে শুরু করলো।আমাদের জানালার গ্ল্যাস গুলো একেক করে ভাঙ্গতে শুরু করলো।আমাদের বাসাটা ছিল সমুদ্রের কাছাকাছি,আর আমরা যে বাসাই ছিলাম সেটি ছিল ৫ তলা একটি বিল্ডিং।আমরা ছিলাম ৪ তলায়। আমাদের বাসা থেকে সমুদ্রটা একটু একটু দেখা যায়।রাত ১২টার দিকে আমার বাবা একবার বারান্দায় গেল দেখলো সমুদ্র থেকে কেমন যেন আগুনের ফুলকির মতো উড়ছে। এই দেখে আমার বাবা একবার আযানও দিয়েছিল।তিনি নাকি শুনেছেন আযানের শব্দে নাকি ঝড়ের তীব্রতা নাকি কমেযায়।সেই দিন যে ঝড় শুরু হয়েছে থামার নয়।এরপর যখন আমাদের বাসার সবগুলো জানালা ভেঙ্গে যাওয়ার পর বাতাসের কারনে আমরা দরজা গুলো বন্দকরে দোতলায় চলে আসলাম।রাত তখন আনুমানিক ১:৩০মিনিট হবে। রাত ২টার পর থেকে ঝড়ের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়।আর আমাদের বিল্ডিংটা যেন ভুমিকম্প হলে যেমন কাপতে থাকে তেমনি কাপতে লাগলো।আমরাতো ভয়ে সবাই আল্লাহর নাম, নামায, কেউ কোরান শরিফ পরতে শুরু করলাম।সেকি ভয় যদি কনো মতে বিল্ডিংটা ভেঙ্গে পড়লেতো শেষ।আল্লাহোর নাম নিতে নিতে এই ভাবে ভোর হলো। সকাল ৬টার দিকে ঝড় থেমে গেল,তার পর আমি আমাদের বাসার ছাদে উঠলাম।ছাদে উঠে দেখি চারিদিক যেন সব সমান। চারিদিকে কোন গাছপালা নেই, বাড়ি ঘর নাই, শুধু আছে কেয়েকটা বড় বড় বিল্ডিং। আমাদের বাসা থেকে যেখানে আগে কাফকো সার কারখান দেখা যেতনা এখনতা সুন্দর ভাবে দেখা যায়।এর বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম সমুদ্রের পারে,সেখানে গিয়ে যে পরিস্থিতি দেখলাম তা ভাসায় প্রকাশ করার মতো না।চারিদিকে যেন গরু ছাগল আর মানুষের লাশ।আমার চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলাম না।এই সব পরিস্থিতি দেখে কি আর নিজেকে ঠিক রাখা যায় বলুনতো?যায় না কারন যখন দেখবেন নিজের ক্লাশমেট লাশ হয়ে পরে আছে।এর পর বাসাই এসে আমি আর আমাদের কলোনির বন্দ্ধুরা মিলে প্রতিটি বাসা থেকে টাকা এবং পুরানো জামা কাপর নিলাম, সেগুলো আমাদের পাশে সমুদ্রের পারে যারা ছিল তাদের দিলাম।সেখানের কিছু পরিচিত লোক আমাদের বাসাই উঠিয়ে ছিলাম।তারা আবস্য একমাস প্রযন্ত ছিল আমাদের বাসায়।এর পর যখন দুই দিন পর টেলিভিশনের খবরে দেখালো আনোয়ারা, কুতুবদিয়া, বাশখালি, মহেষখালি,হাতিয়া, ক্সসবাজার,সে কি আনস্থা।সেদি যদি মানুষ একটু সতর্ক থাকতো তাহলে হয়তো এতো গুলো প্রান হারাতে হতো না।সেই ভয়াল রাতের কথা আজও আমার মনে পরে।আসুন আমরা যে কোন প্রাকৃতিক দূ্র্জগে শতর্কতা হয়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×