somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

City University : একজন আরিফ স্যার এবং তার মহানুভবতা

০১ লা এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটি অনেক মেধাবী ছাত্র । ভার্সিটির অন্যতম মেধাবী ছাত্র সে । রেজাল্ট বরাবরের মতই ভালো । কিন্তু ছোট্ট একটি দুর্ঘটনা তার জীবন চলার পথকে অমসৃণ করে দিয়েছে ।

ছেলেটির চিন্তার শেষ নেই। রাতে ঘুমাতে পারছেনা । কোত্থেকে মিলবে এতগুলো টাকা ? তার যে ২৫০০০টাকা প্রয়োজন ! সামনে ফল-২০১৫ সেমিষ্টার এর ফাইনাল পরীক্ষা। সেমিষ্টারের পুরো টাকাই যে এখনো বাকী ! তাহলে সেমিষ্টারটি কি এবার ড্রপ যাবে ? এই চিন্তায় ছেলেটির সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে গেছে ।

বাড়ি গেল টাকা যোগাড় করার জন্য । আত্মীয় স্বজন অনেকের কাছেই টাকা চেয়েছিল কিন্তু কেউই দেয়নি । উল্টো তিরস্কার করল এই বলে যে " গরীব পোলাপাইনের লেখাপড়া কিসের ? তোমার বাবার কি নিজস্ব জমি আছে যে তোমাকে তা বিক্রি করে পড়াবে ! আমরা তোমাকে কোন টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারবোনা আর টাকা দিলে তা তুমি পরিশোধ করবে কোত্থেকে !" এইসব কথা শুনে ছেলেটি শুধু নিরবে চোখের পানি ফেলল আর মনে মনে আল্লাহকে অভিমানী সুরে বলল " হে আল্লাহ তুমি আমাকে গরীবের ঘরে আর ভাল ছাত্র হিসেবে কেন পাঠালে ?"
পরের দিন গরীব বাবা-মায়ের সাথে অনেকটা অভিমান করেই বাড়ি থেকে ভার্সিটিতে চলে আসল ।

অনেক চিন্তা ভাবনা শেষে অবশেষে ছেলেটি সিদ্ধান্ত নিল তার এই দুর্দশার কথা একজনের কাছে শেয়ার করবে ।

আর সেই একজন ব্যক্তিটি ছিল ছেলেটির স্বীয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কো- অর্ডিনেটর জনাব আরিফুজ্জামান স্যার।
পরের দিন ছেলেটি তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরিফ স্যারের কাছে সবকিছু খুলে বলল ।আরিফ স্যার শুধু এই কথাটিই বলল যে " আমি দেখছি কিছু করতে পারি কিনা "
কয়েকদিন পর আরিফ স্যার ছেলেটিকে ভার্সিটির এক বড় ভাইয়ের মোবাইল নাম্বার দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলল । ছেলেটি বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করলে তাকে ১০০০০টাকা দেয় কিন্তু তার যে আরো ১৫০০০টাকা প্রয়োজন কেননা সেমিষ্টার ফি বাবদ তার মোট ২৫০০০টাকা প্রয়োজন ছিল ।
আবারো চিন্তায় পড়ে গেল ছেলেটি। বাকী টাকা ????????????????????

ছেলেটির নাম নাছির ।

আরিফ স্যারকে আবার ধর্না দিল নাছির । আরিফ স্যার নিজের পকেট থেকে ১৪০০০টাকা দিয়ে বলল "টাকাটা জমা দিয়ে প্রবেশপত্র নিয়ে বাসাও যাও আর ভালভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও আর পরীক্ষার পরে দেখা কর ".।.।.।।।

এই সেই আরিফ স্যার যার ব্যক্তিত্ব যে কাউকে মোহিত করবে । ধর্মে কর্মে সব কিছুতেই যেন তার সামিয়ানা !পড়নে পায়জামা আর পাঞ্জাবি আর মাথায় একটা টুপি ! এই তার চলন । মুখে মুচকি হাসিটা সবসময় যেন লেগেই থাকে ! ডিপার্টমেন্টের সকল শিক্ষক থেকে শুরু করে সকল ছাত্র-ছাত্রীর কাছে সমান ভাবে জনপ্রিয় তিনি । তার কথায় শুধু মায়া থাকে আর মিষ্টি দিয়ে তা পরিপূর্ণ !

তিনি যে মহানুভব ব্যক্তিত্বসম্পন্নের মানুষ তা নাছিরের ঘটনা থেকেই জানা যায় ।

নাছির আরিফ স্যারের দেয়া টাকাটা এখনো শোধ করতে পারেনি কারণ তার কাছে কোন টাকা নেই । কিন্তু নাছির একটা বিষয় উপলব্ধি করতে পেরেছে যে হয়তোবা কোন এক সময় আরিফ স্যারের দেয়া অংকের ১৪০০০ টাকা শোধ করে দিবে কিন্তু আরিফ স্যারের মহানুভবতার ১৪০০০টাকার ঋণ কিভাবে শোধ করবে সে ???????????????

আরিফ স্যার যদি ঠিক সময়ে নাছিরকে সাহায্য না করত তাহলে তার সেমিষ্টারটিই ড্রপ পড়ে যেত। এটা তার সেই অমূল্য সাহায্য যা মহানুভবতাকেও হার মানিয়েছে ।

সদা হাস্যোজ্জ্বল এই আরিফ স্যার নাছিরের সব কিছুতেই স্থান করে নিয়েছে । তার সবকিছুই যেন আরিফ স্যারের দেয়া আশির্বাদ নামক ফল ।

নাছির ফল-২০১৫ সেমিষ্টারে সিজিপিএ-৪ পেয়েছে । নাছির বিশ্বাস করে যে তার এই রেজাল্টের সম্পুর্ণ কৃতিত্ব শুধুমাত্র আরিফ স্যার এবং ভার্সিটির ঐ বড় ভাইয়ের পাওনা ।

ভার্সিটি লাইফের শুরু থেকেই আরিফ স্যারের সাথে নাছিরের সম্পর্ক ভালো । নাছির তার সকল সমস্যা আরিফ স্যারকে শেয়ার করে । আর নাছির আরিফ স্যারের প্রিয় ছাত্র কিনা জানিনা তবে নাছিরের সকল সমস্যা সমাধানে সাহায্যের হাতটা সামনে বাড়িয়ে দেন ।

এই হচ্ছে কোন এক ভার্সিটি শিক্ষকের মহানুভবতার গল্প যা বাস্তবকে হার মানায় । এহেন শিক্ষক বর্তমানে খুবই দুর্লভ কিন্তু আরিফ স্যার এই দুর্লভ ব্যক্তিদের মাঝে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন এবং নাছিরদের মাঝে স্বমহিমায় তারকা হিসেবে জ্বলজ্বল করছেন ।


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৭
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×