somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Always বাংলা use করুন: ভাষামিশ্রণ সম্পর্কে সহব্লগারদের সুচিন্তিত মতামত

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জাতিয়তাবাদের শুরু হয়েছিল ভাষাগত বিভেদ থেকেই। বাংলার সাথে বাঙালির যত আবেগ, যত ভালোবাসা, সেটি অন্য কোন ভাষার ক্ষেত্রে তেমনভাবে আছে কিনা জানা নেই। ব্লগে প্রকাশিত একটি লেখায় সহব্লগারদের অংশগ্রহণ আমাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছিল। তিন-চার বছর আগের কথা। অনেকেই সামু’র ব্লগার। তাদের মন্তব্য নিয়ে আজকের মন্তব্য সংকলন। লেখার শিরোনাম ছিলো: বাংলা ভাষায় অন্য ভাষার মিশ্রণ। প্রকাশিত হয়েছিলো শুরুতে প্রথম আলো ব্লগ অবশেষে সামুতে । লেখাটির শেষে আমি আরও কিছু দৃষ্টান্ত/পরামর্শ আহ্বান করেছিলাম, যেন ভাষামিশ্রণের বাস্তবিক কিছু নমুনা সংগ্রহ করা যায়। সহব্লগাররা আমার অনুরোধ রেখেছেন! তাদের মন্তব্যে যেমন পেয়েছি গভীর অন্তর্দৃষ্টি, তেমনই পেয়েছি নিজ ভাষার প্রতি আকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা। এ লেখায় তাদের মতামতগুলো তুলে না ধরলে হয়তো লেখাটি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। আমার লেখার প্রতি প্রশংসাসূচক মন্তব্য বা বাক্যাংশগুলো সংগত কারণেই বাদ রেখেছি।


১) ফেরদৌসা: এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কথায় কথায় বলে: কুল, গাই, ওয়াটস আপ। আমি ‘চান্স’পেয়ে বলি: একটু ‘বিজি’আছি, আই এম ব্যাক ইত্যাদি। প্র/আ

২) লুৎফুন নাহার জেসমিন: কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু-বউ আমাদের বাসায় বেড়াতে এলে দেখলাম বাচ্চাকে ইংরেজি শব্দ শেখানোর জন্য কীভাবে কথা বলছে। আমাদের কাছে তার একটি উক্তি খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো: ‘বেবি বেবি, ডারটি!’ আমার মেয়েও মাঝে মাঝে বলে আর হাসে। প্র/আ

৩) স্বদেশ হাসনাইন: ভাষা তো বই পড়ে শিখছে না। টিভিতে হিন্দি চলছে চব্বিশ ঘণ্টা, ইংরেজির আগ্রাসন তো গোটা পৃথিবী জুড়েই। প্রযুক্তিতে হাজারো যন্ত্র তাদের মত শব্দ শেখাচ্ছে। কলকাতায় হিন্দি বাংলার যে রকম মিক্স হচ্ছে তাতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। কোড মিক্সিং বলেন আর যাই বলেন, এটা থেকে পরিত্রানের চেয়ে একে গ্রহণযোগ্য একটা জায়গায় রাখা ইম্পোর্টেন্ট। সামু

৪) অনিন্দ্য অন্তর অপু: আমার মনে হয় নিজে সতর্ক হলে আর মাতৃভাষার ওপর মমত্ব থাকলে শুদ্ধ বাংলা চর্চা করা যায়। প্র/আ

৫) ইকথিয়ান্ডর: আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের একটা কথা মনে পড়ছে: “যে বাংলা জানে, সে বাংলায় সম্পূর্ণ বাক্য বলতে পারে, যে ইংরেজি জানে, সে সম্পূর্ণ বাক্যই ইংরেজিতে বলতে পারে। আর যারা কোনটাই জানে না, তাদেরই আশ্রয় নিতে হয় মিশ্রণের।” সামু

৬) গ্রাম্যবালিকা: আমি আমার গ্রামের কথা ১০০% পারি, কোন ইংরেজি বলতে হয় না, কিন্তু শুদ্ধ বাংলা পুরোপুরি পারিনা বলে ইংরেজী শব্দ বলতে হয়। সামু

৭) জনদরদী: আমি নিজেই বাংলার সাথে কিছু ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করি । বিশেষ করে প্রযু্ক্তির সাথে সম্পকিত শব্দগুলো । আমার বেশিরভাগ সময় ইংরেজির সমার্থক বাংলা শব্দ খুঁজে পেতে সমস্যা হয় । চেষ্টায় আছি সংশোধনের। সামু

৮) শহীদুল ইসলাম প্রামাণিক: (যথারীতি ছড়ায়) বাংলা ভাষার আন্দোলনে/ ইংলিশ বলে কত, এমন নেতা বাংলাদেশে/ আছে অনেক শত। তাই তো বলি, “বাংলা ভাষায়/ শুদ্ধ বাংলা চাই, বাংলার সাথে ইংলিশ বলা/ ‘লাইক’করি না তাই”।

৯) মনিরুল ইসলাম (মনির): এটা এখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে, যা থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। যেখানে বাংলিশ বলাটাকে আধুনিক-মনা বুঝানো হয়, সেখানে কি করার আছে? এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় মনে হয় নেই। তবে সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করে, তাহলে হয়ত হলেও হতে পারে।

১০) মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা: আরও কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। জাস্টিফাই, সবচেয়ে বেটার, প্লাস এর সাথে যোগ করা যায়, আসল ফ্যাক্ট, স্বাভাবিকলি, মন্ত্রী-মিনিস্টার, আপনি তো দারুণ এক পাবলিক! ফাস্টে আমি বলি... ইত্যাদি। যিনি ভালো বাংলা বলতে পারবেন, তিনি অন্য ভাষা সহজেই রপ্ত করতে পারবেন। প্রফেসর সিরাজুল ইসলামকে বাংলার সাথে ইংরেজি বলতে শুনি নি। অথচ তিনি সারাজীবন পড়ালেন ইংরেজি! অবাক লাগে। জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে ভালো করে নিজের ভাষার উপর দখল চাই। চাই বাংলা সংস্কৃতির প্রতি মমতা। নিজের ভাষাকে এড়িয়ে কোন জাতি উন্নতি করেছে কিনা আমার জানা নেই।

১১) মাটির ময়না: ডুড! জোস লিখেছেন। হায় বাঙালি!

১২) মুক্তমন৭৫: থ্যাংকস ব্রাদার। ইউ আর রিয়েলি জিনিয়াস। মাইরি কইলাম আপনে একটা চিজ! উই আর লুকিং ফর দ্য শত্রুজ।

১৩) ঘাস ফুল: আপনার লেখাটি পড়ে জীবনের লাইফটাকে বৃথা মনে হলো! প্রতিনিয়ত আমরা নিজের অজান্তেই কতো ইংরেজি হিন্দি শব্দ বাংলা ঢুকিয়ে দিয়ে অনর্গল নির্লজ্জের মতো কথা বলে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে আবার গর্ববোধও করি, যা কি না বেশরমের চূড়ান্ত। এর জন্য শুধু সাধারণ মানুষকে দায়ি করলে ব্যাপারটি আমার কাছে একতরফা মনে হয়। এর জন্য দায়ি অনেকেই। আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের সরকার, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা - কেউ তার দায় এড়াতে পারেন না। অন্যতম উদাহরণ হলো, আমাদের বিচার ব্যবস্থা। গণমাধ্যম বাংলা ভাষার প্রয়োগের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে কোন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে নি। আরও অনেক কারণ আছে। মন্তব্যের ঘরে সব বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে টুকটাক হিন্দি বা ইংরেজি বললেও নিজের ভাষার প্রতি সম্মান আর শ্রদ্ধা আজন্ম ভালোবাসার মতো অটুট থাকবে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’শুনার সাথে সাথেই এখনও মনের অজান্তে অশ্রু ঝরে।

১৪) নাজমুল হুদা: গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ঢাকা কলেজে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে-নামতে পেন্সিল-দিয়ে-লেখা দেয়ালের এই কথাগুলো নিয়ে আমরা খুব মজা করতাম, "Always বাংলা use করুন"।

১৫) মুরুব্বী: আজকের এই অবস্থা বা ভাষার প্রেক্ষাপট অথবা প্রচলিত প্রক্ষেপণ একদিনে তৈরী হয় নি। যা আপনি পোস্টে আলোচনা করেছেন। বাইরের কথা বলবো না, চুপিচুপি বাংলিশ উচ্চারণ আমার ঘরেও বসত নিয়েছে। আজ শুদ্ধ উচ্চারণ যেন বিলাসিতা। পরিচ্ছন্ন বাংলা আজও অনেকের দুর্ভেদ্য। জানি না কবে প্রমিত ভাষা ফিরে আসবে আমাদের জনজীবনে। তবু আশায় বুক বেঁধে রই। কিছুক্ষণ আগে শহীদ বেদী থেকে আমার সন্তানদের নিয়ে রিকশায় ফিরতে গল্পচ্ছলে যখন ‘একুশ’মানে বোঝাচ্ছিলাম, আমাদের বোঝা টেনে-নিয়ে-চলা-রিকশাচালক অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন: এ আমি কী বলি! বাড়ির গেটে নেমে অমিমাংসিত ভাড়া এক কথায় মেটাতে ভদ্রলোক মুগ্ধ চোখে তাকালেন। বললেন, ‘আমি পারি না আমার সন্তানদের এভাবে বোঝাতে।’ (শব্দনীড় ব্লগ)

১৬) নাজমুন নাহার: ভাষামিশ্রণের দৃষ্টান্তগুলো আসলেই মজার। কিন্তু সমস্যা হলো ভাষার এই যে মিশ্রণ - এটা হবে এবং হতে থাকবে। কতজন সতর্ক হতে পারে ভাষার এই ব্যবহারে? যেমন অফিস-আদালতে বাংলা বা ইংরেজি দু’টোই চলে। ইংরেজির ব্যবহার আভিজাত্যের প্রতীক বলে মনে করা হয় অফিসগুলোতে। তাই ইংরেজির ব্যবহার করতেই হবে, এরকম একটা অলিখিত ব্যাপার থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্র লেনদেনে বাংলা ব্যবহার করা যায়। করা হচ্ছে না! তবু ভাষায় পরিবর্তন হবেই। ১৮০০ সালের বাংলা অথবা ১৫০০ সালের দিকে বাংলা ভাষার যে অবস্থা ছিল, সে অবস্থা তো নেই এখন আর। এটা হয়েছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির সাথে আমাদের মিথষ্ক্রিয়তার ফলে। যেমন ‘টেবিল’এর শুদ্ধ বাংলা হলো ‘মেঝ’, চেয়ার হলো ‘কেদারা’।

এরকম আরও হাজার শব্দ বাংলা ভাষায় আছে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে বাংলা ভাষার শব্দ নয়। কিন্তু আমরা বাংলা ভাষায় ব্যবহার করছি অবলীলায়। তবে ভাষার এই যে মিশ্রণ, এটা সমাজের কিছু মানুষের - সকল মানুষের নয়। যেমন গ্রামবাংলার কোটি কোটি মানুষ এখনও ভাষার এই মেশামেশি বুঝে না বলে আমার ধারণা। কিন্তু ওখানে ভাষা পরিশুদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে আশার কথা হলো: বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হচ্ছে, এক্ষেত্রে ব্লগগুলোও ভূমিকা রাখছে। শব্দনীড়

১৭) সাঈদ মোহাম্মদ ভাই: লেখাটি ডেফিনিটলি চমৎকার। তবে আমড়া এখন র’এর ওপর ব্রেক মেরে কথা বলি: র হয়ে গেছে ড়। যারা বাংলিশ ভাষাকে একসেপ্ট কড়ছেন না তাড়া ভীষণ অন্যায় কড়ছেন। সবাই ড়াবিশ।

১৮) জুলিয়ান সিদ্দিকী: আমরা দিনরাত নানা সংস্কৃতির চিপাগলি দিয়ে অতিক্রম করি, আমাদের প্রতিটি দিন। এক্ষেত্রে খুব সচেতন না থাকলে মিশ্রণ থেকে বাঁচার উপায় নেই। কিন্তু কথা হলো: আমরা কতক্ষণ সচেতন থাকবো বা আশপাশের লোকজনকে কতটুকু সচেতন রাখতে চেষ্টা করবো।

১৯) ফরিদুল আলম সুমন: আমি বিবর্তনে বিশ্বাসী। বিবর্তনের মধ্যেই পৃথিবী টিকে আছে। আমাদের সংস্কৃতি, পোশাক, ভাষা, কৃষ্টিতে মৌলিকত্ব থাকা উচিত। তবে মৌলিকত্ব সবসময় ‘অতীব জরুরি’নয়। যে ভাষায় যত বেশি বিদেশী প্রচলিত শব্দকে ধারণ বা গ্রহণ করা হয়েছে, সে ভাষা তত বেশি সমৃদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণীয় হয়েছে। অতিমাত্রায় মৌলিকত্ব ধারণ করতে গিয়ে চাইনিজ ভাষা পৃথিবীবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিচারে মার খাচ্ছে। এতো মৌলিকত্বে বিশ্বাসী চাইনিজরাও এখন ‘সিমপ্লিফাইড চাইনিজ’নামে আধুনিক, সংক্ষিপ্ত ও সহজ চাইনিজ ভাষার প্রবর্তন করেছে। আমরা বিশুদ্ধ বাংলার চর্চা করবো ঠিকই, তবে সেই সাথে যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশী শব্দকেও ঠাঁই করে দিতে হবে। আমরা ‘কেদারায়’বসতে পারিনি বেশিদিন, ‘চেয়ারে’বসতে হচ্ছে। ‘সন্দেশ’পড়তে পড়তে আমরা কীভাবে যেন ‘পত্রিকা’বা ‘সংবাদপত্র’পড়তে শুরু করেছি বুঝতেই পারিনি। ‘পেয়ালায়’চা খেতে খেতে নিজের অজান্তেই এখন ‘কাপে’চা খাচ্ছি। ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে আমরা যে ‘আভিজাত্য’বোধ করি, সেটা খুব সহজে যাবেনা। তাই কোডমিক্সিং দূর করতে হলে এ ব্যাপারে ব্যাপক গণসচেতনতা দরকার। কোডসুইচিং খুব একটা মন্দ নয়। নিজের ভাষা ছাড়াও অন্য যে কোনো ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারাটা আমার কাছে স্মার্টনেস-ই মনে হয়। তবে স্থান-কাল-পাত্র তো অবশ্যই বিবেচ্য। বাংলা-হিন্দী-ইংরেজি মিশিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের কাছে প্রশ্ন রাখা যেতে পারে: ‘আপনি কি উল্লিখিত যে কোনো একটি ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারেন? যদি না পারেন, তাহলে তো আপনার একূল ওকূল দু’কুলই গেলো।



এবার একটু অন্য কথায় আসি। সামহোয়্যারইন ব্লগের জনপ্রিয় গল্পকার এবং রম্যলেখক আবুহেনা মো: আশরাফুল ইসলাম ফেইসবুক মারফত আমাকে পরামর্শ দিলেন, যেন ভাষার মিশ্রণ নিয়ে এবার কিছু একটা লেখি। এবার দেখুন তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তিনি কী লিখলেন এবং সামু'র ব্লগাররা তাতে কী উত্তর দিলেন:

আবুহেনা মো: আশরাফুল ইসলামের ফেইসবুক স্ট্যাটাস/ ৪ ফেব্রুয়ারি:
একজনকে দেখলাম ফেসবুকের বাংলা করেছে 'মুখবই'। কবি নির্মলেন্দু গুন মোবাইল ফোনের বাংলা করেছিলেন 'মুঠোফোন'। আক্ষরিক অনুবাদ না হলেও এটা ঠিকই আছে। শুনতেও শ্রুতিমধুর। কিন্তু মুখবই শব্দটি আমার কাছে ভালো লাগছে না। তারচেয়ে বরং ফেসবুকের বাংলা ফেসবুক-ই থাক। যেমন কম্পিউটারের বাংলা কম্পিউটার, ওয়েবসাইটের বাংলা ওয়েবসাইট ইত্যাদি ইতিমধ্যেই বাংলায় বহুল প্রচলিত হয়ে গেছে। এগুলোর বাংলা করতে গেলে না বুঝবে বাঙালি, না বুঝবে অবাঙালি। উচ্চারণ করতে গেলে দুর্বল দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। এরকম কত ইংরেজি শব্দই তো বাংলা ভাষায় আত্মিকৃত হয়ে গেছে। তাতে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি ছাড়া কোন ক্ষতি তো হয়নি। ভাষা আন্দোলনের মাস বলে সব কিছুর নামই বাংলায় রাখতে হবে, এমন দিব্যি কে দিয়েছে? আপনারা কী বলেন?

স্ট্যাটাসে বন্ধুদের/ব্লগারদের উত্তর:

শাহ আজিজ: এরকম করতে করতে operation searchlight এর কি করুন অনুবাদ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রার্থী। কিছু শব্দকে বাংলায় আত্তীকরণ অতিআবশ্যিক কারন এর বিকল্প নেই।

মেজদা (কোহিনূর): সত্যি কথা ৷ যেমন হরলিক্সের কোন বাংলা প্রতিশব্দ নাই ৷
-শাহআজিজ: লাক্স এর নাই , ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির নাই
-গোলাম মোস্তফা: এখানে হরলিক্স কেমনে আইলো?
-শাহআজিজ: বাজার থেকে এসেছে। (এরপর অনেকের বাক্য বিনিময়...)

মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা: দারুণ আলোচনা। পড়ে আসবো। মইনুল ভাই কী বলেন দেখি।
-মাঈনউদ্দিন মইনুল: কোন কথা হবে না। আবুহেনা ভাইয়ের পক্ষে ভোট চেয়ে এবার আমরা মাঠে নামতে পারি, বাবলা ভাই।

আহমেদ রব্বানী: বাংলাভাষায় অনেক বিদেশি শব্দ এসে স্বকীয় স্থান লাভ করেছে। এতে তো কোনো সমস্যা নেই। ফেসবুক, ডিজিটাল, মোবাইলসহ সময়ের প্রয়োজনে আরো শব্দ বরং বাংলাভাষার শ্রীবৃদ্ধিই করবে। চমৎকার একটি বিষয়কে সামনে আনবার জন্যে ধন্যবাদ প্রিয় হেনা ভাইকে।

মাঈনউদ্দিন মইনুল: কথায় যুক্তি আছে... আবুহেনা ভাই!!! খুব সতর্কভাবে দেখলাম কেউ বিরোধিতা করেন কিনা... করলে ভাষার মাসে আবার আরেকটা বায়ান্নো ঘটিয়ে দিতাম!




আমি একাধিক জায়গায় লেখেছি যে, ভাষা বহমান নদীর মতো। এর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন অনিবার্য। এর কোনকিছুই চূড়ান্ত নয়। ব্যকরণ, অভিধান সবকিছুই পরিবর্তনশীল। ভাষার ব্যবহাকারীরাই নির্ধারণ করবে এর গতিপথ। ভাষাবিদেরা কেবলই এসব ঘটনাকে বিধিবদ্ধ করবেন।

কিন্তু আশংকা হলো সেই ভাষাভাষীদেরকে নিয়ে, যারা প্রযুক্তির প্রভাবে ভাষার যথেচ্ছাচার করছেন। সেটি হয়তো বাংলা ভাষার স্বাভাবিক অগ্রগতি বা গতিপথকে বিপথে নিয়ে যেতে পারে। যেসব ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন, সেসবের অনুগামী হতে পারে।

মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম করা এবং জীবন দিয়ে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করা - এটি একান্তই বাঙালির গৌরব। বায়ান্নো আমাদের, একুশ আমাদের। পৃথিবী থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ব্যবহৃত ভাষাগুলো ইংরেজি, ফরাসী, চিনা, জার্মানি ইত্যাদি প্রভাবশালী ভাষার দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ভাষাবিদেরা করছেন হাহাকার। তারা দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন বাঙালির, বাংলাদেশের; কারণ ভাষার জন্য নিজের প্রাণ দেবার দৃষ্টান্ত আমাদেরই। সেই আমরা যদি নিজ ভাষা ছেড়ে অন্য ভাষার প্রতি আসক্তি হই, নিজের ভাষায় অযাচিতভাবে বিদেশি ভাষার মিশ্রণ দেই, তবে আমরাই আমাদের গৌরবকে কলঙ্কিত করি।

ভাষা আন্দোলনে অর্জিত মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা পৃথিবীর মানুষের কাছে একটি বিশেষ স্থান লাভ করে আছে। সেই বাংলা ভাষার নিজস্ব কোন স্বকীয়তা অবশিষ্ট থাকবে কিনা, এখন সেটি ভাবনার বিষয়।

মহান একুশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সকল ভাষা শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।




-------------
যে লেখাটি নিয়ে উপরোক্ত মন্তব্য/প্রতিমন্তব্য: বাংলা ভাষায় অন্য ভাষার মিশ্রণ
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:১৭
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১৮)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:৪১



আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১৭)

বসন্ত নাহি এ ধরায় আর আগের মতো
জ্যোৎস্নাযামিনী যৌবনহারা জীবনহত
আর বুঝি কেহ বাজায়না বীণা
কে জানে কাননে ফুল ফোটে কিনা

দেশ স্বাধীন হলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার স্বপ্ন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৪




১। সোমাবার রাতের ঘটনা।
রাত ১১ টায় বিছানায় গেলাম। ঠিক করলাম আজ ঘুম না এলেও চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকব। ঘুমের দরকার আছে- সুন্দর এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসসালামু আলাইকুম। কারও বিরক্তি উদ্রেক করলে ক্ষমা প্রার্থী

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৫



ম্যায় আপনে ঘর মে হী আজনবী হো গয়্যা হু আকর
মুঝে ইয়া দেখকর, মেরি রুহ ডর গয়্যি হ্যায়
সহমকে সব আরজু কোনে মে যা ছুপী হ্যায়
লবে বুঝা দি আপনে চেহেরো কি হসরতোনে
কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্রাউড অভ তুরিন অথবা যীশুর কাফন (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩



সন্ধ্যা তখন ঘনিয়ে এসেছে, সেদিন ছিল প্রস্ততির দিন অর্থ্যাৎ সাব্বাথের দিনের আগের দিন। সে জন্য আরিম্যাথিয়া নিবাসী জোসেফ সেখানে এলেন। ইনি ছিলেন ধর্ম সভার একজন সন্মানিত সদস্য। তিনি ঐশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডে- ২০১৯

লিখেছেন শায়মা, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৮


"ব্লগ ডে" এ দু'টি শব্দ মনে পড়লে আমার চোখে ভাসে কৌশিকভাইয়ার অসাধারণ কন্ঠে উপস্থাপনার ছবিটি। চোখে ভাসে জানা আপুর ছিপছিপে শাড়ি পরা চেহারাটা। চোখে ভাসে প্রায় তুষার কন্যা টাইপ ধপধপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×