ফিরে এসেছে, আলসেগুলো। এসেছে ফিরে কিছু পুরনো মুখ; ফাজিগুলো হঠাৎ হঠাৎ নোটিশজারী ছাড়া হাওয়া হয়ে যায়। রতন জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়ে, গা গোছল না করেই হাজির! জামিল বরিশাল থেকে তিনদিন আগে ঢাকায় ল্যান্ড করেছে, মিন্টু কোথায় ছিল, তা কেউ জানেনা। সৈকত/সোহেল পরীার চাপ কাটিয়ে দলে ভিড়েছে।
তাই, জমে উঠেছে ঝিমিয়ে যাওয়া রাতের আড্ডাটা। ছাদে শিয়ালীয় স্টাইলে চলে গান যন্ত্রণা। যার ভেতরে যা ক্রোধ, তা ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা চলে। মাঝে মাঝে 1400টাকা জলে ফেলে ওরা গরম জল নিয়ে আসে। পুরনো সংকল্পটা এখন আর তেমন জোরালো নেই; আমি মিশে যাই সহজেই। খসখসে কণ্ঠে চলে উত্তপ্ত আলাপন। রতন পুলিশকে ঠোলার বদলে ঠেলাগাড়ি'র বাচচা বলেছে; সেটা শুনে চলছে গড়িয়ে গড়িয়ে অট্টহাসি; কেউ হাসতে হাসতে আবার কেঁদেও ফেলছে। মিন্টু কাকে যেন গিটার দিয়ে বাড়ি মারতে যাচ্ছে। সঞ্জয় যাচ্ছে কাটা চামচ দিয়ে সৈকতকে খুন করতে। বাকীরা বেশ ভাব নিয়ে রেলিং এ পা ঝুলিয়ে বসে। অদ্ভুত সব কিছু। সবকিছুকে সাধারন দৃষ্টিভঙ্গীতে মাপার চেষ্টা চলে ভেতরে। সফলতা আসেনা। অর্থহীন মনে হয়; সবকিছু। অপার্থিব লাগে, এদিক সেদিক লুটিয়ে পড়া কাছাকাছির মানুষগুলোকে।
তারা গন্তব্যে ফিরে যায়। রেলিং এ শুয়ে থাকা; আবার একাকিত্ব! চোখ জ্বালা করে। খসখসে গলা। একটা ভুলে যাওয়া গান হঠাৎ মনে ভাসে। গাওয়ার চেষ্টা চলে। একটুও শব্দ বের হলো না। ঠোট শুকিয়ে আছে। মাথার এক পাশ ধবধব করছে। বুকটা থেকে থেকে কেঁপে ওঠছে। মনের ভেতর রাজ্যের বিষাদ। ঘেমে একাকার। ওরা চলে যাবার পর কিছুটা স্বস্তি লাগছে। দনিা বাতাসকে স্বগর্ীয় মনে হচ্ছে।
মধ্যরাতের ঝামেলাটা আবার ফিরে এসেছে। ফোনে কথা বলতে একদম ইচ্ছা করেনা। ফোন রিসিভ করা কিংবা রিসিভার উঠিয়ে রাখার ঝামেলাটা যন্ত্রণাদায়ক। ফোন বেজে চলেছে বিরামহীন। এটুকু পথ পাড়ি দিয়ে ফোন রিসিভ? অসম্ভব।
*** রাখালীয় বানী ঃ 'মধ্যরাতের রাখাল'ীয় কর্মকান্ড নকল/অনুকরন করা থেকে বিরত থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



