somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডেনমার্ক গ্রীনকার্ডঃ ১১১ দিনের পরবাস, স্বপ্নের সলিল সমাধি, অতঃপর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন – ৩

০২ রা মার্চ, ২০১২ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উপরে খোলা আকাশ, শূন্য, মহা শন্য, নিচে মেঘের ভেলা, মাঝে আমরা কয়েকজন মানুষ একটা লোহার খাঁচায় বন্দি হয়ে উড়ে চলছি পৃথিবী থেকে ৩৫০০০ ফুট উপর দিয়ে । আমাদের এই উড়ে চলার কারিগর কয়েকজন পাইলট, সাথে রয়েছে অপূর্ব সুন্দরি কয়েকজন বিমান বালা, যারা আমাদের সেবায় সর্বক্ষণ নিয়োজিত। সবাই রাশিয়ান, রাশিয়ান মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রশংসা না করলে অন্যায় হয়ে যাবে। এক মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় এক রাশিয়ান প্রতিযোগী তার সৌন্দর্যের জাদুতে প্রথম হতে না পারলেও ঐ প্রতিযোগিতার আয়জক কমিটির প্রধানের সুখের সংসারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল তার রুপের মায়াজালে, প্রেমের জাদুতে।

রাইট ভ্রাত্তিদয় যদি সেদিন স্বপ্ন না দেখত পাখির মত আকাশে উড়ার, আজ আমরা হয়ত সৃষ্টি কর্তার অসম্ভব সুন্দর এক সৃষ্টি দেখা থেকে বঞ্চিত হতাম। আকাশে থেকে আকাশ না দেখলে বুঝা যাবেনা আকাশের বিশালতা কত। শূন্যের মাঝে ও যে সৌন্দর্য থাকতে পারে এই ধারনাটাই আমার ছিল না। আকাশে থেকে পৃথিবীটাকে অনেক ছোট মনে হয়, সৃষ্টিকর্তা তো আরও অনেক উপরে, তার কাছে এই পৃথিবীটা কিছুইনা, আমাদের কাছে একটা সরিষা যেমন অতি ক্ষুদ্র, তার কাছে এই পৃথিবীটা মনে হয় তেমন। অবাক লাগে যখন ভাবি ছোট্ট এই পৃথিবীতে মানুষে মানুষে কত দ্বন্দ্ব, কত সংঘাত। সারা পৃথিবী জুড়ে চলছে দখলের খেলা। তারা কি ভাবেনা ছোট্ট এই পৃথিবী ছেড়ে তাদের ও একদিন চলে যেতে হবে অজানা দেশে। আজ ফেব্রুয়ারীর ৪ তারিখ। দিনের হিসেবে ২ দিন হয়ে গেল বাড়ি থেকে বের হয়েছি। বউ এর কথা খুব মনে পড়ছে। ইস, আমাদের যদি পাখা থাকতো, আমরা যদি পাখির মত উড়তে পারতাম, যদি শূন্যের মাঝে বসতি গড়তে পারতাম, ২ জনে মিলে সুখের সংসার গড়তে পারতাম। এসব ভাবতে ভাবতেই দেখি অনেক দূরে একটা পাখি উড়ে যাচ্ছে। এত উপরে পাখি আসলো কোথা থেকে, একটু পরেই পরিষ্কার হলো এটা পাখি না, আরেকটা বিমান যাচ্ছে। অদ্ভুত বেপার, এমনটা আগে কখন দেখিনি।

মস্কো এয়ারপোর্ট এ বিমান অবতরন করল, চারিদিক ধবধবে সাদা, বরফ পরেছে, দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। যখন ইউক্রেন ছিলাম তখন অনেকবার মস্কো আসতে চেয়েছিলাম, আসা হয়নি। এইবার ও এয়ারপোর্ট এর বাহিরে যাওয়া হবেনা, দেরঘন্টা পরেই ফ্লাইট। সময় খুব কম, তাই তাড়াহুড়ো করতেছিলাম, কিন্তু বাঁধ হয়ে দাড়াল সিকুরিটি চেকিং। বেল্ট থেকে শুরু করে পায়ের জুতা পর্যন্ত খুলতে হয়েছে এখানে। একটা মেয়ে বার বার বলার চেষ্টা করছে তার নেক্সট ফ্লাইট কিছুক্ষণ পরেই, তাকে তাড়াতাড়ি ছাড়তে হবে, কিন্তু তারা কোন কথাই শুনতেছেনা। মেয়েটার হাতে একটা বড় ব্যাগ ছিল, সেটা খুলতেই হবে। কি আর করা, যেমন কথা তেমন কাজ। বাহিরে এসে দাড়াতেই দেখি মেয়েটা আমার পাশে এসে দাঁড়াল, গেট নাম্বার ৭৯ খুজতেছে। আমি খুজতেছি গেট নাম্বার ৭৮। এত বড় এয়ারপোর্ট, কোথায় যে কোন গেট, খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিদেশিদের জন্য খুব বাজে অবস্থা, বেশিরভাগ সাইন রাশান ভাষায় লেখা, যেহেতু কিছুটা রাশান ভাষা জানি ইউক্রেন থাকার সুবাদ, আমার জন্য কাজটা সহজ হল।

মেয়েটাকে নিয়ে রিতিমত দৌড়াচ্ছি। অনেক বড় মস্কো এয়ারপোর্ট। মনে হয় ১০ টা ঢাকা এয়ারপোর্ট এর সমান হবে। ডিউটি ফ্রী শপের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, এরই ফাঁকে জেনে নিলাম মেয়েটা ইন্ডিয়ান, ইউক্রেন যাচ্ছে মেডিকেলে পড়তে। অনেক ইন্ডিয়ান আছে যারা দেশে সুযোগ পায়না, তাদের অনেকেই ইউক্রেনে মেডিকেলে পড়ে। যাই হোক, সময় মত মেয়েটাকে ৭৯ নাম্বার গেইটে পৌঁছে দিলাম। বিদায় নিলাম, জীবনে প্রথম এবং শেষ বারের মত। সিনেমা হলে হয়ত এই মেয়েটার সাথেই কোননা কোন ভাবে আবার দেখা হত, হয়ত আমি ইউক্রেন গেছি অথবা সে ডেনমার্ক এসেছে, নয়ত ফেসবুক এ দেখা, আবার এই এয়ারপোর্টে ও দেখা হয়ে যেতে পারত। কিন্তু বাস্তব জীবন তো আর সিনেমা না!

এবার ৭৮ নাম্বার গেইট এ গিয়ে বোর্ডিং পাস জমা দিলাম, আমাকে আমার পাসপোর্ট বের করতে বলল, পাসপোর্ট বের করে দিলাম, পাসপোর্ট দেখে তার সন্দেহ হল ভিসা জাল কিনা, মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে কোথায় যেন পাঠিয়ে দিল, একটু পড়ে টেলিফোনে কথা বলে সিওর হয়ে আমাকে ছেড়ে দিল। টেকনোলজি আমাদের কোথায় নিয়ে গেছে। কত সহজ হয়ে গেছে আমাদের জীবন। তা না হলে আমাকে আরও ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হত। অবশেষে স্বপ্নের দেশ ডেনমার্ক এর উদ্দেশে উড়াল দিলাম।

চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×