somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজেকে নিয়ে কেন হবেন গর্বিত?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কখনো কি আপনার মনে হয়েছে যে আপনি আসলে খুব একটা সুন্দর না? অন্যের চেয়ে আপনি অনেকটাই অসফল?

আসলে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ, তা সে বাঙ্গালী বা ইংরেজ যেই হোক না কেন, সাদা বা কালো, ৪ ফুট বা ৬ ফুট যাই হোক না কেন, জীবনে কোনো না কোনো সময় নিজের অজান্তেই নিজেকে অন্যের চেয়ে ছোট ভাবতে শুরু করে। নিজেকে বলতে থাকে সে আসলে অকৃতকার্য। অসফল। খুব একটা সুন্দর না। এই লেখায় আমি কিছু পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো যেগুলোর মাধ্যমে আপনি নিজেকে ছোট ভাবার এই প্রবনতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

১) সবার আগে এই কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নিন যে পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ একে অপরের থেকে ভিন্ন, সবার চেহারা বা শরীরের যে কোনো অঙ্গ একে অপরের থেকে আলাদা। আপনি কি কখনো শুনেছেন পৃথিবীর কোথাও একটি আদর্শ মানুষ আছে, যার সৌন্দর্যকে আদর্শ ধরে অন্যদের সৌন্দর্য বিচার করা হয়??
যদি এমন কেউ নাই থাকে তবে কিসের বিচারে একজন আরেকজনের চেয়ে সুন্দর বা অসুন্দর হতে পারে?
সমাজের আশেপাশের মানুষ বলে তাই?
নিজের চিন্তাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা সেইসব মানুষের হাতে দিয়ে দেবেন না যাদের কাছে আপনার কোনো গুরুত্বই নেই।

২) একবার ভাবুনতো, আপনি নিজেকে কোন দিক দিয়ে ছোট ভাবছেন । আপনার যদি শারীরিক কোনো দুর্বলতা থাকে তবে তা পয়েন্ট করে খাতায় লিখুন। এবার ভাবুনতো এসব আসলেই কি অন্যের চেয়ে আপনাকে ছোট করছে?
রাস্তায় বের হলে কি এইসব দুর্বলতার কোন একটির জন্যে আপনাকে দুনিয়ার কোনো আইনে আটকে দেয়া হবে?
চলাফেরা করতে দেয়া হবে না অন্যদের মতো?

৩) আপনার চারপাশের সবাইকে বিচারক ভাবা বাদ দিন। রাস্তায় বের হলে খুব কম মানুষই পাবেন, যারা আপনার শেষ পরীক্ষার রেজাল্টের ব্যাপারে মাথা ঘামায় অথবা আপনার ওজন বেড়েছে কি কমেছে সে বিষয়ে জানতে আগ্রহী।

৪) পৃথিবীতে কেউই পারফেক্ট না। নদীর ওপারের ঘাস বেশি সবুজ এটা ভাবার কোনো কারন নেই। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মেয়েটা আপনার চেয়ে বেশি লম্বা-বেশি ফর্সা ভাবার আগে এটাও ভাবুন যে একটু আগে হেঁটে যাওয়া অনেকেই আপনার চেয়ে কম লম্বা, কম ফর্সা ছিলো। এমন আরো অনেকেই আছে যাদের নাক আপনার চেয়ে বেশি বড়, ঠোঁট আপনার চেয়ে বেশি মোটা!

৫) আপনি আসলে কি নিয়ে ভয় পাচ্ছেন?
অন্যেরা আপনার দুর্বলতা দেখবে এবং তা নিয়ে আপনাকে উপহাস করবে?
এগুলো আপনার মনের দুশ্চিন্তা ছাড়া আর কিছুই না। কেউ যদি কখনো এসব নিয়ে কিছু বলে তাহলে তাতে আপনার কিছুই যায় আসে না, এতে তার নিজের মানসিক দৈন্যতাই প্রকাশ পায়।

৬) কিছুতেই কিছু না হলে আমি নিশ্চিত যে, আপনি নিজের প্রতিই আপনার সব মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে রাখছেন। নিজের কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে অন্যের প্রতি এবার মনোযোগ দিন। দেখবেন যে আপনার সব ভয়, সকল দুশ্চিন্তা কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।

৭) নিজেকে একা ভাববেন না। আপনার মতো দুর্বলতা আরো অনেকেরই রয়েছে। তাদের দিকে দেখুন। তারা কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছে?
অনেকসময় তাদের থেকেও আপনি শিক্ষাটা নিতে পারেন।

৮) নিজের শক্তিশালি দিকগুলোর কথা ভাবুন। দেখবেন আপনি অনেক বেশি কনফিডেন্ট হয়ে উঠছেন।

৯) নিজেকে আয়নায় দেখুন। নিজের প্রশংসা করুন। আপনি নিজে যদি নিজেই নিজেকে সম্মান দিতে না পারেন তবে কে আপনাকে সম্মান করবে?

১০) আপনার সবচেয়ে ভালো বন্ধুটির সাহায্য নিন। মনের কথাগুলো তাকে খুলে বলুন। যদি বলতে না পারেন তবে অন্তত তাকে জিজ্ঞেস করুন যে, সে কখনো নিজেকে ছোট ভেবেছে কিনা। আপনি অবাক হয়ে যাবেন তার কথা শুনে! দেখবেন যে আপনি একা নয়, সবাই নিজেকে কোনো না কোনো কারনে বোকার মতো ছোট ভাবছে। ঠিক আপনার মতো। এবার আপনি'ই সিদ্ধান্ত নিন, আর কতো দিন নিজেকে বোকা ভাববেন , ছোট ভেবে নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন।

(সংগৃহীত)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×