somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হিমু ( হিমালয়)
বাংলাদেশি.........nনিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি।nচিন্তা-ভাবনায় থাকে বাংলাদেশnপছন্দ করি রিকশায় চড়তে, আড্ডা দিতে,পড়তে,সিনেমা দেখতে। nইচ্ছা আছে কোন একদিন হিমালয়ের চূড়ায় উঠবো।

ছেলের জন্মদিন

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বহুদিন আগে নিভিয়া ক্রিমের একটা বিজ্ঞাপন ছিল এরকম: বাড়ির কর্তা নিজে নিভিয়া ক্রিম ব্যবহার করার পর পরিবারের আর যারা ব্যাবহার করে তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। কর্তা বলছে: এ আমার ছেলে, এ নিভিয়া ব্যবহার করে; এ আমার মেয়ে, এ-ও নিভিয়া ক্রিম ব্যবহার করে। এভাবে যেতে যেতে এক পর্যায়ে স্ত্রীর পালা আসলে বলে: এ-ও নিভিয়া ক্রিম ব্যবহার করে “এ্যান্ড শি ইজ মাই” বলে একটা পজ নেয়। তারপর “নেভার” বলে আরেকটা পজ নিয়ে কোনো ডায়লগ ছাড়া দৃশ্যে ঢুকে যায়। বিজ্ঞাপনের এ পর্যায়টি আমার খুব মজা লাগতো – নেভার।
তো এই নেভারের সাথেই আমাদের, মানে পুরুষদের ‘এভার’ জীবন কাটাতে হয়। ভালোয় কাটে, মন্দে কাটে, ছন্দে কাটে, দ্বন্দ্বে কাটে। তারপর এক পর্যায়ে এক বা একাধিক “যোগচিহ্ন” যোগ হয় – যাদের পরিচয় ছেলেপুলে। ওরা এই দ্বন্দ্বে-ছন্দে, ভালোয়-মন্দে যোগ ঘটায়। কখনও কখনও যোগাযোগও। কোনো ছেলেপুলের বাবাই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে, জীবনে একবারও তার স্ত্রীকে বলেনি: এই ময়না বা টিয়া, পারুল বা কামরুল (যোগ চিহ্নগুলি) না থাকলে কবে এই সংসার ছেড়ে বাউল বা রকস্টার হয়ে যেতাম!
আমাদের, মানে আমার মতো পুরুষদের বাউল, রকস্টার, ফিল্মস্টার কিছুই হওয়া হয় না। “হইলেও হইতে পারিতাম” – এমন “মনকলা” খেতে খেতেই দুইকুড়ি জীবন পার। কিন্তু ঐ যোগচিহ্ন বা চিহ্নগুলি তো ততোদিনে বালেগ হয় উঠে। তারা দেখে বাবা নামের লোকটা তো আসলে মুসোলিনির বংশধর, কৃপন, ঠগ এবং জালাতনকারি। এই লোকের জীবন দুটি শব্দে বাঁধা – ডু এবং ডোন্ট।
কথা কিন্তু ঠিক। আমি এবং আমার মতো অনেক পুরুষই আসলে “হ্যাপেন্ড টু বি এ ফাদার”। বাবা হওয়ার আগেই যে বাবা হওয়ার কথা ভাবতে হয়, প্রস্তুতি নিতে হয় – মানসিক, আর্থিক ও শারীরিক – আমরা জানতামই না। কেউ জানায়ও নাই। সোশাল বা পারিবারিক কাউন্সেলিং-এর বাহাদুরী তখন ছিল না। বাবা হতে শিখেছি নিজের বাবার কাছে। সেই বাবা ভালো না মন্দ তার বিচার যদি না-ও করি, উপযোগী যে না সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
এদিকে জীবনের এ গলি, ও গলি, খাল-খানা-খন্দ, জলাডোবা পার হয়ে নিজেকে যখন আবিষ্কার করি যে আমি তো “ভালো” বাবা না, তখন আর বেইল নাই। ভালো বাবা হওয়ার সময় পার। শুরু হয় অভিজোযন প্রক্রিয়া। ডেফিনিটলি বাবার পক্ষ থেকে। সেখানেও হ্যাপার শেষ নাই। এমবাপ্পে-গতির পরিবর্তনশীল সমাজে দাবার চাল চলে না। খুঁড়িয়ে, গড়িয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে তালে তাল মিলিয়ে হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সঙ হয়ে যেতে হয়।
ছেলেপুলেদের মা-এর কথা কিন্তু আলাদা। বাইরে থেকে শ্যাওলা-ময়লা যাই দেখা যাক না কেন, মা-এর সাথে ছেলেপুলেদের সম্পর্ক সুঠাম ও সুগঠিত। বাবার বা বাবাদের কপালে সেটা লিখা নাই।
এইটুকু পড়ে “গোইং টু বি ফাদার”গণ আবার হতাশ হয়ে পইড়েন না। মূল ঘটনা কিন্তু এতোটা হতাশাজনক না। এ যুগের ছেলেপুলে একটু বেশি বেশি একগুঁয়ে ঠিকই, কিন্তু সেটা অন্যকে আক্রান্ত করে না। এদের (বেশিরভাগের) মগজে মুসোলিনির কোনো জায়গা নাই। গ্রাম্যতা নাই। এরা (বেশিরভাগ) অসাম্প্রদায়িক। কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলায় না। প্রাণ ও প্রকৃতির প্রতি এদের মমতা অপরিসীম। কাউকে দেবজ্ঞান করে না, আবার বিদ্বেষও পুষে রাখে না। এরা সৃষ্টিশীল। দরদী। আত্মবিশ্বাসী ও উদার।
আজ আমার ছেলেটার জন্মদিন। ওর মতো উদার মনের ছেলে না থাকলে আমার নাম এতোদিনে খরচার খাতায় উঠে যেতো।
শুভ জন্মদিন ব্যাটা

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×