somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আস্তিকদের কিছু কমন প্রশ্ন

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাস্তিক শব্দটা ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করি। এর বদলে না-ধর্মী শব্দটা ব্যবহারে স্বস্তি পাই। কারণ নাস্তিক শব্দের ভিতরে সর্বশক্তিমান একজনের অস্তিত্ত প্রচ্ছন্নভাবে হলেও স্বীকার করে নেবার একটা ব্যাপার চলে আসে।

না-ধর্মীদের প্রসঙ্গ আসলেই আস্তিকদের মনের ভিতর সাধারণ কিছু প্রশ্ন উদয় হয়। যার উত্তর তারা নিজেরাও একটু ভাবলেই পেয়ে যান। কিন্তু সেটা না করে তারা না-ধর্মীদেরকেই সেই প্রশ্নগুলো করেন। তারা হয়ত ভাবেন এগুলো খুবই সুচিন্তিত প্রশ্ন এবং এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না-ধর্মীরা দিতে পারবেন না।

যদিও আমার ব্লগ বয়স খুবই কম তবুও বারংবার একই ধাঁচের প্রশ্ন দেখতে দেখতে কিছু উত্তর লেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
--প্রশ্ন ১:- না-ধর্মীদের নৈতিকতার ভিত্তি কি হবে সেটা আস্তিকদের প্রথম প্রশ্ন। এই প্রশ্নটাকে আর দৃঢ় করবার জন্য তারা মা-বোনের সাথে সহবাসের প্রসঙ্গও নিয়ে আসেন।

>> আস্তিকদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই প্রসঙ্গটা আপনাদের কাছে যেমন অশালীন মনে হয়, না-ধর্মী কার জন্যেও তেমনই অশালীন। বরং বোনের সাথে সহবাসের প্রমাণ কিন্তু দেখা যায় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের পাতায়। যদিও তাকে পরবর্তীতে ধর্মগ্রন্থেই সংশোধন করা হয়েছে, এই বলে যে সময়ের প্রয়োজনে এটা করা হয়েছিল।
না-ধর্মীর নৈতিকতার ভিত্তি মূলতঃ তাদের চিন্তার মুক্ত জানালাটা। যেই জানালা দিয়ে দেখে একজন না-ধর্মী ধর্মগ্রন্থের পাতায় লেখা তথাকথিত নৈতিকতার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নৈতিকতায় সংশোধন আনতে পারে।
একজন ধার্মিকেরই ধর্মগ্রন্থে থাকা নৈতিকতার বিপক্ষে গিয়ে তাতে সংশোধন আনার দু’টো উদাহরণ দেই-
ক) সনাতন ধর্মে বিয়ের নিয়ম প্রচলিত ছিল না। তখন যে কেউ যে কোনো নারীকে ভোগ করতে পারত। এটাই স্বাভাবিক ছিল। উদ্বালকের ছেলে শ্বেতকেতু সেই নৈতিকতার পরিবর্তন করে বিয়ের নিয়ম প্রচলন করে।
খ) ইসলামে একাধিক বিয়ে করা বা দাসীদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করা অনৈতিক নয়। কিন্তু বর্তমান নৈতিকতার বিচারে সেটা কয়জন স্থাপন করে?

একটা সম্পুরক তথ্যঃ- বেসিক নৈতিকতা বাদে অন্যান্য নৈতিক শিক্ষাগুলো সমাজ ভেদে ভিন্ন হয়।

--প্রশ্ন ২:- না-ধর্মীদের বিয়ে প্রসঙ্গ। আদৌ বিয়ে করবে কি না? বা করলে সেটা কি নিয়মে হবে?

>> না-ধর্মীরা (আমাদের দেশের) বিয়ে করতে ইচ্ছুক। কারণ আমাদের সামাজিক আচরনে বিবাহ বহির্ভুত একসাথে বসবাস অনৈতিক।
না-ধর্মীদের বিয়ের জন্যে আমাদের দেশে কোন রকম আইনী উপায় না থাকার কারণে ব্যবহৃত নিয়মটা বাধ্য হয়ে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তার প্রাথমিক ধর্মের নিয়মেই পালন করতে হয়। কিন্তু হবু না-ধর্মী স্বামী-স্ত্রীর প্রাথমিক ধর্ম যদি ভিন্ন ভিন্ন হয় তাহলে তাদের জন্য কোর্ট-ম্যারেজের একটা ব্যাবস্থা রয়েছে।

সম্পুরক দাবীঃ- সরকারী ভাবে না-ধর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

--প্রশ্ন ৩:- মৃত্যুর পর না-ধর্মীদের শরীরের কি করা হবে? দাফন করা হবে না পুড়িয়ে ফেলা হবে না ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হবে?

>> এক্ষেত্রে সবচাইতে সহজ সমাধান হলো দেহটাকে মানব কল্যাণের কাজে দান করে যাওয়া। সেটা হতে পারে কোনো মেডিক্যাল কলেজে দান করে যাওয়া। বা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা আলাদা ভাবে দান করে যাওয়া।

--প্রশ্ন ৪:- না-ধর্মীতা মানেই কি ইসলামের বিরোধিতা করা? অন্য ধর্ম নিয়ে না-ধর্মীরা লেখে না কেন? এই প্রশ্নটা আসলে এই ব্লগেই বেশি করা হয়ে থাকে।

>> একটু চিন্তা করে দেখেন, এই খানে যে না-ধর্মীরা লেখালেখি করে তাদের বেশিরভাগেরই প্রাথমিক ধর্ম ছিল ইসলাম। এই ইসলামিক পরিমন্ডল থেকে বের হয়ে আসার সময় তাদের প্রাথমিক অবিশ্বাসের শুরু ইসলামিক বিশ্বাসকে রিফিউট করার মাধ্যমে। যার দরূন স্বাভাবিকভাবেই তাদের পড়াশোনাও এই বিষয়ে। অন্যান্য ধর্মের বিপক্ষেও তাদের পড়াশোনা রয়েছে। এছাড়া ইসলাম ভিন্ন অন্য ধর্মের রিফিউট করে অনেক মুসলিম নিজস্বঃ আস্তিকতার আঙ্গিক থেকে বিভিন্ন পোস্ট করেন। অতএব না-ধর্মীদের ঐ সংক্রান্ত পোস্ট দেবার দরকার আসলে তেমন ভাবে প্রয়োজন পড়েনা। সর্বশেষ যে কারণে না-ধর্মীরা ইসলামের বিরুদ্ধাচারণ করে পোস্ট দেন সেটা হল ইসলামিক জঙ্গীবাদের উত্থান। অনেক জঙ্গীবাদী দলের মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন ভাবে আস্তিকদের নিজের দলে ভিড়িয়ে জঙ্গীবাদ কায়েম করা। না-ধর্মীরা মূলতঃ শান্তিকামী। যার জন্য এই ইসলামিক জঙ্গীবাদের উত্থান বন্ধ করবার লক্ষ্যেই ইসলামের বিভিন্ন সমস্যা উল্লেখ করে পোস্ট আসে যাতে আপনার অন্ধভাবে আগুনে ঝাঁপিয়ে না পড়েন।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

ধন্যবাদ সবাইকে কস্ট করে লেখাটা পড়বার জন্য। আশাকরি ভবিষ্যতে না-ধর্মীদের সম্পর্কে নতুন করে এই প্রশ্নগুলো আর দেখতে হবে না।
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×