somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলার বিস্ময় ২৮ বছরের রোজাদার

০৬ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঈদুল ফিতরের এক দিন, আর ঈদুল আজহার চার দিন_এই পাঁচ দিন রোজা রাখা নাজায়েজ। এই বিশেষ দিনগুলো বাদে বছরের বাকি দিনগুলোতে রোজা রাখতে ভুল করেননি ইনছান আলী। ২৮ বছর ধরে টানা রোজা রেখে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন চরের এই দরিদ্র কৃষক। আরো আশ্চর্য ব্যাপার হলো, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর বড় কোনো রোগব্যাধিও হয়নি।
বয়স ৭০ পেরিয়েছে। তাই তিন বছর ধরে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে তাঁর। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব সময় পরছেন সাদা পোশাক। রাতে ঘুমানোর সময় ব্যবহার করছেন না বালিশ।
ইনছান আলীর বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর চর সারোডোবে। নদীভাঙা মানুষ। ধরলার তাণ্ডবে বাড়ি সরিয়েছেন মোট ১১ বার। বাড়ি-ভিটাসহ চরের অনুর্বর ৮০ শতক জমি থাকলেও তাতে পেটের খাবার জোগাড় হয় না। ছেলেরা দিনমজুরি করে। বয়সের কারণে ইনছান কাজ করতে পারেন না। তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তিন ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে। বাকি দু্ই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর অভাবি সংসার চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
পরকালে আল্লাহর সানি্নধ্য পাবেন_এই আশায় ২৮ বছর আগে রোজা রাখা শুরু করেন ইনছান আলী। যত দিন বাঁচবেন এভাবেই রোজা রাখবেন বলে তাঁর নিয়ত পাকা। রোজা রাখলেও সেহরি খেতে পান না অভাবের কারণে। স্রেফ পানি দিয়ে ইফতারি সারেন বেশির ভাগ দিন। কালেভদ্রে মেলে চাল ভাজা বা মুড়ি। ইনছান জানান, অনেক দিন তিনি চকলেট এমনকি গাছের পাতা দিয়ে ইফতারি সেরেছেন। তাতে তাঁর কোনো অসুবিধা হয়নি। রাতে এশার নামাজ পড়ে ভাত খান। তবে সব সময় ভাত মেলে না। এখন একটানা চার দিন না খেলেও কোনো সমস্যা হবে না বলে ইনছান আলীর বিশ্বাস। তিনি জানান, রোজা রাখা শুরু করার পর থেকে তেমন কোনো রোগব্যাধি হয়নি। এ সময় ওষুধ খেয়েছেন মাত্র ২০০ টাকার। তাঁর কথা_'রোজা রাখি মাবুদের খুশির জন্য। তাই তিনি আমাকে ভালো রেখেছেন।'
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×