somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে মেয়েরা রোজ রাতে, বদলায় হাতে হাতে...

১২ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাশুড়ি গত হয়েছেন ৩ দিন হল। বউ ২০ দিনের একমাত্র মেয়েটাসহ তার বাবার বাড়িতেই আছে, তাই অফিসের কাজ শেষে যত রাতই হোকনা কেন একবার দেখা করে আসি শশুর বাড়িতে। আজ প্রচণ্ড বৃষ্টির কারনে একটু বেশী দেরি হয়ে গেছে। রাত প্রায় ১২ টা, গ্রীন রোডের বাসায় ফিরতেছি।

মতিঝিল থেকে ফার্মগেট এর বাসে উঠেছি, প্রায় খালি গাড়ি, জানালার পাশেই বসলাম। প্রেসক্লাব এসে বাস একটু থামল। বাহিরে চোখ পড়তেই দেখি হলুদ রঙের সালোয়ার কামিছ পড়া একটা মেয়ে যাত্রী ছাউনিতে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে, একটা লোক ঘুমিয়ে আছে, আর একটা মেয়ে লাল টকটকে শাড়ি পড়ে, কপালে বড় একটা টিপ দিয়ে, হাতে একটা ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে বসে আছে। বুঝতে দেড়ি হল না যে এরা সেই মেয়ে যারা প্রতি রাতেই হাত বদলায় সামান্য কিছু টাকার জন্য। প্রতি রাতে কত টাকাই আর আয় হয়, ৫০০-১০০০ টাকার বেশী নিশ্চয়ই হবেনা, সেখান থেকেও না জানি কত জনকে ভাগ দিতে হয়।

খুব কষ্ট হল,এমন বৃষ্টি ভেজা মাঝ রাতে, লাল পোশাকে একটা মেয়ে স্বপ্ন দেখে বাসর ঘড়ে ঢুকার, কিন্তু অভাব এদের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে ছারখার করে দিয়েছে। এরা আজ সমাজের অভিশাপ, এদের দেখলে আমাদের মত সুশীলদের ঘেন্না লাগে। কিন্তু আমরা একবার ও চেষ্টা করেছি তাদের বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টটাকে উপলব্ধি করতে?

গাড়িটা কারওয়ান বাজার পাড় হবার পরেই দেখলাম এক জোড়া কপোত-কপোতী একটা হোটেল এর গেট দিয়ে বেড় হচ্ছে। দেখে বেশ স্মার্ট মনে হল দুজনকেই, ধনীর দুলাল-দুলালি ও হতে পারে। হয়ত তারা আরও আগেই বের হত, বৃষ্টির কারনে আটকা পরেছিল। এই যে এত রাতে একটা মেয়ে বাড়ির বাহিরে, এদের নিশ্চয়ই টাকার প্রয়োজন নাই, কিন্তু তারপরেও আমরা কেউ কখনো বাঁকা আঙ্গুল তাদের দিকে তুলি না।

এবার ফার্মগেট এসে গাড়ি থেকে নেমে দেখি যাত্রী ছাউনিতে বসা ২ জন মেয়ে, একজন পুরুষের সাথে কথা বলছে, পুরুষটা হয়ত তাদের দালাল নয়ত খদ্দের হবে। আশে পাশে আরও ২/৩ জনকে দেখা জাচ্ছে। এরাও মনে হয় অপেক্ষা করছে শিকার ধড়ার। আমি হলের সামনে থেকে রিক্সা নিয়ে চলে আসলাম আর ভাবলাম রাতের ঢাকা কি তাহলে নিশি কন্যাদের দখলে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১:৪৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×