নাসির উদ্দিন: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছেন বলে জল্পনাকল্পনা রয়েছে। সূত্রমতে, জাতীয় সরকারের যৌক্তিকতা সৃষ্টির জন্য তারা দুই প্রধান রাজনৈতিক জোট ও দলের মধ্যে বিরোধ জিইয়ে রাখতে কৌশলে নিজ ঘরানার বিপক্ষে অবস্থান এবং প্রধান উপদেষ্টাকে বিতর্কিত করে তুলতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সূত্রটি জানায়, দায়িত্ব বণ্টনের পর থেকেই 10 উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার ওপর ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড নিয়ে এ ক্ষোভ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এ সময়ে উপদেষ্টামণ্ডলীর এক প্রবীণ সদস্যের নেতৃত্বে উপদেষ্টাদের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টি হয়। প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর এক উপদেষ্টা নিজেই প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার তৎপরতা শুরু করেন। ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কয়েকজন উপদেষ্টা জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। উপদেষ্টারা দুটি পৃথক দলের তালিকা থেকে মনোনীত হলেও পরে তারা তাদের নিজ ঘরানার বিপক্ষে মতামত দেয়া শুরু করেন। যেমন '14 দলের কোনো দাবি মানা হয়নি', 'এখনো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি' এবং 'তফসিল সম্পর্কে কিছুই জানি না'_ এ জাতীয় বক্তব্য প্রদানকারী উপদেষ্টারা বিএনপি ঘরানার হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে আওয়ামী ঘরানার উপদেষ্টারা বলছেন 'আমরা চেষ্টা করছি, পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে' এবং 'আশা করছি সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে'।
সূত্রটি জানায়, এ উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্য দুই পক্ষকে আরো বেশি সংঘাতে ঠেলে দিয়ে তৃতীয় শক্তি বা জাতীয় সরকারের ধারণাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। উপদেষ্টাদের এ কৌশলের বাস্তব প্রতিফলনও ঘটেছে রাজনীতিতে। এখন বিএনপি ঘরানার উপদেষ্টাদের বক্তব্য থেকে 14 দল আন্দোলনের যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে এবং মাঠে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক সরকারি জোটও একই কায়দায় তাদের কৌশলী ভূমিকার পক্ষে যুক্তি পাচ্ছে। ফলে দুপক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান আরো কঠোর হচ্ছে। উপদেষ্টারাও নিজেদেরকে প্রতিপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
সূত্রমতে, দেশের সুশীল সমাজের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ দুই বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছিল। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনার ও গোলটেবিল আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়েছে। যুক্তফ্রন্ট নেতা কাদের সিদ্দিকী ও আসম আব্দুর রব এখন প্রকাশ্যেই জাতীয় সরকারের কথা বলছেন। সেনাবাহিনীর একাধিক সাবেক কর্মকর্তাও এ ধারণাকে জাতীয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন। অনেকের মতে, সম্প্রতি এ ধারাটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছেন ঐ উপদেষ্টারা।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সদস্য এবং সাবেক এক সাংসদ আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচন হচ্ছে না। অন্য একটি শক্তি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। তারা চেষ্টা করছে তৃতীয় একটি শক্তি সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের। এ শক্তির সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রান্তও জড়িত রয়েছে বলে তারা মনে করেন। সম্পাদনা: আসাদুজ্জামান
সুত্র : আমাদের সময়
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


