somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউ নয়। নাম না জানা একটি সিনেমার কাহিনী।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২০ ভোর ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক আগে একটা জার্মান মুভি দেখেছিলাম। আজ একটি খবর দেখে হটাৎ মনে পড়লো।

অনেক আগে স্কুলে থাকতে, জার্মান দুতাবাস লাইব্রেরির অডিটরিয়ামে।
তখন ধানমন্ডি ২নং রোডে জার্মান কালচারাল সেন্টারে বিকেলে প্রায়ই মুভি, ডকুমুভি দেখাতো।
সিনেমার নামটি মনে নেই। জার্মান ভাষায় ইংলিশ সাবটাইটেলে গতানুগতিক সাধারন সর্টফিল্মের মত একটি ছবি।

ছবির কাহিনী মুলত কয়েদিদের জেল জীবনের কাহিনি। ৮০ দশকের পশ্চিম জার্মানির একটি জেলের কাহিনী সবটাই আধুনিক জেলখানার ভেতরে, জেলার, কয়েদি, জেল ওয়ার্ডেন, খুনি আসামী, অন্যান্ন জেলখানার মত কয়েদিদের নেতা একজন ভয়ঙ্করদর্শন খুনিআসামী। নামটা মনে নেই, নাম দিলাম গামা। তার জন্য ভাল খাবার, ভাল ব্যাবস্থা কথায় কথায় যাকে তাকে মারধর, জেলরক্ষীদের ধমক।

তার একটা খুব ঘনিষ্ট সহচর চামচা ছিল, গামার হয়ে স্পাইয়ের কাজ করতো। অলয়েজ গামার সাথে চলতো।
প্রতি বছর ত্রাস শৃষ্টি করে জেল নেতা নির্বাচনে এই বিশালদেহি গামাই ১০০% ভাগ ভোটে জিততো প্রতি বছর। ভয়ে আসামী কয়েদি তো বটেই। তার বলিষ্ঠ দীর্ঘ দেহ আর ঘোলাটে চোখ পাকানো দেখলে জেল রক্ষীরাও ভয়ে কুকরে থাকতো, তার ব্যক্তিত্ব ও ভীতিকর গেটাপ দেখে চিফ ওয়ার্ডেন এমনকি জেলারও পারলে সেলুট দেয়। সবাই ভয়ে সমিহ করতো তার পরামর্শ শুনতো। মুলত গামা ও তার হ্যাংলা দেহের চামচা এ দুজনই সিনেমাটির মুল চরিত্র। এদের নিয়েই জেলে ভেতরে হাসি কান্নার সাদামাটা একটি ছবি।
তবে এই ছবির কাহিনীর শেষদিকে ছোট হাস্যকর একটি অংশ ভীষণ ভাবে দাগ কেটেছিল আমার ছোটমনে ।

আবার জেলে নির্বাচন হচ্ছে, আগের মত তার চামচাও নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছে .. সবাই নিশ্চিত এবারও গামা ১০০% ভোটে জিতবে। অপজিশনে গতানুগতিক একজন দাড়িয়েছে, প্রচার নেই গামার কাছে সে কিছুই না।
সবাই লাইন দিয়ে ভোট দিচ্ছে .... । বিকালে জেলার নির্বাচনি ফল ঘোষনা করছে ... সব কয়েদি ফ্লোরে বসা, হাস্যজ্জল মুখে গামা ও তার হ্যাংলা সহচর।

কি আশ্চর্য! গামা হেরে গেল।
বিশাল ব্যাবধানে হেরেছে। সবাই আশ্চর্য! স্তম্ভিত। বিজয়ী প্রার্থিও বিস্মিত! পরাজিত গামা ভোট পেয়েছে মাত্র ১টা।
মানে নিজের শুধু নিজের ভোটটি পেয়েছে।
চামচাও তাকে ভোট দেয় নি। ক্ষিপ্ত গামা উঠে দেখে পাসে চামচা নেই। ফলাফল শুনেই ভেগেছে।
গোপন ভোট। চামচা ভেবেছিল তার ১টা ভোট না দিলে কোন শালা জানবে কে দিছে না দিছে?
কিন্তু গামা মাত্র ১ ভোট পাওয়াতে হাতে নাতে ধরা পরে গেল চামচা। পালাচ্ছে চামচা। বিশাল দেহী গামা হন হন করে হাটছে .. ডাকছে চামচাকে উচ্চস্বরে, কোথায় তুই .... .. আর উদ্ভ্রান্তের মত এঘর থেকে ওঘর পালিয়ে বেড়াচ্ছে চামচা, রান্না ঘরে পালায়, বাক্সের নিচে লুকায় .. এই মুখ কিভাবে দেখাবে গামাকে ...

সিনেমাটি মনে পড়ল আজ খবরে আলোচিত ক বাবুনগরী পরাজিত হয়ে ২য়ও হতে পারেনি লাষ্ট পজিশন হয়েছে।
তার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৩।
কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার প্রধান হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফীর শুন্যপদে নির্বাচনে বাবুনগরির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মাওলানারাও গোপন ভোটে নেতাকে ভোট দেয়নি।
নিজের ভোট বাদে মাত্র ২টা ভোট।
সেই গামার সেই সহচরের মত চিহ্নিত হয়ে গেল অনেকেই। কি একটা অবস্থা।

সম্প্রতি হাটহাজারিতে জুনায়েদ বাবুনগরির নেতৃত্বে ৩ দিনব্যাপি নজিরবিহীন দাঙ্গাহাংগামা করে আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফীকে ৩ দিন খাদ্য পানীয় অসুধ বন্ধ অবরোধ করে জোড়পুর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে উচ্ছেদ, প্রকারন্তরে হত্যা করার পর। জুনায়েদ বাবুনগরি গ্যাং সব দখল ও নেতৃত্ব সুসংহত করে। কিন্তু পরে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে একটা অস্থিরতা চলছিল।

বেফাকের অধীনে ছয়টি কওমি স্তরে সারা দেশের ১৩ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে।
এসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। সম্প্রতি কওমি শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতি থাকায় এর গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ।
ফলে সঙ্গে কওমি আলেমদের যোগাযোগও বেড়েছে। বেড়েছে কর্তৃত্ব। এতোদিন হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফীর হাতে বেফাকের নিয়ন্ত্রণ ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পর বেফাকের মূল এই পদটিতে নতুন কাউকে বসানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল কওমি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে বেফাকের সভাপতি পদাধিকার বলে বাংলাদেশের কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআ’তুল উলয়ার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

এই হট নিউজটি বেশীরভাগ পত্রিকায় ছাপায় নি, বিবিসি বাংলা, মানবজমিনে নেই খবরটি। প্রথম আলোতে ছোট করে এসেছিল, এরপর লাপাত্তা।




সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২০ ভোর ৫:৩৭
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×